টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে মানবাধিকার লংঘনের চিত্র ভয়াবহ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আনোয়ার হাসান চৌধুরী….৬৪তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ। সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলায় দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা) কক্সবাজার জেলায় বর্ণাঢ্য র‌্যালীসহ বিভিন্ন কর্মসুচী গ্রহণ করেছে।

সুত্র জানিয়েছে, মানুষ তাঁর সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য যেসব মৌলিক অধিকারের ওপর নির্ভরশীল, যা ছাড়া মানুষ অচল, নিজের প্রতিভা, গুণাবলী ও বৃত্তি প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভোগ করতে পারে না, তাই সবই মানবাধিকার। বর্তমানে এটি পৃথিবীর বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। সেই থেকে দিনটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

সুত্র মতে, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের উপর মানুষের সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠাই হলো মানবাধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণ, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা বিধান করাই সরকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের প্রধান লক্ষ্য। মানবতার পরিপূর্ণ বিকাশেই মানবাধিকারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে বলে সুশীল সমাজ মনে করেন। মানবাধিকার রক্ষার্থে দেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত আছে এবং সরকারও অত্যন্ত আন্তরিক।

জানা গেছে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে জাতি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে দেশের জন্য প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সমূহ সংযোজন করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধীরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু করে। তাদের এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড আজো থেমে নেই।

জানা যায়, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাছাড়া স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করি। এছাড়াও জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাসত্মবায়ন করা হয়। বর্তমানে জনগণ এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল ভোগ করছেন। সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এক্ষেত্রে সরকার দল-মত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার আহবান জানান।

এদিকে কক্সবাজার জেলায় মানবাধিকার লংঘনের চিত্র ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত চোখের সামনেই মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন গুলো মানবাধিকার রক্ষায় ও দায়িত্ব পালনে কতটুকু ভুমিকা রাখতে পারছে তা সুশীল সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। মানুষকে সেবা ও নাগরিক জীবনে মানবাধিকার লংঘিত হলে সাধ্যমতো আইনী এবং সকল প্রকার সহায়তা দিচ্ছে। তাঁর মধ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা) অন্যতম বলা চলে।

এদিকে আজ ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা) কক্সবাজার জেলা কমিটি বর্ণাঢ্য কর্মসুচী হাতে নিয়েছে। কর্মসুচীর অংশ হিসেবে ওই দিন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সকাল ৯ টায় জমায়েত, সকাল ১০ জাতীয় সঙ্গীত, সকাল ১০.১০ টায় মানবাধিকার সঙ্গীত, সকাল ১০.২০ টায় শপথ গ্রহণ, সকাল সাড়ে ১০ টায় শহীদ মিনার হয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ, সকাল ১১ টায় র‌্যালী সমাপ্ত, সকাল ১১.০৫ টায় স্বাগত বক্তব্য, পর্যায়ক্রমে উপজেলা সভাপতির বক্তব্য, উপজেলা প্রতিনিধির বক্তব্য, অতিথির বক্তব্য ও সর্বশেষ সভাপতির বক্তব্যের মধ্যদিয়ে কর্মসুচী সমাপ্ত করা হবে।

উল্লেখিত কর্মসুচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও বামাকার সমস্ত নেতৃবৃন্দকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বামাকার কক্সবাজার জেলা সভাপতি এডভোকেট আ.জ.ম মঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মফিজুল আলম, কক্সবাজার জেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জুবায়ের, কক্সবাজার সদর সভাপতি হামিদ হোসেন ও উখিয়া উপজেলা সভাপতি ছৈয়দুজ্জামান বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বামাকার উখিয়া উপজেলা কমিটি ও অন্যান্য কমিটির উদ্যোগেও মানবাধিকার দিবস বর্ণাঢ্য কমসুচীর মধ্যদিয়ে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT