হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারজাতীয়

কক্সবাজার ওপার্বত্য জেলায় রোহিঙ্গা ভোটার এড়াতে…

কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার না হতে পারে এর জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে সতর্ক। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকার বাইরে রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা। কারণ তাঁদের সহযোগিতা নিয়েই ২০০৮ ও ২০০৯ সালে কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির অনেক উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপক হারে ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আগের নির্বাচন কমিশন ওই সব এলাকার ভোটার তালিকা থেকে মোট ৪৮ হাজার ৬৭৩ জনের নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেও পুরোপুরি অভিযোগমুক্ত হতে পারেনি। প্রসঙ্গত, ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় ২০০৯ সালের ২ আগস্ট সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিল, বান্দরবান জেলার সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম ও লামা উপজেলা, কক্সবাজারের সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা এবং রাঙামাটির কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলার ভোটার তালিকায় অনেক রোহিঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের কমিটির সদস্য করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তদের তথ্য বিশেষ ফরমের সাহায্যে নতুন করে যাচাই শুরু হয়। যাচাইয়ের পর ওই তিন জেলার ১২টি উপজেলার ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গা ও ভুয়া সন্দেহে মোট ৪৮ হাজার ৬৭৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের চার উপজেলায় দুই হাজার ২২০ জন, কক্সবাজারের ছয় উপজেলায় ৪৫ হাজার ৮৬৬ জন এবং রাঙামাটির দুই উপজেলায় ৫৮৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়। অনেক রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরও এ বিষয়ে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন আগের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একাধিক মামলা হয়। কক্সবাজার জেলার চার পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছর হাইকোর্টে রিট করেন ওই এলাকার বাসিন্দা কার্তিক দাশগুপ্ত। তাঁর অভিযোগ ছিল, কক্সবাজার জেলার ভোটার তালিকায় অনেক রোহিঙ্গা ভোটার থাকার কারণে ওই তালিকা দিয়ে নির্বাচন বৈধ হতে পারে না। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কক্সবাজারের চার পৌরসভার সম্প্রতি নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গত ১০ মে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজারের পেকুয়া ও বান্দরবানের লামা উপজেলার ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলার মধ্যে পেকুয়ায় ভোটার বেড়েছে নির্বাচন কমিশনের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। সাড়ে ৭ শতাংশ ভোটার বাড়তে পারে- এ ধারণার বিপরীতে এ উপজেলায় ভোটার বেড়েছে ১০.৬০ শতাংশ। আগের তালিকায় ভোটার ছিল ৮৫ হাজার ২৬০ জন। আর এবার নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪০ জন। বেশি হারে ভোটার অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে ওই উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মইনুল হক বলেন, পেকুয়া উপজেলায় ২০০৯ সালে হালনাগাদ করা তালিকা থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে অনেককে বাদ দেওয়া হয়। তখন অনেক প্রকৃত ভোটারও বাদ পড়েন। এবার সেসব বাদ পড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়াতে হার কিছুটা বেড়েছে। মইনুল হক বলেন, ‘আমার জানামতে, এবার পেকুয়াতে রোহিঙ্গাদের কেউ ভোটার হতে পারেনি। ইউএনওর (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ভোটার করা হয়েছে। কমিটিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এ ছাড়া যাঁরা ভোটার হতে চেয়েছেন, তাঁদের মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনুলিপি, চাচা, খালা, ফুফু- এ ধরনের আত্মীয়দের এনআইডি, বাপ-দাদার জমি-জায়গার আরএস রেকর্ড প্রভৃতি দাখিল করতে হয়েছে।’ কক্সবাজারের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুল হাসান ভুঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলায়ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেষ হবে। বিশেষ কমিটি তৎপর থাকায় এবং বিশেষ ফরমে বাড়তি তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকায় আমাদের ধারণা, এবার রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবে না।’ কক্সবাজারের আগের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে ফর্মুলায় ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলাম, এবারও সে ফর্মুলা প্রয়োগ করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা যদি সতর্ক হন, তাহলে এ ফর্মুলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই।’ নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘অন্য দেশের নাগরিক এ দেশে যাতে ভোটার না হতে পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সতর্ক। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আমরা বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছি।’

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.