হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারসাহিত্য

উপজেলা নির্বাচনে উপজেলাবাসীর প্রতি ভাইস সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদারের কিছু কথা

Sikder 1 (2)হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আমরা তোমার রহমতের প্রত্যাশী ::সালাম মসনুন : ভাল আছেন আশা করি। মুরগী কখনো খাবার খুজঁতে বাড়ীর ভেতরে যেতে পারেনি, খাবার হিসাবে গিয়েছে। আমার বেলায়ও তাই। আশির দশকে বাকশাল দিয়ে শুরু করা রাজনীতির সমাপ্তি ঘটে জামায়াত-শিবিরের মধ্য দিয়ে। মাঝখানে অনেক কিছু। দলীয় আদর্শের সাথে রাজনীতিকের স্বভাবগত গরমিলে দলীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বেড়ে যায় আমার অদম্য স্পৃহা। প্রেক্ষিতে উখিয়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের গাড়ী সমস্যা, পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতি, দখল, লুটপাট, অনিয়ম, ইউনিয়ন বিভাজন, পৌরসভার ঘোষনা, রোহিঙ্গা সমস্যা দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫বার প্রতিবাদ সভা করেছি পরিকল্পিত উখিয়া চাই পরিষদ ও সুজন’র ব্যানারে। সমস্যার অতলগহ্বরে নিমজ্জিত উখিয়াকে এগিয়ে নিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি হিসেবে যেই আন্দোলন ছিল তা দীঘির জলে কচু পাতা থেকে গড়িয়ে পড়া এক ফোটা শিশিরের মত। মানবতার অকল্যাণে ব্যথিত আমি। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্রের ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থায় আমার মানব প্রেমের স্বীকৃতি পায়নি আদৌ। হন্য হয়ে মানুষের দূরাবস্থার মুক্তি চাইতে গিয়ে অর্থবিত্তে সম্ভাবনাময় বেড়ে উঠা যৌবন পড়ে দূর্ভোগে। সুখের অনুপস্থিতি দুঃখ জেনেও চিরদুঃখী মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতে গিয়ে চক্ষুশুলের কারণ হই এ দেশের কিছু সমাজপতি, আমলাদের। ২০০০ সালে অযথা আমাকে জেলে পাঠানো হয়। জান্নাতবাসী মায়ের চোখের পানি এখনো বাড়ীর আঙ্গিনা সিক্ত। যে স্মৃতি আমাকে দাহ করছে আজও, প্রতিনিয়ত। ভোর ৪টায় পুলিশ যখন হাত কড়া পড়িয়ে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল আমার একমাত্র ছেলে ইয়াদ রাব্বি খুব কাঁদছিল। সেই কান্নার রোল এখনো বাজে আমার কানে। নিষ্টুর নিয়তি। জান্নাতবাসী বাবা চৌকি থেকে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাল হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ওই সব। তাই আমি সদা অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে। তৎকালীন ইউএনও ছৈয়দ মোজাম্মেল হকের ঐকান্তিকতায় জেল ছাড়া পাই অল্প দিনে। তার কাছে ঋণী হয়ে থাকব। সা¤্রাজ্যবাদী চেতনায় বিশ্বাসী ঘুনেধরা এ সমাজে আমি খুব অপ্রিয় স্বার্থান্দ সমাজপতিদের চোখে। তবুও আমি এই ভেবে শান্তি পাই সততা মনে শান্তি আনয়ন করে। সত্যের লজ্জা নেই, ভয় নেই, ভাবনা নেই, সেই হয় বেপরোয়া। তাই সা¤্রাজ্যবাদী তোষন নীতির বিরুদ্ধে ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বির্নিমানের লক্ষ্যে ওয়ান ইলেভেন পূর্ব সংসদ নির্বাচনে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছিলাম। নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেল। ওয়ান-ইলেভেনে কিছু দিন আতœগোপনে থাকি। রাজনৈতিকদের প্রতি ঘৃণার জন্ম নেয়। শুরু করি ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা, সেখানেও বিপর্যয়। ২০০৯ সালে আমার বোনের পারিবারিক কলহের জের ধরে সংঘটিত ঘটনায় অযথা আমাকে কক্সবাজার ও উখিয়া থানায় দু’টি মামলায় জড়িয়ে তছনছ করে দেয় আমার সব সদিচ্ছা। ভাই-বোন জেলে, আমার উপর হুলিয়া, এমনি অবস্থায় ২০০৯ সালের উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। অর্থনৈতিক সংকট, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা আপনাদের কাছে পৌঁছতে পারিনি। দূরবস্থায় অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীসহ আওয়ামীলীগের অনেকেই আমার পাশে দাড়িঁয়েছিল। আজীবন আমি তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকলাম। