হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপরিবেশপ্রচ্ছদ

উপকূলে সৃজিত ঝাউ বাগান বিলীন হয়ে যাচ্ছে

মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া :::কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপকূলে সৃজিত ঝাউ বাগান বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী চক্রের নগ্ন থাবা ও সাগরের করাল গ্রাসে দিনের পর দিন সৃজিত ঝাউ বাগান প্রকল্প উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে বিস্তৃর্ণ উপকূলীয় জনপদে বসবাসরত পরিবারগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। ঝাউ বাগান প্রকল্প রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য সংশিষ্ট বন বিভাগের উপর দায়-দায়িত্ব থাকলেও তাদের অনীহার কারনে দৃষ্টি নন্দন উপকূল বেষ্টনী খ্যাত উক্ত ঝাউ বাগান বিলুপ্তির ধার প্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের অভিযোগ।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের ফলে ব্যাপক প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে উপকূলীয় জনপদে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিচিহ্ন হয়ে পড়ে। এ সময় সরকার উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবার গুলোর পুর্নবাসনসহ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সাগর উপকূলীয় এলাকায় ঝাউ গাছ সৃজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে জেলার দীপাঞ্চল উপজেলাসহ উখিয়া-টেকনাফ উপকূলে প্রায় আড়াই লাখেরও অধিক ঝাউ গাছ সৃজন করে।

উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা সোনারপাড়া, ইনানী, চোয়াংখালী, চেপটখালী, মাদারবনিয়া ও মনখালী এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইনানী বিট কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন ও মনখালী বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসনের সাথে কাঠ পাচারকারী চক্রের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় উপকূলের ঝাউ গাছ নিধনের উপক্রম দেখা দিয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজে এসব ঝাউ গাছ ব্যবহৃত হচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফ বন রেঞ্জে দায়িত্বরত তৎকালীন সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ রেজাউল করিম মনখালী বাজার সংলগ্ন ২/৩টি বসত বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২শতাধিক ঝাউ গাছের বলি উদ্ধার করে সংশিষ্টদের জেল হাজতে প্রেরন করার ঘটনায় কিছুদিন ঝাউ গাছ কর্তন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ওই সংঘবদ্ধ বন দস্যুরা বেপরোয়া ঝাউ গাছ কর্তন অব্যাহত রেখেছে। মনখালী ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ জানান, মনখালী খালের ভাঙ্গনে প্রতি বর্ষা মৌসুমে শত শত ঝাউ গাছ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বন বিশ্রামাগার, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, মনখালী বাজার ভাঙ্গনের মূখে প্রতীয়মান। এ অবস্থায় মনখালী খালের গতিপথ পরির্তন করা না হলে বিস্তৃর্ণ উপকূলীয় এলাকার ঝাউ বাগানসহ ফসলী জমি ও কয়েকটি গ্রাম নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপকূলের ঝাউ গাছ কর্তনের ব্যাপারে আলাপ করা হলে মনখালী বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন গাছ কর্তনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লোকবল সমস্যার কারনে কাঠ চোরদের হাত থেকে ঝাউ গাছ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল রাজবংশী বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ঝাউ গাছ রক্ষনা-বেক্ষনের দায়-দায়িত্ব বন বিভাগের উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে। তিনিও একই ভাবে লোকবল সংকটের অজুহাত তুলে ঝাউ গাছ কর্তনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধূরী বলেন, বন বিভাগ তৎপর হলে ঝাউ গাছ চুরি হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, বন সম্পদ ও ঝাউ গাছ লুটপাটের নেপথ্যে বন কর্মীরা সম্পৃক্ত রয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, পাহাড় কর্তন, বন সম্পদ ও ঝাউ গাছ লুটপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহমুদুল হক বাবুল

উখিয়া, কক্সবাজার

০১৮২৬৯৮১১০৫

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.