হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদমাদক

এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে ইয়াবা পাচার

 

 টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: মিয়ানমার থেকে বিপূল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২শতাধিক এনজিও সংস্থা মানবিক সেবা নামের কাজ আসছে। এসব এনজিও কর্মীদের অনেকে মরণ নেশা ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটের হাতে হাত মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে ইয়াবা। তারা কৌশলে এনজিও’র আইডি কার্ড প্রদর্শন করে উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্প বিচরণ করলেও দেখার কেউ নেই। এ সুযোগের সৎ ব্যবহার করে একটি চক্র ইয়াবা পাচারে লিপ্ত রয়েছে। পাচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নামি-দামী গাড়ি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, কালো গ্লাসের যাবতীয় এনজিও কর্মী বহণকারী গাড়ী তল্লাশী করার।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) ভোরে টেকনাফ সদরের কলেজপাড়া এলাকায় কক্সবাজার র‌্যাব ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে একদল র‌্যাব সদস্য অভিযান চালিয়ে ডিসিএ (এক্টালাইয়েন্স) নামে একটি বিদেশি এনজিওর মাইক্রোবাস থেকে ১ লাখ ১৫হাজার ইয়াবা সহ টেকনাফ কলেজপাড়ার আলী আহম্মদের ছেলে মীর কাশেম (৩০)কে আটক করে।
এর আগে ইয়াবা চালান নিয়ে যাওয়ার সময় এমএসএফ হল্যান্ডের নামে ব্যবহৃত এ্যাম্বুলেন্স থেকে এনজিও কর্মী শিখা রানীকে ৪৫হাজার ইয়াবাসহ মরিচ্যা বিজিবি আটক করে। তার কিছুদিন পর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সলিডারটি ইন্টারন্যাশালের ড্রাইভার আবুল হোসেন ৩হাজার ইয়াবাসহ আটক হয় মরিচ্যা বিজিবি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে উখিয়া থানা পুলিশ গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে একটি কক্সবাজারগামী বিলাস বহুল প্রাইভেট কারে সন্দেহজনক তল্লাশী চালিয়ে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ও সাইফুল ইসলাম নামের কথিত এক সাংবাদিকসহ ৪জন পাচারকারী চক্রকে আটক করে। কথিত সাংবাদিক ছাড়া অন্য ৪জনের বাড়ি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বলে পুলিশকে জানায়। তারা এখানে এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ইয়াবা পাচার করে আসছিল বলে পুলিশের স্বীকারোক্তিতে জানায়।
খোঁজ খরব নিয়ে জানা গেছে, ২৮জানুয়ারি রাতে এসিএফ ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. দেবাশিষ চন্দ্র নাথ বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট অতিক্রমকালে বিজিবি গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশী চালায়, এসময় গাড়ি সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা প্রায় ২০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া আরটিএম ইন্টারন্যাশনাল এনজিও সংস্থার ড্রাইভার বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার ইয়াবা সহ উখিয়া থানা পুলিশ আটক করে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবা পাচার হচ্ছে এমন অভিযোগে ভিত্তিতে একাধিক রোহিঙ্গা নেতারা জানান, যেসব রোহিঙ্গাদের সাথে মিয়ানমারের বিজিপি ও রাখাইন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা ছিল তাদের হাত বেয়ে এখনো মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসছে অতি সুকৌশলে। ওই রোহিঙ্গা পাচারকারী চক্রটি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে স্থায়ী ভাবে ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে ইয়াবা মজুদ করে, পরে বস্তি কেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয় ইয়াবার চালান। এভাবে ইয়াবা পাচার আগের চেয়ে আরো দ্বিগুণ বেড়েছে বলে দাবি করে ওই রোহিঙ্গা নেতারা । আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে ও রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে ইয়াবা থেকে তাদের দৃষ্টি ভিন্ন পথে ধাবিত হয়েছে। যে কারণে ইয়াবা পাচারকারী চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন এনজিও কর্মী ছদ্মবেশে অচেনা অজানা পুরুষ মহিলারা বেপরোয়া হয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছে। তাদের তল্লাশী চালানো হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে রেখে যত্রতত্র এনজিও সংস্থা নামধারী বেশ কিছু চক্র ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ইয়াবা পাচার থেকে শুরু করে এমন কোন অনৈতিক কাজ নাই করছেনা। এদেরকে হাতে-নাতে ধৃত করা না হলে এসব এনজিও নামধারী লোকেরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশির ভাগ সময় রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। এ সুযোগে পাচারকারী চক্র কিছু কিছু ইয়াবার চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ হানা দিয়ে ইয়াবা, মাদকদ্রব্য্যসহ পাচারকারীদের আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করছে ।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.