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শুরু করা নামাজ এখনো চলমান। ব্যক্তি জীবনে আমি পরকাল ও জবাবদিহীতায় বিশ্বাসী। তাই দলমত নয় আমি মানুষকে শ্রদ্ধা করি। সেটাই আমার জন্য কাল। দলীয় রাজনীতিতে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকায় কথায় কথায় মানুষের প্রতি মানুষ চড়াও, হয় গুম আর খুন। এই সবের জবাব কাল কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে দিতে হবে। কারণ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। রাজনৈতিক জীবনে বাঙ্গালি/বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের পেছনে ৩০টি বছর কাটাইলাম। অধিকাংশই ভোগবাদের কারখানা। সর্পের মাথায় মনি থাকলেও তা ভয়ঙ্কর। স্বর্ণের পেয়ালায় বিষ রাখলেও তা বিষ। দেশের উন্নয়ন ও মানবতার কল্যাণে নির্বাচনে দাঁড়াইলাম। অর্থাভাবে জনবল সংকট, দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থতা দেখে অনেক আপন মানুষ আমাকে ছেড়ে পালাচ্ছে। তবুও আমি ছিলাম, আছি, থাকব সকলের তরে। চোখ সব কিছু দেখে, কিন্তু নিজেকে দেখে না। পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথ সৃষ্টি করে এটাই বাস্তবতা। বিত্ত বৈভবের নেশা কখনো আমাকে তাড়িত করেনি বলেই জনকল্যাণে কাজ করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হলেও মানব সেবা আমার নেশা। সেই সেবা হবে পরকালে নাজাতের ওছিলা, এটাই আমার বিশ্বাস। জন্মের ঋণ শোধ যেমন মৃত্যু দিয়ে, আমার খ্যাতির ঋণ শোধ করতে চাই আপনাদের পরিকল্পিত উখিয়া উপহার দিয়ে। দেন না ভাই এ সুযোগটা আমায় একবার। আমি চাইনা দান-প্রতিদান, চাই না তোষামোদ, দেবনা মিথ্যা আশ্বাস, করবোনা ভঙ্গ বিশ্বাস, প্রতারণা, চাই না টাকার বিনিময়ে ভোট, আমি চাই প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ। এ প্রতিশ্রুতির জবাবে একটা ভোট কি দিতে পারেন না আমাকে ? নিজে জ্বলে আলো দিয়েছি অনেককে, আলোকিত করতে চাই উখিয়াকে। এ কাজটা দেন না ভাই আমাকে ? বিশ্বাস করুন আল্লাহর নির্দেশ পালন করাই হবে আমার কাজ। তিনিই বলেছেন-মানুষকে ভালবাস। ব্যক্তি জীবনে আমি অস্বচ্ছল বলে আমায় ভোট দিতে দ্বিধা করবেন না। টাকা সব কিছু নয়। হযরত ইব্রাহীম (আ:) কে অগ্নিকু- থেকে রক্ষা করেছিল যে আল্লাহ, সেই আল্লাহ এখনো। এরপরেও আপনাদের বলতে চাই ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, মানষিক ও দৈহিক সুস্থতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি, শারিরীক কঠোরতা ও কোমলতা, বাগ্মিতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায় পরায়নতা, উদারতা, দায়িত্ববোধ, কথা ও কাজের মিল, আতœসংযম, স্বার্থহীনতা, সত্য ও সুন্দরের পূজাঁরী সমৃদ্ধ প্রার্থীকে ভোট দিলে দেশের কল্যাণ ও আপনার মঙ্গল হবে। সেই গুনের অধিকারী যদি একজন অমুসলিমও হয়। টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি অকল্যাণ ডেকে আনবে। এর পরও টাকার অবৈধ প্রভাব, দলীয় রাজনীতির নির্দেশনায় আমাকে ভোট দেওয়া সম্ভব না হলে পরকালে জবাবদিহীতার ভয়ে অথবা দূরবস্থার ক্রন্দনে বের হওয়া এক ফোঁটা চোখের পানি, একটু দোয়া কি আমার জন্য করতে পারেন না ? আমি মানুষ ভূলের উর্ধ্বে নয়, আচরণে কেউ দুঃখ পেলে মাপ চাই, ক্ষমা করেন আমাকে, ক্ষমাই মহত্বের লক্ষণ। আমি নেতা হতে চাই না, খাদেম হতে চাই। আমি নিরাপদ লোক। মায়াচ্ছালাম।

বিনীত

নাগরিক পরিষদ মনোনীত

সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার

ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী, উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪, মোবাইল-০১৮১৫৬৭০০০১/০১৭৮১-৭০০০৮৮

সৌজন্যে : নুরুল কবির চৌধুরী, চেয়ারম্যান, রতœাপালং ইউপি, অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ, জসিম উদ্দিন, প্রো: জমিলা ট্রেডার্স, একেএম মাহমুদুল হক, সদস্য, রতœাপালং ইউপি,