টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

এরশাদকে দিয়ে ভারতীয় নীলনক্সা বাস্তবায়ন হবে না

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২৬৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১২,বিএনপি বলেছে, বর্তমান সরকার সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদকে নিয়ে গৃহপালিত বিরোধীদল সাজিয়ে সাজানো নির্বাচন করতে চায়। আর নব্বইয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে পতিত স্বৈরাচার এরশাদ আওয়ামী লীগের আশীর্বাদে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসার সেই স্বপ্নে বিভোর। এমনকি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলায় তাকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার প্রধান করা হবে এমন প্রত্যাশায় তিনিও দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু সরকার প্রধান তো দূরের কথা, সরকারি আশীর্বাদপুষ্ট গৃহপালিত বিরোধীদল হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না এরশাদের। এমন দিবাস্বপ্ন তার না দেখাই ভালো। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এরশাদের ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী এরশাদকে নিয়ে একটি গৃহপালিত বিরোধীদল সাজিয়ে নির্বাচন করতে চায়। এরশাদ দুই নেত্রীর দয়ায় এখনো রাজনীতিতে আছেন। দুই নেত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এদেশে এরশাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবে না। শুধু তাই নয়, গৃহপালিত বিরোধীদল হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না।

এদিকে ভারতের প্রচার মাধ্যমগুলোতে এখন বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে নানা বিশ্লেষণ-নিবন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে। ভারতীয় পত্র-পত্রিকার ভাষ্যমতে, সে দেশের কয়েকজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় বসাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি বিকল্প বিরোধীদল অথবা তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে। বিকল্প তৃতীয় শক্তি গঠনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারত আগামী সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে (এ) বিরোধীদল করার আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু প্রকৃতঅর্থে এরশাদকে বিরোধীদল হিসেবে দাঁড় করিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ভারতীয় ‘নীলনক্সা’ বাস্তবায়ন হবে না বলেও ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এরশাদের সারাদেশে, কোন জনসমর্থন নেই। ‘আঞ্চলিক’ নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। এরশাদের কথা এবং কাজের আগা-গোড়া কোন মিল নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদ একটি ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ (বিশ্বাসযোগ্য নয়) চরিত্র। অতীতে ২০০১-২০০৬ সালে জোট সরকারের মেয়াদের শেষদিকে তার বাসায় তারেক রহমান ও লুত্ফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি চারদলীয় জোটের শরিক হন। ২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষে এরশাদ জানান, তিনি আর চারদলীয় জোটের সাথে নেই। তিনদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি পল্টন ময়দানে শেখ হাসিনার মহাজোটে যোগ দেন।

সম্প্রতি হঠাত্ এরশাদের ভারত সফর সম্পর্কে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। দুই নেত্রীকে মাইনাস করার ফর্মুলা দেয়ার দুদিন পরই ভারত পাড়ি দেন এরশাদ। তখন মহাজোটের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি নিয়েই এরশাদ ভারত সফরে গেছেন। কিন্তু এরশাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ভারত সরকারের আমন্ত্রণেই এরশাদের এই সফর। কিন্তু কেন ভারত সরকার তাকে আমন্ত্রণ জানালো, কেনইবা ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন, বিদেশ সচিব রঞ্জন মাথাই তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়েও এরশাদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। মনমোহন সিং এরশাদকে জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পাদনে ভারত সরকার আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন এবং তারজন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও এরশাদকে বুঝিয়ে বলেছেন মনমোহন সিং। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। ইসলামী কট্টরপন্থিরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে এরশাদকে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানান মনমোহন সিং। ভারত বাংলাদেশে এমন একটি সরকার চায় যে সরকার উগ্রপন্থিদের এবং ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। এক্ষেত্রে ভারত সরকার আওয়ামী লীগকেই নির্ভরশীল মনে করে। বিএনপিকে ভারত এক্ষেত্রে ততটা নির্ভরশীল মনে না করলেও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও ভারতের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বদেশ জাগরণ পরিষদ আয়োজিত জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের প্রস্তাবনা এবং বাস্তবতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এবং বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে’ টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এমন সংবাদ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এটা সত্য। কিন্তু জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে এটা ঠিক নয়। কারণ বিএনপির আমলেই ‘বাংলাভাই’য়ের মতো জঙ্গিকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল। মোশাররফ বলেন, এদেশে জঙ্গিদের উত্থানের শুরুতেই বিএনপি তা দমন করেছে। আগামী দিনে এমন ঘটনা আবার ঘটলে অন্য কোন দল নয়, আমরাই তা দমন করতে পারবো।

স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, হেলেন জেরিন খান এমপি, খালেদা ইয়াসমিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT