টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে তেঁতুল হুজুরের ধোঁকাবাজি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এইচএম এরশাদ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়া ও রামু সফর করায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে জেলার আনাচে-কানাছে। উখিয়ার জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ শুনে এবং কক্সবাজারে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড, আগামীতেও ৩৮ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন দেখে নড়েচড়ে বসছেন কক্সবাজারের সাধারণ ভোটাররা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের ৮টি উপজেলায় ১২টি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন দেখে তেঁতুল হুজুরদের দেয়া ধোকা ও মিথ্যা প্রচারণা ‘উদোর পিন্ডি বুদুর ঘাড়ে’ অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে উখিয়া-টেকনাফে। কতিপয় তেঁতুল মৌলানা কক্সবাজারের ধর্মপ্রিয় মুসলমানদের দেশ থেকে আওয়ামীলীগ সরকার মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার পায়তারা করছে বলে ধোঁকা দিয়ে আসছিল। অজপাড়াগাঁয়ের লোকজনকে (ভোটারদের) ধর্মের দোহাই দিয়ে জুমার দিনে ও বিভিন্ন সময় কাল্পনিক বক্তৃতায় আকৃষ্ট করে এসব মিথ্যা ধারণা জন্মায়। মঙ্গলবারের উখিয়ার বিশাল মাঠে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়া ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সঙ্গে জেলার ৭টি উপজেলায় ১২টি মাদ্রাসা স্থাপনেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন দেখে জনমনে ওসব ধোঁকাবাজদের দেয়া সেই ধারণা পাল্টে গেছে। পাশাপাশি রি-এ্যাকশান শুরু হয়েছে তেঁতুল হুজুরদের দেয়া মিথ্যা প্রচারণায়। সাধারণ ভোটারদের অনেকে নিজেরাই বর্তমানে প্রচার করে চলছেন, শেখ হাসিনা একটি জেলায় (কক্সবাজার) এক ডজন মাদ্রাসা প্রতিষ্টাকল্পে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। অথচ আওয়ামীলীগ সরকার মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে বলে মৌলভীরা যে মিথ্যা ও ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে, তা এখন সকলের জানা হয়ে গেছে। গত ২দিন ধরে টেকনাফ-উখিয়া এমনকি জেলার সর্বত্র সাধারণ লোকজনদের একে অপরকে বলাবলি করছে-মৌলভীরা ধর্মের ব্যপারে সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, সেটা স্পষ্ট ও বুমেরাং হয়ে গেছে বলে জানান উখিয়া সদরের বাসিন্দা কাজী আক্তার উদ্দিন টুনু। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ১২টি মাদ্রাসা স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টিকে ঘিরে ওইসব তেঁতুল হুজুরদের কথায় আর কান দিচ্ছেন না সাধারণ লোকজন। মঙ্গলবারের জনসভা ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ভিডিও করে প্রায় চা-দোকানে ও বাড়ি-ঘরে বার বার দেখছেন স্থানীয়রা। টেকনাফের বাসিন্দা আবদুল হাকিম জানান, গত বছরের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামু-উখিয়ায় একাধিক মৌলবাদী গ্র“প ও রোহিঙ্গা জঙ্গীদের সহিংসতায় জলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ১৯টি বিহারকে পুননির্মাণ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে তা-কালবিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করায় আনন্দিত হয়ে সেই বাপকা বেঠিকে এক নজর দেখতে মঙ্গলবার উখিয়ার জনসভায় ছুটে এসেছিলেন আবাল-বৃদ্ধ বনিতা লাখো নারী-পুরুষ। কিন্তু জনসমুদ্রের ভিড়ের কারণে বহু বৃদ্ধ লোক সমাবেশ স্থলের কাছেও যেতে পারেনি। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল জালিয়াপালং এর ইনানী থেকে ওই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে আসা বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, শেখ সাহেবের মেয়েকে দেখার খুব শখ ছিল, তাই বিকাল ৩টার পর থেকে শত চেষ্টা করেও ভিড়ের কারণে সমাবেশ স্থলে পৌছতে পারিনি। তিনি আরও বলেন-অপেক্ষায় থাকব, আমার হায়াত থাকলে তিনি (শেখ হাসিনা) রাজা নির্বাচিত হয়ে ফের উখিয়ায় আসলে তখন সকাল থেকে এসে বসে থাকব। টেকনাফ, উখিয়া ও রামুতে হাটে-বাজারে, চা দোকান সহ বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর আগমন আর ওয়াদা পূরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে বলেছেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারের উন্নয়নে শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তন্মধ্যে বেশীর ভাগই বাস্তবায়ন করেছেন। বিভিন্ন স্থানে ঘরোয়া অলোচনায় সাধারণ লোকজন বলছেন, গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শনের সময় রামু ও উখিয়ার তিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও বসতি পুননির্মানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাত্র ১১ মাসের মাথায় ধ্বসযজ্ঞ ১৯টি বৌদ্ধ বিহার আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে পুননির্মাণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় উপস্থিত হওয়া ৮৫ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ খুবই আগ্রহ সহকারে আঞ্চলিক ভাষায় বলেছেন- ‘শেখের মাইয়্যা শেখ হাসিনা এক্যান কামের কাম গরি দেখাইয়ে। যেই সুন্দর কোটা বানাইয়ে, এনডইল্যা মন্দির মনে হদ্দে থাইলেন ছারা দুনিয়ার অন্য কনিক্যা নাই’। অর্থাৎ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্র“তি মতে যে সুন্দর করে বিহারগুলো নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে, হয়ত এত সৌন্দর্য বিহার পৃথিবির থাইল্যান্ড ব্যতিত অন্য কোথাও নেই। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের উখিয়া ও রামু সফরের পর জেলার সাধারণ মানুষ উজ্জীবিত ও উৎফুল হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উখিয়ার সমাবেশ থেকে ফেরা উখিয়া-টেকনাফ ও রামু অঞ্চলের হাস্যৌজ্জ্বল অনেকে আগামীতেও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করা উচিৎ বলে জানান। সাধারণ ব্যক্তিদের আলোচনায় এটাও বলতে শুনা গেছে, কিছু সংখ্যক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার ধান্ধাবাজির কারণে দুর্নাম রটেছে কক্সবাজারে। হয়ত ওইসব ধান্ধাবাজ নেতার কারণে ভূল করতে পারে সাধারণ লোকজনদের অনেকে। তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার কক্সবাজারে সফর করে, ভাষণ দিয়ে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করায় আনন্দে আপুøত কক্সবাজারবাসী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর কালীন ১২টি মাদ্রাসা স্থাপনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের বিষয়টিকে ঘিরে তেঁতুল হুজুরদের নাকে চুনকালি পড়েছে। যে সব লোকজনদের কাছে মিথ্যাচার করে গেছে, ধর্মের লেবাসপড়া ও পরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ওই মৌলানারা এখন বড় গলায় আর কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে মহাজোট সরকারের দুর্নাম সৃষ্টিকারী তেঁতুল হুজুরদের অনেকে গত দুই দিন ধরে মিথ্যা ও ধোঁকা দেয়ার লজ্জায় ঘর থেকেও বের হচ্ছেন না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ১২টি মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদিত সারা দেশে ১হাজার মাদ্রাসা শিক্ষা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে ১২টি মাদ্রাসা নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, দেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে দেশ ব্যাপী ১ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে সরকার ১হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা প্রদান করবে এবং ১১৬ কোটি টাকা উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকৃত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে জেলার পেকুয়া উপজেলায় ২টি, চকরিয়া উপজেলায় দুইটি, মহেশখালীতে একটি, কুতুবদিয়ায় ১টি, টেকনাফে ২টি ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৪টি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হবে।#  এইচএম এরশাদ,কক্সবাজার,০৬-০৯-২০১৩ইং

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT