হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

পর্যটনপ্রচ্ছদ

উম্মোচিত হচ্ছে সাগর পাহাড় এক সাথে দেখার সুযোগ ও পর্যটন শিল্পে নতুন দ্বার

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে::: পর্যটন শিল্পকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে দিতে আজ শনিবার কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানে সুপরিসর একটি উড়ো জাহাজে তিনি কক্সবাজার পৌছাবেন । বেলা ১১টায় কক্সবাজার – টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় আনুষ্ঠানিক উন্মুক্ত করণ ফলক উন্মোচন করবেন তিনি। সেখান থেকে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়ে বেলা আড়াইটায় মঞ্চ থেকে তিনি উদ্বোধন করবেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, সরকারী কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, সরকারী মহিলা কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন, মহেশখালী আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন।
এছাড়াও প্রধান মন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করবেন বিমানবন্দর প্রকল্পের বাকখালী খালে ৫৯৫ মিটার খুরুখুল ব্রীজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,আই টি পার্ক, টার্মিনাল, ইনস্টেলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং, নাফ ট্যুরিজম পার্ক কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) অফিস ভবন ।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো এশিয়ার এই সফল রাষ্ট্রনায়কের আগমনকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চারিদিকে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। সব মিলিয়ে কক্সবাজার বাসী এখন উদগ্রীব নিজেদের প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে। জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নেয়া জনসমাবেশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এই সমাবেশে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে । এই জন্য জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ সব নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা মাঠঘাট চষে বেড়িয়েছেন আগে-ভাগেই। তাদের সকলের প্রচেষ্টা ছিল সমাবেশের মাঠ যেন কানায় কানায় ভরে উঠে। উখিয়া টেকনাফের এমপি আবদুর রহমান বদি ও কক্সবাজার সদর রামু আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, চাওয়ার আগেই যেহেতু নেত্রী কক্সবাজারকে শুধুই দেন আর দেন, তাই সমাবেশে তাদের নির্বাচনী এলাকার সব নারী-পুরষ উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পের দৃষ্টিনন্দন সড়কের। তারপর পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হবে এই মেরিন ড্রাইভ। দিগন্ত বি¯ৃÍত সুনীল সমুদ্রের সফেন ঊর্মিমালার ছন্দে শিহরিত হিরন্ময় পাহাড়, ¯িœগ্ধ সবুজ বন বীথিকায় নান্দনিক সব দৃশ্য দেখার এই সড়ক এখন বাংলাদেশের অহঙ্কার। কক্সবাজারের কলাতলি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগরের তীর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে। সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু করে। নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় সড়কটি তৈরির কাজে। ঠিক সময়ে ব্যয় বরাদ্দ না পাওয়া তো আছেই, উপরন্তু প্রচন্ড ঢেউয়ের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করেই সড়কটি তৈরিতে ধীর গতিতে এগিয়ে যান ইসিবি সদস্যরা। পরে কাজের সুবিধার্থে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের কাজটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ২০০৮ সালের জুনে সড়কটির প্রথম পর্যায়ের কাজ সমাপ্ত হয়। ২০০৮-০৯ বছরে প্রয়োজনীয় অর্থছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজেও নেমে আসে ধীরগতি। ২০১৫ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে সড়কটির দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ ইনানি থেকে শীলখালী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সড়কটির অসমাপ্ত কাজের দায়িত্বে আসে। সদর দফতরের স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গনাইজেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্যাটালিয়ন সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করার ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই মোট ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলো। ১৭টি ব্রিজ ও ১০৮টি কালভার্টসহ মোট ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে সহস্রাধিক কোটি টাকা। সড়কটি পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত যে খুলে দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কক্সবাজার জেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত প্রায় ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছেÑ মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প। জাপান উন্নয়ন সংস্থা জাইকা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা মৌজায় ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রায় ২৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জমির দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের ৮০ ভাগ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এ প্রকল্পটি জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হবে। ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক, হেতালিয়া, কালারমারছড়া, হরিয়ারছড়া, পানিরছড়া, অমাবস্যাখালী মৌজায় ৫৬৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য মৌজা মূল্য অবিশ্বাস্যভাবে কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তজমির মালিকদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে মূল্য নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনটি অনুমোদনের পর প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এ প্রকল্প থেকে প্রায় ৮৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে আশা করছে সরকার। পর দিকে ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পেকুয়া উপজেলার করিয়ারদিয়া মৌজায় ১৫৫৭.৩৪ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে ৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী উপজেলায় ৩১ কিলোমিটার এবং পেকুয়া উপজেলায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চকরিয়া একতা বাজার হয়ে পেকুয়া-ইটমনি-বদরখালী-মহেশখালীর ইউনুচখালী থেকে কোহেলিয়া নদী পার হয়ে মাতারবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্প ইতোমধ্যেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০২ কোটি টাকা। এতে কোহেলিয়া নদীর ওপর ৬৪০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ ও ৪৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে সড়ক বিভাগ জানায়। এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটির ৩০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ১২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ, সড়ক ও ব্রিজ এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পশ্চিম পাশে সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত চার হাজার ৪০৯টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে খুরুস্কুলে ২৫৩.৩৫ একর জমিতে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখার জন্য ইতোমধ্যে মহেশখালী উপজেলাকে ডিজিটাল আইল্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোরিয়ান টেলিকম নামক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। আইওএম এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। রামু উপজেলায় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে ৮.১৬ একর জমিতে হাই টেকপার্ক স্থাপনের জন্য প্রকল্পের জমি ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজারে অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রেললাইনটি শুরু হয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও রামু উপজেলা হয়ে কক্সবাজার শহরে চলে আসবে। ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এডিবি প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে। আগামী মাসের মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এ ছাড়া টেকনাফের সাবরাংয়ে এক্সকুসিভ জোন প্রতিষ্ঠা, টেকনাফের জালিয়ার দ্বীপ ও সোনাদিয়ায় পর্যটনের জন্য বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.