টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

একক নির্বাচনের প্রস্তুতি জাপা’র

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের দূর্গ খ্যাত কক্সবাজারের আসনগুলোতে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে মহাজোটের প্রধান আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর জাতীয় পার্টি এবার জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী দেবে বলে দলীয় সম্মেলন থেকে ঘোষণা দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে সরগরম হয়ে উঠছে জেলার নির্বাচনী মাঠ।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা চার আসনে পরিকল্পিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আ.লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে আ.লীগ। বাকি দুই আসনে বিএনপি ও একটিতে জামায়াত বিজয়ী হয়। গতবারের আসনটিসহ এবার অন্ততঃ তিন আসনে জয় পেতে চায় আ.লীগ। তবে জাতীয় পার্টি একক নির্বাচনের ঘোষনা দিলেও মহাজোটের ভোট ব্যাংকে দলটি তেমন প্রভাব ফেলবেনা বলে মনে করছেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

জেলার চার আসনেই নৌকার প্রার্থীর বিজয়ের জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের সমাবেশে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেক নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় নেতা কর্মীরা। অনুষ্ঠিত হয় ৭ সেপ্টেম্বর তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি। সেখানে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা আ.লীগের কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণাসহ দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়ে যান তারা। এর পর থেকে জেলা আ.লীগ নেতারা দফায় দফায় মিটিং-এ বসে। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর বর্ধিত সভায় ২৯৮ জন জেলা কাউন্সিলর তালিকা প্রনয়ন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের ধার্য তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা জাপা’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহা সচিব আলহাজ্ব এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আমিন শানু, যুগ্ম মহাসচিব এড. রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক লিয়াকত হোসেন খোকা ও জাতীয় পার্টির চট্রগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক সোলাইমান আলম শেঠসহ অসংখ্য নেতা। সম্মেলনের পর থেকে তারা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিনের দলীয় কোন্দলও তারা অনেকটা ভূলে গেছে।

এ দিকে সরকারের রোষানলের শিকার জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে একপ্রকার কোনঠাসা হলেও কক্সবাজারে তারা অতি সুকৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে দলীয় কর্মকান্ড। আগামী নির্বাচনী পলিসি বিষয়ে স্পষ্ট না হওয়াতে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনার বাইরে এক চুল পরিমাণ পা বাড়াবে না দলটি। এ দিক বিবেচনায় রাজনীতির মাঠ চালকেরা একেকজন একেক রকম মন্তব্য করেছেন। আওয়ামীলীগ বলছে ‘সাংবিধানিকভাবে মহাজোটের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অবশ্যই বিএনপি অংশ গ্রহণ করবে।’ বিএনপি বলছে ‘আওয়ামীলীগের পাতানো নির্বাচনে তারা যাবেনা।’ জামায়াত বলছে ‘সরকারের জুলুম নির্যাতনের জবাব সঠিক সময়ে আওয়ামীলীগ পাবে।’ আর মহাজোটে থেকেও না থাকার মত আচরণ পেয়ে এক প্রকার সরকারের কড়া সমালোচক জাতীয় পার্টি বলছে, ‘তারা প্রয়োজনে একক নির্বাচন করবে। এরপরও আওয়ামীলীগের সাথে আর কোন সংসার নয়।’ এসব মিলিয়ে পাল্টে যেতে পারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হালচাল। আসতে পারে নাটকীয় পরিবর্তন।

সুত্র জানিয়েছে, গত নির্বাচনে উখিয়া-টেকনাফ আসনটি মহাজোটের দখলে যায়। সেখানে নির্বাচিত হয় আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট নেতা আব্দুর রহমান বদি। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কারণে তাকে নিয়ে দলীয় হাই কমান্ড মারাতœক বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এমনকি তার ব্যাপারে জাতীয় সংসদে আলোচনা উঠেছে একাধিকবার। তাছাড়া সারা দেশে আওয়ামীলীগের বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। যা প্রচার মাধ্যমে অনেকবার উঠে আসে। এ কারণে মহাজোটের অনুকূলে থাকা জেলার একমাত্র আসনটিও আগামীতে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

অভিযোগ রয়েছে, এম.পি বদি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার হাতে শিক, ব্যাংকার, উকিল, রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাসহ প্রায় সব ক্যাটাগরির মানুষ লাঞ্চিত হয়েছেন। সর্বশেষ দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) বীর বাহাদুর এমপিকে পর্যন্ত টেকনাফ আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে লাঞ্চিত করে ছেড়েছেন এম.পি বদি। তিনি এমপি হয়ে মতার অপব্যবহার করে শুধু মানুষ পেটার সংস্কৃতি তৈরী করেছেন। যা আওয়ামীলীগের মতো একটি সর্ববৃহৎ রাজনীতিক ঐতিহ্যকে গর্তে পূঁতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী দলীয় নেতাকর্মীদের। এসব কারণে আসনটি অনেকটা ১৮ দলীয় জোটের অনুকূলে চলে গেছে  বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। এ লক্ষে আসনটিসহ জেলার চার আসনেই বিজয়ের টার্গেটে মাঠে তৎপর রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অন্যদিকে আওয়ামীলীগও চাচ্ছে জেলার চার আসনেই গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও আদর্শবান প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে।

আগামী জানুয়ারীতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্যতা দেখিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড.একে আহমদ হোসেন বলেন, সাংবিধানিকভাবে মহাজোটের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট তত্বাবধায়কের দাবীতে যত আন্দোলনই করুক না কেন দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সর্বশেষ বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেবে। কারণ, নির্বাচনে না গেলে বিএনপি’র যে পরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তা সহজে পুষিয়ে নেয়ার মতো নয়। আর বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তাদের নির্বাচনে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

আওয়ামীলীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির দেখিয়ে তিনি বলেন, অতি সন্নিকটের চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ সারা দেশে এ সরকারের অধীনে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ব্যালট ছিনতাই, ভোট চুরি কিংবা  কারচুপির অভিযোগ আনতে পারেনি বিএনপি। এতেই প্রমাণ হয় আওয়ামীলীগের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সাংবিধানিক ধারায় দেশ পরিচালিত হতে হবে। নির্বাচনও সংবিধানের আলোকে হওয়া চাই। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও মন্তব্য তার।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থীতা বিষয়ে এড. আহমদ হোসেন বলেন, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চার সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হবে। এতে যে যতই চেচামেচি করুক না কেন হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে তিনি এও বলেন যে, ব্যক্তি বিশেষের ইন্দনে কারো বিরুদ্ধে মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচারণা প্রার্থীতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবেনা।

জেলার চার আসনে সম্ভাব্য প্রর্থীদের নাম ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জাফর আলম বিএ (অনার্স) এম.এ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এড.সিরাজুল মোস্তফা, পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনছারুল করিম, এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সাইমুম সরওয়ার কমল, সোহেল সরওয়ার কাজল, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, কানিজ ফাতেমা মোস্তাক ও নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আব্দুর রহমান বদি, অধ্যাপক মু. আলী ও অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। তবে দলের জন্য ত্যাগী, আদর্শবান লোকদের এতে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় এ নেতা।

আওয়ামীলীগের পাতানো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা জানিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএপি’র সভাপতি সাবেক সংসদীয় দলের হুইফ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নির্দলীয় নিরপে সরকার ছাড়া ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে যাবে না। রাজনীতির ব্যানার রয়েছে এমন কাউকে তত্বাবধায়ক প্রধান তাও বয়কট করবে বিএনপি। সরকার যদি তাদের দাবী না মানে তাহলে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে এ দাবী মানতে বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের উপর দমন নিপীড়ন চালিয়ে সরকার দেশকে অন্ধকার কারাগারে পরিণত করেছে। বিনা কারণে আলেম সমাজের উপর সরকার বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। তাই জনগণের আস্থা এ সরকারের উপর নেই। এ কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগ দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইন শৃংখলা প্রচুর অবনতি হতে শুরু করেছে। দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মানুষের জান মাল ও সম্মান ভুলুন্টিত হয়েছে। উচ্ছৃংখল দলীয় ক্যাড়ার বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে গেছে দেশ। তাদের কারণে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে দেশবাসি এক সেকেন্ডের জন্যও  আওয়ামীলীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাননা। তাদের বিদায় দিয়ে নতুন সরকারের কাছে দেশ পরিচালনার ভার তুলে দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে দেশবাসি। তাছাড়া আওয়ামীলীগ ব্যাংক ডাকাতের দল। তাদের কবল থেকে দেশবাসি বাঁচতে চায় বলেও জানালেন জেলা বিএনপি’র এ নেতা।

কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মু. শাহজাহান বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর উপর যে পরিমাণ নির্যাতন চালাচ্ছে তার সঠিক জবাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা পাবে।  তিনি বলেন, ডিজিটালের দোহায় দিয়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। চরম ধর্ম বিদ্বেষপূর্ণ আচরণে দেশের মানুষ আওয়ামীলীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে আওয়ামীলীগের নখর লাগেনি। তাদের অত্যাচার নির্যাতনে দেশ আজ ক্ষত বিক্ষত। রাজনীতিতে কাল মেঘ জমা হয়েছে। এ সরকারের পতন ছাড়া নতুন সূর্য উদয়ের আপাতত কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা। এ কারণে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ফ্যাসিবাদি এ সরকারকে যে কোন মূল্যে বিদায় জানাতে হবে।

মু. শাহজাহান বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। জনপ্রিয়তা শুন্যতায় আওয়ামীলীগ রাজনীতির ময়দানে বেসামাল হয়ে গেছে। এ কারণে তারা দুদোল্যমান হয়ে রাজনীতির ময়দানে পাগলের প্রলাপ বকছেন। সময় হলে তারা পালানোর পথও খুঁজে পাবেনা। জনদাবী বিবেচনায় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে গেলে মহাজোট লজ্জাজনকভাবে পরাজয় বরণ করবে বলে মন্তব্য করেন জেলা জামায়াতের আমীর।

জেলা জাপা’র সভাপতি আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগর বলেছেন, মহাজোটের প্রধান শরীক দল হয়েও শুরু থেকে জাতীয় পার্টির সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ দেখিয়েছে আওয়ামীলীগ।  সরকার থেকে যন্ত্রণা ছাড়া কিছুই পায়নি তারা। দেশের এক সময়ের রাষ্ট্রনায়ক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মু. এরশাদ মহাজোটের ক্ষমতার শেষ সময়েও অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন। এ কারণে আওয়ামী জোটের সাথে জাতীয় পার্টি আর নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৩’শ আসনে একক নির্বাচনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে জাপা। তবে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বৃহৎ কোন জোট হলে সেখানে জাতীয় পার্টির সমর্থন থাকবে বলেও জানালেন জেলা জাপা’র এ নেতা।

আগামী নির্বাচন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন  আশা করা যায়না। তারা বল নিজের অনুকূলে রেখেই নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ এ জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গ্রহণযোগ্য পন্থায় নির্বাচন আয়োজন না করলে জাতীয় পার্টি তাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা। দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির এ নেতা।

তিনি বলেছেন. ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামীলীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েমে নেমে পড়েছে। তাদের দলীয় ক্যাড়ার বাহিনীর হাতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশের আইন শৃংখলা। হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে দেশের রাজনীতি ও সামাজিক পরিবেশ। এ কারণে দেশ এখন কঠিন অন্ধকার সময় পার করছে বলেও মন্তব্য তার।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT