হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদ

কলাতলী মেরিন ড্রাইভে আপদকালীন সড়ক তৈরি

আহমদ গিয়াস :
সংস্কারের কারণে কক্সবাজার পৌরসভার একটি সড়ক বন্ধ থাকায় শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সৈকতের বিকল্প পথেই’ ফের সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। প্রায় ২ দশক আগে সামুদ্রিক ভাঙনে তলিয়ে যাওয়া কলাতলী মেরিন ড্রাইভের পাশ দিয়েই আপদকালীন এ সড়কটি তৈরি করছে সেনাবাহিনীর ১৬, প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনীর নিয়োজিত শ্রমিকরা সৈকতে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রবেশ মুখ ও পূর্বের বিধ্বস্ত মেরিন ড্রাইভের বেইলি হ্যাচারি পয়েন্টে সেনাবাহিনীর নিয়োজিত শ্রমিকরা ট্রাকে করে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আপাতত ১২ ফুট চওড়া একটি কাঁচা সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে সড়ক নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে বা মেরিন ড্রাইভ সচল করা যাবে তা সেনাবাহিনী এই মুহুর্তে নিশ্চিত নয়। সৈকতে রাস্তা তৈরির পর সামুদ্রিক জোয়ারের প্রতিক্রিয়া দেখেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী সূত্র।
১৬, ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ সালেহ জানান, তারা যতদ্রæত সম্ভব যান চলাচলের মতো একটি আপদকালীন রাস্তা তৈরি করতে চান। পাশাপাশি প্রায় দুই দশক আগের বিধ্বস্ত মেরিন ড্রাইভটিও পূননির্মাণের জন্য সরকারের উচ্চ মহলে চিন্তাভাবনা চলছে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের ৬ মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে ১৯৯১-৯২ সালে সড়ক প্রকল্পটি গ্রহণের পর তখন থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হয় মেরিন ড্রাইভের। কিন্তু মেরিন ড্রাইভের স্টার্টিং পয়েন্ট কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে বেইলি হ্যাচারি মোড় পর্যন্ত প্রায় ১২শ মিটার দীর্ঘ সড়ক বিগত ২০০০ সালে সামুদ্রিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৫-০৬ সালে কলাতলী গ্রামের ১.৩ কি.মি দীর্ঘ সংকীর্ণ সড়কটিকে সামান্য প্রশস্ত করে মেরিন ড্রাইভের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এ সড়কটিতে রাস্তার পাশ্ববর্তী নালা বন্ধ করে দিয়ে গড়ে তোলা হয় একের পর এক ভবন। ফলে পানি নিষ্কাষণের পথ না থাকায় বর্ষাকালে রাস্তার ওপর বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা ভেঙ্গে যায়। সড়কে সৃষ্টি হয় বড় বড় খানাখন্দকের। ঘটে দূর্ঘটনা। কিন্তু এ দূর্ভোগ নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ গত শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে ৩ মাসের জন্য যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ফলে শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ। বিকল্প ব্যবস্থা না করে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় একদিকে শহর ও শহরতলীর ১০ বর্গ কি.মি জুড়ে এলাকার মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ স্কুলগামী সহ¯্রাধিক শিশুকে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজার শহর থেকে আরাকান সড়ক ধরে উখিয়ার কোটবাজার হয়ে দীর্ঘ কয়েকগুণ ঘুরপথে মেরিন ড্রাইভে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে এ সড়কটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হিমছড়ি, ইনানী, পেঁচারদ্বীপ ও দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ধস নেমেছে। রাস্তা বন্ধের কারণে শহর ও শহরতলীসহ মেরিন ড্রাইভের বিভিন্নস্থানের অর্ধ শতাধিক হোটেল-মোটেল এখন বন্ধের পথে।।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.