টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

ওসির স্ত্রীর ঈদ খরচ সোয়া লাখ টাকা!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

patuakhali-mirjagonjঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পটুয়াখালী পুলিশের চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। এতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্থান পেয়েছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ।

এবারের ঈদে তার স্ত্রীর খরচ মাত্র সোয়া লাখ টাকা। যা ওসি আবির এরই মধ্যে তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচরে থাকা স্ত্রীর হাতে পৌঁছে দিয়েছেন।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সদস্য ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং একাধিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

রমজানের প্রথম দিক থেকেই মির্জাগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, ব্যাটারি চালিত টমটম, যাত্রীবাহী বাসের চালক, ক্ষুদে ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মামলার বাদী ও আসামিদের কাছ থেকে ওসি আবির নানা অজুহাতে খোলামেলাভাবে এ চাঁদা উপার্জন করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে।

এমনকি চাঁদার ভাগ তার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দিতে হয়েছে বলে এমন অভিযোগ খোদ থানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশিরভাগ লোকজন (দালাল) প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, কিছুদিন আগে উপজেলার একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেন ওসি আবির। পরে উপজেলার চিহ্নিত এক দালালকে দিয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছেন তার স্ত্রীর কাছে। এ ঘটনার পরের দিন অন্য এক ব্যবসায়ীর (ঢাকায় বসবাস করলেও বাড়ি মির্জাগঞ্জ) কাছে একটি দামি মোবাইল হ্যান্ডসেট চেয়ে বসেন ওসি। পরের দিন ওই ব্যবসায়ী বরিশালের সাগরদি এলাকায় ওই মোবাইল সেট নিয়ে অপেক্ষা করলে ওসির লোকজন সেখানে গিয়ে মোবাইল সেটটি নিয়ে আসে। দুইদিন সেই মোবাইল সেট নিজে ব্যবহার করে একদিন পর সেটিও গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন ওসি আবির।

চাঁদা দেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজনের এক বন্ধু গোয়েন্দা সদস্য। ফলে দুই বন্ধুর আলাপচারিতায় চাঁদার তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এরপরই ওই গোয়েন্দা সদস্য নজরে রাখেন ওসি আবিরকে। এরপর অন্যান্য গোয়েন্দাদের নজরেও চলে আসেন তিনি।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে আচমকা তিনি তার লেবাস পাল্টে ফেলেন। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, টমটম ও বাস থেকে ঈদ বখশিশের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মোট আটটি পয়েন্ট রয়েছে এমন চাঁদা আদায় করার। পয়েন্টগুলো হলো- পায়রাকুঞ্জ পশ্চিমপাড়, সুবিদখালী কলেজ চত্বর, আমড়াগাছিয়া বড় পুল, রাজাপুর, উপজেলা চত্বর, চৈতা ও মজিদবাড়িয়া। এসব স্থানে ওসি আবিরের লোক সেট করা রয়েছে। এদের মধ্যে পায়রাকুঞ্জ পশ্চিমপাড় বশির, মিঠু সাইদুর, সুবিদখালী অলি, আমড়াগাছিয়া হানিফসহ আরো অনেকে।

বিএনপির একাধিক দালাল ওসি আবিরের হয়ে চাঁদা আদায় করে থাকে। তাদের মাধ্যমে প্রতি মাসে মাসোহারা আদায় করে থাকেন তিনি। অবশ্য এক্ষেত্রে জেলার স্বনামধন্য পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে তিনি বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পায়রকুঞ্জ পশ্চিমপাড়ের ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি সন্ত্রাসী কালাই গোলজার ওসি আবিরের মির্জগঞ্জের পূর্ব এলাকার চিহ্নিত দালাল বলে পরিচিত।

তার বক্তব্য, প্রতি মাসে ওসিকে যা দেওয়া হয় তার সিকি ভাগও আমি পাইনা। কালাইর হাত থেকে স্থানীয়রা তো দূরের কথা সাংবাদিকরাও রেহাই পায়না। তাকে বিনা কারণে ওসির নামে গোপনে ও প্রকাশ্যে চাঁদা দিতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ইলিশ মৌসুমে তার গ্রামের বাড়িতে যতো ইলিশ যায় তার সিংগভাগ ইলিশই সরবরাহ করে থাকে এই সন্ত্রাসী কালাই।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মির্জাগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা। কাঠালতলী-রামপুরায় দুই বোন অপহরণ, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে মামলা, আবার টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই, সাইবার ক্রাইম, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের পায়ের ধুলো নেওয়াসহ হাজারো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আবির মোহাম্মদ  জানান, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT