টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৯ কোটি টাকা লুটপাট: দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত চলছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ২১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার:::: কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভূঁয়া বিল ভাউচার এবং ব্যাংক একাউন্ট দেখিয়ে বিগত ৭ বছরে ২৯ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কয়েকদফা তদন্ত করে গেছেন দুদক ও সংশ্লিষ্ট দফতর। শীঘ্রই এতে জড়িত রাঘব বোয়াল ও চুনোপুটির চাকরিচ্যুতিসহ কঠিন শাস্তি আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা দূর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ সালের হাসপাতালের আর্থিক প্রতিবেদনে শুধুমাত্র ৪৬০১ কোডে খরচ দেখানো হয় ৯৬ লাখ ৩২ হাজার ১৩৭ টাকা। কিন্তু হিসাব রক্ষণ কার্যালয় প্রদত্ত প্রতিবেদনে সেই কোডে উত্তোলিত টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৫ হাজার ১১৫ টাকা। একইভাবে নার্সিং ইনষ্টিটিউটের ক্ষেত্রে ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৬৩২ টাকা খরচের স্থলে ২৬লাখ ১২ হাজার ৯২৭ টাকা উত্তোলন করা হয়। হাসপাতালে এরকম আরো ৩০ এর অধিক কোড রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে অনেক আর্থিক অসঙ্গতি থাকার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক ।

১৭৫৮ নং স্মারকে উল্লেখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের তৎকালীন প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মোঃ আবাদুল সামাদ (প্রয়াত) চাকরীর মেয়াদ পূর্তির পরেও প্রায় দেড় বছর স্বপদে বহাল ছিলেন। আতœরক্ষার্থে সরকারী বিধি লঙন করে তাকে এ পদে বহাল রাখেন সে সময়কার তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজল কান্তি বড়–য়া গং। যা পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে।

ইনভেন্ট্রি কমিটি’র প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, তৎকালীন প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মোঃ আবাদুল সামাদ এর মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত ২ রুম থেকে মালিকবিহীনভাবে ৬৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৭৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। এসব অর্থ হাসপাতালের নামীয় চলতি হিসাব নং- ০৯০৩৩৩০১৮৩৮৭ ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখা হয়। একইভাবে হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার মোঃ এনায়েত করিম এর নামে ০৯/১০/১১ ইং তারিখে পি-১১ নং ভূঁয়া বিল জমা করে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ও সিনিয়র নার্স গায়ত্রী চক্রবর্তী মার্চ/১২ এর মাসিক বেতন না নিলেও ২৮/০৩/১২ ইং এর ৫২ নং বিল মূলে তার নামে ২০ হাজার ৩৫৩ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়। অথচ এক্যুটেন্স বহিতে ওই মাসে তাদের নাম এবং উক্ত বিলে তাদের কোন স্বাক্ষর নেই। এভাবে তদন্ত করতে গিয়ে জুলাই’২০০৬ থেকে জুন’২০১২ পর্যন্ত ২৯ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত টীম। এতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজল কান্তি বড়–য়া সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে।

