হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

এখন মেরিন ড্রাইভ যেন এক আতংকের নাম

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার::
গাড়ি চালকদের কাছে এক মহা আতংকের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ। সাগরের জোয়ারভাটার সময় ধরে কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভে আসা যাওয়া করতে হয়। না বুঝে গেলেই বিপত্তি। এই জোয়ারভাটার সময়টুকু না মেনে শহর থেকে মেরিন ড্রাইভে চলাচল করতে গিয়ে গত ৫ মাসে কলাতলী সৈকতে সামুদ্রিক জোয়ারের ধাক্কায় তলিয়ে গেছে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের ২টি গাড়িসহ সরকারি-বেসরকারি ২ শতাধিক যানবাহন। মেরিন ড্রাইভের সাথে শহরের একমাত্র সংযোগকারী সড়কটি সংস্কারের জন্য ৫ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখায় ঘটছে এ বিপত্তি।
মেরিন ড্রাইভের সাথে শহরের একমাত্র সংযোগকারী সড়ক কলাতলী গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া ১৩শ মিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ সড়কটি। কলাতলী সৈকতের পাশ দিয়ে নির্মিত মেরিন ড্রাইভটি প্রায় ২ দশক আগে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে কলাতলীর এই গ্রামীণ সড়কটিই হয়ে ওঠে বিকল্প মেরিন ড্রাইভ। প্রায় ২ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করেন কলাতলীর বিধ্বস্ত অংশ বাদ দিয়েই। ফলে মেরিন ড্রাইভের সাথে শহরের একমাত্র সংযোগকারী সড়ক হয়ে ওঠে কলাতলীর এই গ্রামীণ রাস্তাটি। এ পথে হাজার হাজার পর্যটক ছাড়াও প্রতিদিন সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলকারী দেশের ও বিদেশের ভিভিআইপিসহ স্থানীয় অধিবাসীরা চলাচল করেন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সড়কটির অবস্থা নাজুক হয়ে উঠলে কক্সবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ গত জানুয়ারি মাসের শেষদিকে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৩ মাসের জন্য সড়কটি সংস্কারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হলে শহরের সঙ্গে মেরিন ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ মেরিন ড্রাইভের বেইলি হ্যাচারি পয়েন্ট ও কলাতলী সায়মন বিচ পয়েন্টে থেকে সমুদ্র সৈকতে ওঠানামার বিকল্প কাঁচা পথ তৈরি করে দিলেও এ পথ দিয়ে যানবাহন চলাচল নির্ভর করছে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার উপর। প্রতিদিন দুইবার সামুদ্রিক জোয়ারের সময় ৫/৬ ঘণ্টা করে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, শহর ও শহরতলীর হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ খুবই দুর্ভোগে রয়েছে। এই ভোগান্তির কারণে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার প্রায় এক তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কলাতলীর ব্যবসায়ী আবুল খাইর সওদাগর বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় বাঁশ-গাছসহ নির্মাণ সামগ্রী আনতে না পেরে শত শত মানুষ তাদের বাড়িঘর সংস্কার করতে পারছে না।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি বলেন, সাগরের জোয়ারের ধাক্কায় ২টি গাড়ি নষ্ট হওয়ার পর আমাদের কর্মীদের কাছে এখন এক আতংকের নাম মেরিন ড্রাইভ। এই দুরাবস্থার কারণে আমরা কলাতলী, হিমছড়িসহ দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার গ্রাহককে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারছি না। একই কথা জানান জেলা পরিবার-পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও।
জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম বলেন, ইউজিআইআইটি প্রকল্পের অধীনে অন্য আরও দুটি সড়কের সংস্কার কাজসহ প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬৩ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হতে আরও মাসখানেক সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, বার বার প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন এবং ড্রেন নির্মাণ নিয়ে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। রমজানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরও ৪৫ দিন সময় বাড়িয়ে নতুন কার্যাদেশ দেয়া হয়। তবে, প্রকল্পটি বর্ধিত সময়েও শেষ করা যাবে কিনা-তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.