টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

এমপি বদির প্রশংসনীয় উদ্যোগ/১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনাফ-মায়ানমার ট্রানজিট পয়েন্ট জেটি হচ্ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ২১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফঃ/প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনাফে-মিয়ানমার ট্রানজিট পয়েন্ট একটি জেটি নির্মিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে এসংক্রান্ত দরপত্র প্রচার করা হয়েছে। এই জেটি নির্মিত হলে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট যাত্রী পারাপারসহ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনদ্বীপগামী পর্যটকদের নিরাপদ যাত্রার পথ সুগম হয়ে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। এই জেটি নির্মানের প্রশংসনীয় উদ্যোক্তা ও রুপকার হচ্ছেন- মহাজোট মনোনীত উখিয়া-টেকনাফ থেকে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দলীয় এমপি গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের বন্ধু হিসাবে পরিচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি। আর জনগুরুত্বপূর্ণ বিশাল এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন, প্রাক্কলণ, ডিজাইনসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পাদনে প্রশংসার দাবীদার টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ আমিন উল্লাহ। জানা যায়- সরকার নাফনদীতে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট পয়েন্ট ৫৫০ মিটার জেটি নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ‘উপজেলা এন্ড ইউনিয়ন রোড লার্জ ব্রীজ কন্সট্রাকশন প্রজেক্ট’ এর আওতায় জিওবি ফান্ডের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংযোগ সড়কসহ প্রকল্পের ব্যয়-বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জেটি স্থাপনের পয়েন্ট হচ্ছে- টেকনাফ পৌরএলাকা চৌধুরীপাড়া মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাট। ১৯৮০ সনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে টেকনাফ-মংডু এই ট্রানজিট চালু হলেও দীর্ঘ ৩২ বছরেও মান সম্মত অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। স্বল্প পরিসরের একটি কাঠের জেটি দিয়ে যাত্রী পারাপার হয়ে আসছে। সরকার প্রতি বছর ভ্রমণ খাতে প্রচুর টাকা রাজস্ব আয় করলেও সংযোগ সড়কের কোন উন্নয়ন হয়নি। আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ১টি এবং সেন্টমার্টিনদ্বীপে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য ১টি জেটি রয়েছে। ২০০৬ সনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের অগ্রাধিকার তহবিল থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ উক্ত জেটি দু’টি নির্মিত হলেও টেকনাফ থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত সড়ক সমস্যার কারণে শাহপরীরদ্বীপে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটিটি যে উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল তা বাস্তবতার মুখ দেখছেনা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিন উল্লাহ জানান- গত ২৮ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে মেমো নং এলজিইডি/নিঃপ্রঃ/কক্স/৪-৩১/২০১১/৩১৪১ মূলে উক্ত জেটির দরপত্র ( নং-১৪/১২-১৩) আহবান করা হয়েছে। প্যাকেজ নং এলবিসি/কক্স/০২। দরপত্র শিডিউলের মূল্য ১৭ হাজার টাকা, টেন্ডার সিকিউরিটি ৪০ লাখ টাকা এবং কাজ সমাপ্তির সময়সীমা ৫৪০ দিন(১৮ মাস) নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারী (জিওবি) অর্থায়ণে ‘উপজেলা এন্ড ইউনিয়ন লার্জ ব্রীজ কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ এর আওতায় প্রকল্পের নাম হচ্ছে- ‘কন্সট্রাকশন অফ ৫৫০.০০ মিটার লংগ আরসিসি জেটি অন দ্য নাফ রিভার এ্যাট টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট রোড’। আগামী ৯ জানুয়ারী দুপুর ১টায় উক্ত দরপত্র খোলা হবে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এই জেটি এবং সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে টেকনাফ-মংডু যাতায়তকারী ট্রানজিট যাত্রীগণ নিরাপদে পারাপার করতে পারবে। তাছাড়া বিশেষভাবে উপকৃত হবে দেশী বিদেশী পর্যটক , শিক্ষার্থী, ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের । যারা গত কয়েক বছর ধরে নড়বড়ে ঝুকিপূর্ণ কাঠের জেটি ব্যবহার করে জাহাজে চড়ে সেন্টমাটিনদ্বীপ ভ্রমণ করেছেন, তাঁরাও এই জেটি ব্যবহার করতে পারবেন। এতে তাঁদের বাংলাদেশের সর্ব শেষ প্রান্ত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ দেখার সুযোগ হবে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ব্যবসায়িক মন্দা কেটে গিয়ে চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে। স্থানীয় সচেতন মহল এমপি বদির এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT