টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উত্তর নলবিলা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সওজ“র ভাঙ্গা রাস্তা প্রয়োজনীয় কালভার্ট, ড্রেইন ও গাইড় ওয়াল নির্মাণ সময়ের দাবী মহেশখালীতে ভারী বর্ষণে রাস্তায় ভাঙ্গন যান চলাচল ব্যাহত!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৩
  • ২৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

OLYMPUS DIGITAL CAMERAশহীদুল ইসলাম কাজল, মহেশখালী####   মহেশখালী উপজেলার অতিগুরুত্বপূর্ন প্রধান দু সড়ক (এলজিইড়ি)“র জনতাবাজার শাপলাপুর-গোরকঘাটা ও (সওজ)“র জনতাবাজার-কালারমারছড়া-গোরকঘাটা সড়ক ভারী বর্ষনে ভাঙ্গনের ফলে যান চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে দ্বীপের প্রায় চার লাখ জনগন। উপজেলা প্রশাসনের সব কিছু মূল ভু-খন্ডের একেবারে দক্ষিনে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর মহেশখালীর বিচ্ছিন্ন দুটি উপদ্বীপ ধলঘাট, মাতারবাড়ি সহ পাচঁটি ইউনিয়নের জনগন বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করে থাকেন। এ অবস্থায় ভাঙ্গা রাস্তা, কালভার্ট ও খানা খদ্দে ভরা (সওজ)“র ২৭ কিঃমিঃ সড়কের বেহাল অবস্থার কারনে প্রতিনিয়ত অসহনীয় দুর্ভোগ পড়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। অন্যদিকে (এলজিইড়ি)“র জনতা বাজার-গোরকঘাটা সড়কে প্রয়োজনীয় কালর্ভাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে অনেকাংশে পাহাড়ি ঢলে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলেও দ্রƒত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রধান দু সড়কই মহেশখালীবাসির দূর্ভোগের ফাঁেদ পরিনত হয়েছে।             বিশেষ করে মহেশখালীর প্রবেশ দ্বার চালিয়াতলীর সরকারী বালুর ডেইল সংলগ্ন পানি চলাচলের ড্রেইন দখল করে  কতিপয় ব্যক্তিরা দোকানঘর নির্মাণ করার ফলে বিগত তিন বছর থেকে রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচলের কারনে বর্তমানে চালিয়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে ভাঙ্গনে  মহেশখালীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত  হয়ে পড়ে। পানি চলাচলের ড্রেইন দখল করে নির্মিত দোকানঘর গুলো বার সালের শেষের দিকে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার হোসেন  উচ্ছেদ করলেও ড্রেইনের কোন সংস্কার না করায় রাস্তার উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হয়ে ভাঙ্গছে রাস্তা, বাড়ছে জনদূর্ভোগ। এছাড়া চালিয়াতলীতে এলজিইড়ি’র রাস্তায় ব্রীক সলিনের কাজের সময় পানি চলাচলের ছোট কালভার্ট গুলো বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বসতবাড়ি, ফসলের ক্ষেত ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।            এলজিইড়ি“র রাস্তার পাশের ছড়া পাহাড়ের বালি এসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের সময় রাস্তা ও ছড়া বুঝার কোন উপায় থাকেনা। রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলেও তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ উঠেছে বিগত তিন/ চার বছরে প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মান ও সড়কের মেরামত না হওয়ায় দু সড়কে যাতায়তে  সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বর্তমানে সওজ’র আওতায় পাঁচটি কালভার্ট নির্মান কাজ প্রায় শেষ হলেও দূর্ভোগের শেষ নেই অবহেলিত মহেশখালীবাসির। বিশেষ করে নির্মানাধীন কালভার্ট সংলগ্ন বিকল্প সড়কের নাজুঁক অবস্থা, পরিবহন চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় অপচয়ের গ্যাড়াকলে  অন্তহীন দূর্ভোগে মহেশখালীবাসি। হোয়ানক, হরিয়ার ছড়া বেইলি সেতু সহ কয়েকটি  নড়বড়ে কালভার্টের কাজ না হওয়ায় বর্তমানে নির্মানাধীন কালভার্ট গুলোর কাজ শেষ হলেও মহেশখালীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

ভাঙ্গা সড়ক ও কালভার্টের অজুহাত দেখিয়ে মহেশখালীর পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের  অভিযোগ আসলেও এ নিয়ে প্রশাসনের মাথাব্যথা না থাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে পরিবহন সেক্টর। অথচ পার্শ্ববর্তী উপজেলা চকরিয়ায় একই পরিমান দূরত্বের গাড়ী ভাড়া ত্রিশ/ পচিশ টাকা হলেও মহেশখালালীতে একশ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে দেড়শত টাকা। বর্তমানে অতিরিক্ত ভাড়া অতীতের রেকর্ড চাড়িয়ে গেলেও দেখার যেন কেউ নেই। ভাঙ্গা কালভার্ট ও গর্তে ভরা সড়কের ফলে মহেশখালীতে মালামাল নিয়ে আসতে কয়েকবার গাড়ী পরিবর্তন করতে হয়, এ অজুহাত দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়িরা ইচ্ছে মতো পণ্যের মূল্য আদায় করছে বলে জানান ক্রেতারা। মহেশখালীর (সওজ)“র সড়কের বেহাল অবস্থার সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর অনেকটা তাড়াহুড়া করে ভাঙ্গা অংশের মেরামতের কাজ রমজানের শুরুতে সওজ”র উদ্যোগে হালকা ভাবে কাজ শুরু হলেও হঠাৎ থেমে যায় কাজের গতি,

আর যে সামান্য কাজ হয়েছিল তা কয়েক দিন পর ফিরে যায় সেই পুরোনো চেহারায়। এ অবস্থায় বর্তমানে চট্রগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মহেশখালীতে সরাসরি মালবাহী গাড়ী অনেকটা কমে গেছে বলে জানান মহেশখালী সেতুর ইজারাদার এমরান। সড়ক ও জনপথ (সওজ)“র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, কালভার্টের কাজ অল্প সময়ে শেষ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অতি ঝুকিপূর্ন অংশের মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, জনদূভোর্গ লাগবের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গা অংশের মেরামতের ব্যবস্থা নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।            প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানান,চালিয়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ভাঙ্গা অংশে কয়েকবার বালি দেওয়া হলেও বৃষ্টির সাথে সাথে বিলীন হওয়ায় দিনের পর দিন ভাঙ্গনের আকার বাড়ছে।  অন্যদিকে (এলজিইড়ি)“র মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, শাপলাপুর-জনতাবাজার সড়কের ভাঙ্গা অংশের মেরামত ও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট নির্মাণের বরাদ্ধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্ধ আসলে যথা সময়ে কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয় সংবাদ কর্মী স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সওজ ও এলজিইড়ি কর্তৃপক্ষ রাস্তায় গাইড় ওয়াল,ড্রেইনের সংস্কার এবং কালভার্ট না দিলে চালিয়াতলীসহ মহেশখালীর রাস্তার ভাঙ্গন কোন মতে টেকানো যাবেনা। এ অবস্থায় রাস্তার ভাঙ্গন রোধে কালভার্ট ,ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও গাইড় ওয়াল নির্মাণ সময়ের দাবী হয়ে দাড়িয়েছে।

প্রেরক, শহীদুল ইসলাম কাজল, মহেশখালী মোবাইল-০১৮১৩-৩৩৯৩২৪, তাং-২৮.০৮.১৩ ইং

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT