হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপর্যটন

কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিস দূর্নীতির আখড়া

আমরা ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম, আমাদের বিরুদ্ধে যতই লিখুন কাজ হবে না এ ভাবেই সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক রুহুল আমিন ও আবেদন গ্রহনকারি মোহাম্মদ রাসেল। পাসপোর্ট অফিসে এসে হয়রানির শিকার হওয়া লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গেলে এ ভাবেই জবাব দিলেন পাসপোর্ট অফিসের এই দুই কর্মকর্তা।
যতক্ষণ ১১ শ টাকা বুঝে পায়নি ততক্ষণ আবেদন পত্র সহ সব কিছুই ভুল। টাকা পেলেই সব ঠিক এ ভাবেই চলছে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। অনেকেই পাসপোর্ট করতে এসে সব টাকা কর্মকর্তা কর্মচারিদের দিয়ে পাসপোর্ট অফিসের বারান্দায় না খেয়ে রাত্রি যাপন করেছেন।
পাসপোর্ট করতে আসা বদরখালীর মোহাম্মদ শেখাব উদ্দিন জানান, যতবারই আবেদন জমা দিতে গেছি ততবারই আবেদনপত্র ও জাতীয় সনদ ভুল বলে আবেদন গ্রহনকারি মোহাম্মদ রাসেল ফেরত দিয়েছেন। পরে উপ পরিচালক রুহুল আমিনের কাছে গেলে সব ভুল বলে তিনিও ফেরত দিয়েছেন। পরে আনসার জসিম উদ্দিনকে ১১ টাকা দিলে সাথে সাথে উপ পরিচালক রুহুল আমিন দস্তখত করে দেন।
মহেশখালীর আনিসুল ইসলাম জানান, টাকা না দেওয়ায় তিনি ফিঙ্গার দিতে পারেন নি। জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলেও মোহাম্মদ রাসেল আমার আবেদন রেখে দিয়ে ১৫ দিন পরে আসতে বলেন। পরে আনসার বসুকে ১২ টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। সব টাকা তাদের দিয়ে ফেলায় রাতে কক্সবাজারে না খেয়ে থাকতে হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবী জানান, নানা অনিয়মের কারণে একজন আঞ্চলিক উপ উপ পরিচালককে বদলী করা হলেও মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তিনি যোগদান করার পর থেকে দালাল ও অফিসের সকল কর্মচারী সিন্ডিকেটে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভিআইপি ও আইজীবীদের পাসপোর্ট পেতে দালাল অথবা আনসারদের টাকা দিতে হচ্ছে। এ ধরনের দুর্নীতির সিন্ডিকেট অফিস কক্সবাজারের কোথাও আছে কিনা আমাদের জানা নেই। বর্তমান আঞ্চলিক উপ পরিচালক যোগদান করার পর থেকে মানুষ পাসপোর্ট অফিসে আসতে ভয় করছে। এছাড়াও অফিসের কর্মচারীদের সহযোগিতায় কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে রোহিঙ্গারাও নির্বিগ্নে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের আবেদনপত্র বাতিল করা হলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের পাসপোর্ট করে দিয়েছেন। স্থানীয়রা ভোগান্তির শিকার হলেও রোহিঙ্গারা নির্বিঘেœ পেয়ে যায় পাসপোর্ট। এতে উপ আঞ্চলিক পরিচালক,আবেদন গ্রহনকারি মোহাম্মদ রাসেল, আনসার বাসু ও জসিম উদ্দিন জড়িত রয়েছে। দায়িত্বরত আনসারেরা কতৃপক্ষকে বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে বহাল তরিয়তে আছেন বলে জানা যায়।
ভোক্তভুগিদের অভিযোগ পুলিশ অভিযান চালিয়ে গুটিকয়েক দালালকে গ্রেপ্তার করলে মুল হোতা রাসেল, জসিম ও বাসু বহাল তরিয়তেই রয়েছেন।
আবেদন গ্রহনের দায়িত্বপালনকারি মোহাম্মদ রাসেল জানান, তিনি কারো কাছ থেকে টাকা নেন নি। যা করা হচ্ছে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশেই হচ্ছে। আমার পিতা বাশখাঁলীর আওয়ামী লীগের নেতা আর আমি ছাত্রলীগ করতাম। আমার সাথে ঝামেলা করে কোন লাভ হবে না।
আঞ্চলিক উপ পরিচালক রুহুল আমিন জানান, টাকা আদায়ের অভিযোগ টি সম্পুর্ণ মিথ্যা। তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তার বাড়ি আওয়ামী লীগ বিরোধী জেলা হিসাবে পরিচিত লক্ষীপুরে। তিনি জানান, অনেক মন্ত্রী এমপি আমার পরিচিত। এই সরকারের সময়ে আমার ইচ্ছেমত কাজ করতে না পারলে কখন করব। আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় আছে ততদিন আমার বিরুদ্ধে লিখে কোন কাজ হবে না। তবে খোজঁ নিয়ে জানা যায় কক্সবাজারে সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করতে তিনি সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এ অনিয়ম করে যাচ্ছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.