হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদ

‘কক্সবাজারের উন্নয়নে বড় বাধা সমন্বয়হীনতা’

কক্সবাজার প্রতিনিধি।
পর্যটননগরী কক্সবাজারের উন্নয়নে বড় বাধা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক কর্তৃত্বের লড়াই ও সমন্বয়হীনতা। এ অভিমত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) উদ্যোগে মঙ্গলবার ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মহাপরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। কউক সম্মেলনকক্ষে ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল ফোরকান আহমদ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজারের উন্নয়নে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল আবছার বলেন, কক্সবাজারের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের লড়াই ও সমন্বয়হীনতার কারণে জেলার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আগে পর্যটন নগরীর জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হলেও এ পরিকল্পনার কিছু বাস্তবায়ন হয়নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো:শাহজাহান বলেন, বিভিন্ন সংস্থার নামে পর্যটননগরীর সব জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। শহরবাসীর জন্য এখন কোন ফাঁকা মাঠ নেই, তাদের নি:শ্বাস নেওয়ার কোন জায়গা আর অবশিষ্ট নেই। অথচ পর্যটন শহরের জন্য কোন উন্নয়ন প্রকল্প এখন পর্যন্ত হয়নি। কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল বলেন, পর্যটন শহর এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। নালা নর্দমাগুলো আগেই দখল হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সব বিভাগের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৌমেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, কক্সবাজার সৈকত নিয়ে সরকারি বেসরকারি সব বিভাগ ক্ষমতা দেখাতে চায়। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে না গিয়ে তারা উন্নয়http://www.teknafnews.com/wp-admin/post-new.phpনের স্বার্থে কাজ করলে পর্যটন নগরীর চেহারা বদলে যেত। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে। প্রভাবশালীরাও এ কাজ থেকে বাদ যাচ্ছেন না। আইন না মানার এ প্রবণতা পর্যটন নগরীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি হবে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের অজুহাতে পর্যটন নগরীর জমি বেচাকেনায় জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার বিধান করা হয়েছিল। সেই বিধি নিষেধ এখনও বহাল থাকায় মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে। নিজের জমি বিক্রি করবে অথচ অনুমতির জন্য প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে। তিনি এ হয়নারী বন্ধ করার দাবি জানান।

এসব বিষয়ে কউক চেয়ারম্যান লে:কর্নেল ফোরকান আহমদ কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে বলেন, পর্যটন জেলার জন্য ২০১৩ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছে। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে যা এখনও কার্যকর করা যাচ্ছে না। ফলে নতুন একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া এটি তৈরি সম্ভব নয়। সবাই এগিয়ে না এলে পর্যটন নগরীর উন্নয়নও সম্ভব নয়।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.