ইনভেন্ট্রি কমিটি’র প্রতিবেদন সুত্রে আরো জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় ডা. এবিএম মোস্তফা হাসপাতাল সুপারিনটেন্ডেন্ট নামে চলতি হিসাব নং- ০৯০৩৩৩০১৮৩৮৭ বিগত ০৯/০৫/১৯৯৪ সাল থেকে চালু রয়েছে। অথচ এ নামে জেলা সদর হাসপাতালে এ যাবতকালে কোন তত্ত্বাবধায়ক কিংবা সাধারণ চিকিৎসকও ছিলনা। মূলত হাসপাতালের টাকা লুটপাটের জন্য এই ভূঁয়া একাউন্ট করা হয়েছিল।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালে সংঘটিত সকল দূর্নীতির মূল হুতা প্রয়াত প্রধান সহকারী আব্দুল সামাদ। তার সাথে আয় ব্যয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুল আলম, ডা. কাজল কান্তি বড়–য়া,  ডা. শাখাওয়াত হোসেন, ডা. লুৎফুল কবির, ডা. নিজাম উদ্দিন ও ডা. নাজিস জড়িত ছিলেন। তাদের দায়িত্বপালনকালে ২৯ কোটি টাকারও বেশী আতœসাৎ হয়। এর সাথে নেপথ্যে আরো অনেকে রয়েছে। যারা সকলেই লুটপাট হওয়া এ টাকার ভাগ নিতেন। তবে কাজল কান্তি বড়–য়ার সময়কালে দূর্নীতির পরিমাণ বেড়েছে বলে সুত্র জানায়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৩৮ জন চিকিৎসক, ৩৪ জন  নার্স ও ২৬ জন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী রয়েছে। তাদের জন্য সরকার প্রতি বছর কোটির টাকার উপরে বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া হাসপাতালের আবাসিক রোগীর খাওয়া দাওয়া ও অফিসিয়্যাল খরচ বাবদ সরকারী বরাদ্ধ তো আছেই। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিরাট একটি অংশ সরকার এ খাতে ব্যয় করছে নিয়মিত। কিন্তু হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্তা বাবুরা এখানে সময় না দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালের প্রাইভেট চেয়ারে বসে সরকারী কোষাগারের কোটি কোটি টাকা তছরুপ করছেন দীর্ঘ দিন ধরে। আর এতে কেউ প্রতিবাদমূখর হলে  তার উপর ওই সিন্ডিকেটের নগ্ন হস্তক্ষেপ নেমে আসে বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে কোন শিশু রোগি স্বাভাবিকভাবে মারা গেলে শিশুটির অভিভাবককে মৃত্যু সনদ ধরিয়ে দেয়া হলেও ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পি’র নির্দেশে হাসপাতালের রেজিঃ বহিতে অধিকাংশ রেফার হিসাবে লেখা হতো। হাসপাতালে ৪ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন এবং একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকার পরও নানা অজুহাত তুলে এখানে তারা অপারেশন দেননা। অবশেষে রোগীদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে অপারেশন সারতে হয়। এতে ওই ডাক্তার সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ। ডা. আজয় ঘোষ যোগদানের পর থেকে এসব অনিয়ম  তিনি শক্ত হাতে দমন করেন এবং হাসপাতালকে একটি নিয়ম শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনেন বলে কর্মরতরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক তুষার কান্তি পাল জানান, পুরাতন কোন কাগজপত্র হিসাব নিকাশ তিনি বুঝিয়ে নেননি। নতুন হিসাবগুলো করছেন মাত্র। পুরাতন হিসাব নিকাশ কার কাছে পাওয়া যাবে জানতে চাইলে এগুলো হিসাব রক্ষক প্রবীর কুমারের নিটক বলে তিনি জানান। তবে তত্ত্বাবধায়ক ডা. অজয় ঘোষের সময়কালে হাসপাতালের উন্নয়ন ও নিয়ম শৃঙ্খলার কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে হিসাব রক্ষক প্রবীর কুমার পালের নিকট জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ রফিকুল হাসান চেম্বারে না থাকায় মুঠোফোনে তিনি জানান, এ বিষয়ে দুদক ও সংশ্লিষ্ট দফতর তদন্ত করে গেছেন। আরো অধিকতর তদন্ত হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে দূর্নীতি প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট দফতর সরকারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন। তবে এতে পক্ষে বিপক্ষে কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটিতে থাকা) ডা. আজয় ঘোষ জানান, দীর্ঘ দিন ধরে জেলা সদর হাসপাতাল দূর্নীতিবাজ চক্রের হাতে জিম্মি ছিল। তিনি যোগদানের পর ওই চক্রের কবল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। প্রাইভেট চেম্বারমুখী ডাক্তারদের ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা, দূর্নীতির তদন্তে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা, হাসপাতালে কর্মরতদের যথাসময়ে অফিস ডিউটির বিষয়ে বাধ্যবাধকতা, বহিরাগত ডাক্তারদের নিয়মিত করণ ও প্রাইভেট হাসপাতালে না পাঠিয়ে সরকারী হাসপাতালেই রোগীদের অপারেশনের জন্য কর্মরত সার্জনদের চাপ দিলে তার বিরুদ্ধে ডাক্তাররা অবস্থান নেয় ।

ডা. অজয় ঘোষ জানান, জুন’২০১১ থেকে জুলাই’২০১২ পর্যন্ত হাসপাতালের আয় ব্যয়ের হিসাব দেখতে গিয়ে সেখানে বিরাট ফারাক উপলব্দি করলে তা উর্ধ্বতন মহলকে প্রথমে মৌখিকভাবে অবগত করেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৪ আগষ্ট সুপার/ককস/হাসপাতাল/প্রশাঃ/২০১২/১৭৫৮ নং স্মারকমূলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর হাসপাতালের প্রশাসনিক অনিয়ম ও তহবিল তছরূপের বিষয়ে জরুরী ভিক্তিতে তদন্তের আবেদন করেন তিনি। এরই ভিক্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) ডা. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টীম ঘটনার তদন্ত করেন। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে খলীলুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি টীম বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে যান। গেল আগষ্টে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) ডা. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত দল ৩ দিন ধরে পূনরায় তদন্ত করেন। এসব তদন্তে হাসপাতালের জন্য বরাদ্ধকৃত সরকারী অর্থের ব্যাপক লুটপাট হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এ কারণে দূর্নীতির রাঘব বোয়ালেরা আতœরক্ষার্থে ইতিমধ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে তদন্ত টীমকে এসব দূর্নীতির তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. অজয় ঘোষের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে যায় ওই দূর্নীতিবাজ চক্রটি। চক্রান্তের অংশ হিসাবে চলতি সনের ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণয়ের উপ-সচিব খালেদা আক্তার স্বাক্ষরিত ৪৫.১৪৩.০১৯.০৩.০০.০০২.২০১০.১৩০৫ (১(১৪) নং স্মারকমূলে তাকে স্বাস্থ্য  অধিদফতরে ও.এস.ডি হিসাবে ন্যস্ত করা হয়। যদিওবা অর্ডারটি আদৌ সঠিক কিনা এ নিয়ে  সন্দিহান বলে জানিয়েছেন ডা. আজয় ঘোষ।

দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, তার সময়কালে শুধু প্যাথলজি থেকে আয় হয়েছে ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ইতিপূর্বে এ খাতের আয়ের কোন হিসাব হতোনা। তৎকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা মিলেমিশে এ রকম আরো অনেক খাত থেকে সরকারী কোটি টাকা হরিলুট করেছে বলেও তার মন্তব্য।

তাকে সরিয়ে নেয়া ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন ডা. বাপ্পির ফল্স রিপোর্ট ধরা পড়ার ভয়, ওয়ান স্টফ সার্ভিসের (ওসিসি) টাকা আতœসাৎ এর হিসাব তলব, শিশুদের স্কেনোর সঠিক হিসাব দিতে না পারা ও কাজল গং এর পাহাড়সম দূর্নীতির তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করা তার জন্য কাল হয়েছে। এতে স্বাচিপ’র নেতারা জড়িত বলে তিনি জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন কাজল কান্তি বড়–য়ার বক্তব্য জানতে চাইলে প্রথমে তিনি এড়িয়ে যান। এরপর এ বিষয়ে হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট এর নিকট জিজ্ঞেস করতে বলেন। তবে এতে ১৯৯৪ সাল থেকে একটু সমস্যা আছে বলেও মন্তব্য করেন। সদর হাসপাতালে সংঘটিত ২৯ কোটি টাকা দূর্নীতিতে তাকে জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

দূর্নীতির তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) ডা. সাইদুর রহমান দূর্নীতির কথা স্বীকার করে জানান, তদন্ত শেষ হয়নি। আরো তদন্ত হবে। এ পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা দূর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডা. গোলাম মোস্তফা নামে ভূঁয়া একাউন্ট দেখিয়ে এসব লেনদেন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো জানান, ব্যাংক একাউন্টহোল্ডার গোলাম মোস্তফা নামে এ পর্যন্ত সদর হাসপাতালে কোন তত্ত্বাবধায়ক তো দূরের কথা সাধারণ ডাক্তারও ছিলনা। তার নাম ব্যবহার করে অতি সুকৌশলে হাসপাতালের টাকা আতœসাৎ করা হয়েছে। এ দূর্নীতিতে তৎকালীন প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মোঃ আবাদুল সামাদ ছাড়া আরো অনেকে জড়িত ছিল। তদন্তের মাধ্যমে তা খুব শীঘ্রই বেরিয়ে আসবে। এ রকম মারাতœক জালিয়াতিতে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সম্পৃক্ততা ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১ জুলাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নেন ডা. অজয় ঘোষ। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের নানা সমস্যা ও অনিয়ম চিহ্নিত করে তা ক্রমান্বয়ে সমাধানের পদক্ষেপ নেয়। বিশেষ করে অনিয়মিত ডাক্তারদের নিয়মিত করণ, অন্যান্য সেকশনে কর্মরতদের সময়সুচি অনুসরণে বাধ্যবাধকতা, রোগীদের খাবার বিতরণে অনিয়ম রোধ, হাসপাতাল অঙ্গীনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, হাসপাতালেই রোগীদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করণ ও হাসপাতালের হিসাব নিকাশের উপর কড়াকড়ি আরোপ করেন। যে কারণে হাসপাতালের নিয়ম শৃঙ্খলা অতীতের চেয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। বর্তমানে নামে মাত্র ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক থাকলেও তার তৎপরতা প্রশংসনীয় নয়।

ইমাম খাইর, কক্সবাজার। ০১৮১৫৪৭১৪০০

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT