টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার জেলা জাপা’র সম্মেলন: বিক্ষিপ্ত কয়েক ঘটনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার:::::: সময়ের প্রতি গুরুত্বহীন শনিবার ছিল কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলন। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে সকাল ১১টায় সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেড় ঘন্টা পরে গিয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায় তা শুরু হয়। অথচ সংবাদ কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পার্টির মহাসচিবের সংবাদ কাভার করতে যথা সময়ে অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছে। কিন্তু আগে গিয়ে শাস্তি পেতে হয়েছে তাদের। এ সময় অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকেও মঞ্চে বসে থাকতে দেখা গেছে। ঘোষণা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা মূলক আচরণ লক্ষ করা গেছে। এতে নির্দিষ্ট কোন ঘোষক ছিলনা। এ কারণে ৫ জন নেতা পরিচালক ছিল। তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে এক বার একেকজন স্পীকার ধরতে দেখা গেছে। ক্ষোব্ধ কেন্দ্রীয় নেতা তখন বিকাল সাড়ে ৪টা। কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিতেই আছেন। ইতিমধ্যে সামনের প্রায় চেয়ার খালি হয়ে গেল। যে ক’জন মহিলা ডেলিগেট ছিল তাদেরকেও খুরশেদ আরা হক বক্তব্য শেষে সাথে নিয়ে বাইরে চলে গেলেন। অবস্থা দেখা দলের যুগ্ম মহাসচিব এড. রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য খাবার ‘সেক্রিফাইস’ যারা করতে পারেনা তাদের নিয়ে কিভাবে যুদ্ধের ময়দানে যাব? আগামী কঠিন দিনগুলো তারা কিভাবে মোকাবেলা করবে? বিরক্তিকর শ্লোগান  শক্তি প্রদর্শনের জন্যে ‘অমুক ভাই এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে’ ‘জালাও জালাও আগুন জালাও’ ইত্যাদি শ্লোগান প্রোগ্রামকে শ্রী হীন করে তোলে। অনেক সময় বক্তারা মঞ্চ থেকে বিরক্তিকর এ সব শ্লোগান বন্ধ করতে নির্দেশ দিতে বাধ্য হন। যা একে বারে অবাঞ্চিত ছিল। ঝাল মিঠানোর সূবর্ণ সুযোগ অনুষ্ঠানটি ছিল নেতাদের মনের ঝাল মিঠানোর অনন্য আয়োজন। দীর্ঘ দিন পরে মাইক পেয়ে অনেকে কেন্দ্রীয় নেতার সামনে তাদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন।  ফটো সেশন এক কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য শেষ করে অন্যজন বক্তব্য দিতে আসলেই শুরু হয়ে যায় ছবি তোলার তুমুল প্রতিযোগিতা। চারপাশে ঘিরে ধরে স্থানীয় নেতারা। মনে হয়েছে পুরো অনুষ্ঠান ছিল একেকটা ফটো সেশন। যে কারণে সংবাদ কর্মীরা ছবি তোলতে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে বক্তা দেখতে না পেয়ে শ্রোতার কাতার থেকে শুরু হয়ে যায় হৈচৈ। দুপুরে খাবার নিয়ে মারামারি অনুষ্ঠান হলের ঠিক পেছনের দিকে আয়োজন করা হয় দুপুরের খাবার। কিন্তু সময়ের আগেই খাবার নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। এ সময় খাবার না পেয়ে ডেলিগেট ও কাউন্সিলররা হাতাহাতি ও চেয়ার ছোঁড়াছুড়িতে জড়িয়ে পড়ে। এ ফাঁকে অনেকে খাবারের ডেক্সি ও ডিম নিয়ে হাভাতের পরিচয় দিয়েছে। সর্বশেষ অনেককে না খেয়ে ফেরত যেতে হয়েছে। মাছের বাজার অনুষ্ঠান স্থলে কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্য