করোনার কারণে ‘মাদ্রাসা ছাত্র এখন হোটেল বয়

প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২০ ৯:৪০ : অপরাহ্ণ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ভায়লাবুনিয়া গ্রামের দিনমজুর মো. বেল্লাল খানের ছেলে মো. ইয়ামিন (১৫)। স্থানীয় ছারছিনা দ্বিনিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সংসারে অভাব, দুই বেলা ঠিক মতো খাবারের জন্য পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছে সে। গত দুই মাস ধরে কাজ করছে ‘হোটেল বয়’ হিসেবে।

উপজেলার ভায়লাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বেল্লাল খানের সংসার ৫ জনের। স্বামী-স্ত্রী, ইয়ামিন ও তার দুই বোনকে নিয়ে বসবাস তাদের। ইয়ামিনের এক বোন সাথী পড়ে ভায়লাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে, ছোট বোন আয়েশার বয়স মাত্র ২ বছর। দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকম চলতো বেলালের। উপজেলায় করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় বেলালের আয় রোজগার। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। বন্ধ হয়ে যায় তিন বেলা খাবার।

ইয়ামিন ছারছিনা দ্বিনিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থেকে পড়ালেখা করায় বাড়ি থেকে তেমন একটা টাকার দরকার হতো না। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তাকে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। পরিবারে এমনিতেই খাবারের অভাব, ইয়ামিন ফেরার পর টানাপোড়েন লেগে যায় বেলালের সংসারে। তাই বাধ্য হয়েছে ছেলেকে হোটেল বয়ের কাজে লাগিয়ে দেন বেলাল।

প্রতিদিন তিন বেলা খাবার ও মাস শেষে ৩ হাজার টাকা বেতন চুক্তিতে গত দুই মাস ধরে ইয়ামিন কাজ করছে আমতলী পৌর শহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন হোটেল সকাল সন্ধ্যায়। এভাবে চলতে থাকলে লেখা পড়ায় ফিরতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান ইয়ামিন।


সর্বশেষ সংবাদ