হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদমাদক

ওসি প্রদীপ ইয়াবা ও হুন্ডিবাজদের সাক্ষাত ‘আজরাইল’

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::  টেকনাফে এখন স্বাভাবিক ও সুন্দর পরিবেশ ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। এ পরিবেশকে আরো উন্নত ও জনবান্ধব করতে চাইলে সবাইকে ইয়াবাবাজীর কবল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এখনই ইয়াবাবাজ, হুন্ডিবাজদের সংশোধন হওয়ার উপযুক্ত ও যথার্থ সময়। আগে সকলকে ইয়াবাবাজদের বহুমুখী চাপে থাকতে হতো। ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের ভয়ে টেকনাফ এলাকায় আগে কেউ সহজে মুখ খুলে কথা বলতে সাহস করতোনা। এখন আর সেরকম দুর্বিসহ অবস্থা টেকনাফে নেই। এ পরিবেশকে আরো সুন্দর করার জন্য সকলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাককারী সংস্থাকে আরো আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করতে হবে। এজন্য সকলকে ইয়াবাবাজদের সঠিক তথ্য জানাতে হবে। সরকারের দেয়া আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজেরা যদি সবাই এ সুযোগ গ্রহন নাকরে তাহলে, তাদেরকে অনিবার্য ভয়াবহ ও কঠোর আইনের শেষ পরিণতি ভোগ করতে হবে। টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিটাপানিরছরা বাজারে শুক্রবার ৫ এপ্রিল বিকেলে আল ফালাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ফাউন্ডেশন ও টেকনাফ রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাঈফী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাদক, জঙ্গী, দূর্নীতি বিরোধী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাহিয়ান একথা বলেন। সমাবেশে প্রধান আলোচক টেকনাফ মডেল থানার ওসি এবং ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের সাক্ষাত ‘আজরাইল’ হিসাবে খ্যাতি পাওয়া প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার বলেন-ইয়াবাবাজদের সংশোধন হওয়ার এখন উপযুক্ত ও যথার্থ সময়। সময় ফুরিয়ে গেলে আর কাউকে আইনের কঠিন প্রয়োগ থেকে রেহায় দেয়া হবেনা। টেকনাফের প্রতিটি মহল্লায়, গ্রামে, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সমাজের সর্বস্থরের প্রতিনিধিদের নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গী বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ইতিমধ্যে গতিশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কমিটির কার্যক্রমের সুফল পেতে সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার বলেন-কমিটির সাথে পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিক ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। সুতরাং ইয়াবাবাজদের আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেয়ার আর কোন সুযোগ নেই। তাদের সাথে রাষ্ট্রও কোনভাবে আপোষ করবেনা। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার আরো বলেন-টেকনাফকে ইয়াবার বিষাক্ত দুর্ঘন্ধ থেকে বের করে মায়ানমার থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে আসা লং, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতার সুগন্ধে আমরা ভরে দিতে চাই। মাদক বাণিজ্যের দুর্নাম গুছিয়ে সীমান্ত ও অন্যান্য বৈধ বাণিজের আবহে টেকনাফকে গড়ে তোলার আগ্রহ ব্যক্ত করে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার এজন্য স্থানীয় সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এ.বি.এম.এস দোহা বলেন-ইয়াবাবাজী আইন, সামাজিক, ধর্মীয়, নৈতিকতা সহ সবদিক দিয়ে অবৈধ। এ জগণ্য কারবারীরা দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের চরম শত্রু। তাই তাদেরকে ঘৃনা ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন-রাষ্ট্র ও সমাজকে ধ্বংসকারীরা রাষ্ট্রের প্রদত্ত আত্মসমর্পনের সুবর্ণ সুযোগ নানিলে তাদের যকোন মূল্যে আইনের কঠোর আওতায় আনা হবে ইনশাল্লাহ। ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের আত্মসমর্পণ কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারী, চ্যানেল-২৪ টিভি’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও সমাবেশের বিশেষ অতিথি এম.এম আকরাম হোসাইন নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলেন-ইয়াবাবাজেরা কোথাও শান্তিতে নেই। তাদের সন্তানেরা প্রায় সকলে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। যেসব ইয়াবাবাজ কারাগারে কিংবা পালিয়ে রয়েছে, তাদের ইয়াবাখোর সন্তানেরা ইয়াবা সেবনের টাকা নাপেয়ে বাড়ীতে তাদের মা ও অন্যান্য স্বজনদের এখন মারধর করছে। ইয়াবাসেবনের টাকার জন্য অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবাবাজী করে অর্জিত অর্থ তারা নিজেরা তো ভোগ করতে পারছেনা-তাদের পরবর্তী প্রজম্মও ভোগ করতে পারবেনা। কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার পূর্ব উজানটিয়ার কৃতিসন্তান সিনিয়র সাংবাদিক এম.এম. আকরাম হোসাইন রাষ্ট্রের প্রদত্ত আত্মসমর্পণের এই বিশাল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। সভাপতি’র বক্তব্যে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাঈফী টেকনাফের সর্বত্র ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন-টেকনাফের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে হুন্ডিবাজ ও ইয়াবাবাজেরা কলংকিক করেছে। এই দুর্নাম গুছানোর জন্য তিনি স্থানীয় সর্বস্থরের জণসাধারনকে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে গণপ্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান। সময়মতো ইয়াবাবাজদের প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে পুরো টেকনাফবাসীকে এজন্য চরম খেসারত দিতে হবে বলে তিনি আশংকা পোষন করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়ার আহবান জানান। সমাবেশে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, আলেম, ঈমাম, খতিব, শিক্ষক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তৃতা করেন। সমাবেশে বিভিন্ন পেশাজীবী, গণমাধ্যম কর্মী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী সহ ব্যাপক জনসমাগম ঘটে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.