চলছে। অন্যদিকে খাবার নিয়ে হৈ চৈ। যেন মাছের বাজার। নেতার বক্তব্য এ সব হাভাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুনীজনকে সম্মান দিতে শেখেনি তারা। সম্মেলনের আগে পেট পুরে খাইয়ে এদের অনুষ্ঠানে আনা উচিত ছিল মনে করেছেন অনেকেই। বিস্কুট দিয়ে লাঞ্চ সারলেন কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয়রা লম্বা বক্তব্য দিতে দিতে বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা। ইতিমধ্যে দুপুরের ভাত সাবার। অবশেষে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা পরে বিস্কুট খেয়ে লাঞ্চ সারলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এটিই বুঝি মেহমান দারী! জালাও জালাও আগুন জালাও! এতে আগত বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আমিন শানু কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গেইটে পৌঁছলে দলীয় নেতা কর্মীরা তাকে জালাও জালাও আগুন জালাও শ্লোগানের মাধ্যমে স্বাগত জানায়। এ সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা ও অন্যের কাধে ভর করে সম্মেলন কেন্দ্রে পৌঁছা পর্যন্ত এ শ্লোগানটি অব্যাহত থাকে। এছাড়া অনুষ্ঠান হলেও ক্ষণে ক্ষণে অতিথি বরণের স্বাগত শ্লোগানের পরিবর্তে জালাময়ী ও প্রতিবাদি এ শ্লোগানটি অব্যাহত থাকে। যা শুনে উপস্থিত শ্রোতারা ত- বনে যান। ৫ মিনিটে কক্সবাজার অচল! ‘জাতীয় পার্টি কক্সবাজারে আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগরের নেতৃত্বে এমন শক্তবাবে সংগঠিত হয়েছে যে ৫ মিনিটে আমরা পুরো কক্সবাজারকে অচল করে দেয়ার ক্ষমতা রাখি।’ জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বক্তব্য প্রদানকালে এ চ্যালেঞ্জ উচ্চারণ করেন। গণপদত্যাগের হুমকি অদক্ষ ও অযোগ্য কোন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হলে গণপদত্যাগের হুমকি দেন জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

টাউট বাটপার পেয়েছি! ‘জাতীয় যুব সংহতি বলতে জেলায় কোন অস্থিত্ব ছিলনা। কমিটি গঠন করতে গিয়ে আমি কোন ভাল লোক পাইনি। যা পেয়েছি সব টাউট বাটপার। সম্মেলনের কাজ একাই করেছি।’ জেলা যুব সংহতি সভাপতি শহীদুল ইসলাম মুন্না ক্ষোভ প্রকাশ করে তার অভিব্যক্তির কথা জানান। সুবিধাভোগিদের তাড়ান এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার পর সুবিধাভোগিরা চেহারা পাল্টে অন্যদলে চলে যায়। জেলায় জাতীয় পার্টি করার কোন লোক ছিলনা। হাতেগুনা কয়েকজন সংগঠনকে ধরে রেখেছে। দলের সু সময়ে যারা পদের জন্য ভীড় করে তাদের তাড়াতে হবে বলে ক্ষোভের সাথে সাফ জানিয়ে দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি মোশাররফ হোসেন দুলাল। মসজিদের ওয়াদা ভঙ্গ ‘তৎকালীন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য বায়তুশ শরফে গিয়ে শপথ করেন। কিন্তু এরপরেও তারা মহাজোটের সাথে আতাঁত করে কোটি টাকার মালিক বনেছেন। বীচ এলাকায় নিজ নামে পেয়েছেন দোকানঘর। দলের জন্য তারা কিছুই করেনি। বরং দলীয় অফিস নির্মাণে অসহযোগিতা করেছেন।’ বক্তব্যটি ছিল জাতীয় ছাত্র সমাজের কক্সবাজার জেলা প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও সদর উপজেলা আহবায়ক মেহেরুজ্জামান।

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT