হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

Uncategorized

উচ্চ মাধ্যমিকের যে কারণে ফল বিপর্যয়

উচ্চ মাধ্যমিকের এবছরের পরীক্ষায় বিষয়ভিত্তিক খারাপ ফলের প্রভাব পড়েছে মূল সূচকে। পরীক্ষা ব্যবস্থা কড়াকড়ি আরোপে পাসের হার হ্রাস। তবে শিক্ষা প্রশাসন মনে করছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এমন ফলাফল স্বাভাবিক।
ফলের সূচকের হ্রাসের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মনে করছেন, উত্তরপত্র মূল্যায়ণ পদ্ধতি। গ্রুপভিত্তিক খারাপ ফল। দুই বোর্ডে মহাবিপর্যয়। ২৬ বিষয়ে সৃজনশীল। প্রতি বিষয়ে চার ভাগে পাসের বাধ্যকতা।
ফলের সূচক হ্রাস প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিজ্ঞানে জোর দিতে গিয়ে মানবিকের ফল অপেক্ষাকৃত খারাপ হয়েছে। আর খাতা ভালো করে দেখার কারণেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফল নিম্নমুখী। সব মিলিয়ে গুণগতমান ঠিক রাখতেই এ অবস্থা ।
পাসের হার নিম্নমুখী স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় সংখ্যায় আমরা বেশি এগিয়ে আছি। এখন আমরা গুণগত মানের দিকটায় গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ক্লাস নেওয়া ও ভালোভাবে পরীক্ষা নেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঠিকভাবে যেন খাতা দেখা হয়, সেদিকে নজর দিচ্ছি। যা বাস্তব, যা সত্য সেই ফল বেরিয়ে এসেছে।’
‘আমরা কাউকে নম্বর বাড়িয়ে দিতে বলি না, কমাতেও বলি না। আমরা শিক্ষকদের বাধ্য করছি সঠিক মূল্যায়নের। তবে খাতা দেখার মান ঠিক রাখতে গিয়ে, পাসের সংখ্যা কিছুটা কম হবে এটা স্বাভাবিক।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখবো। সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোও দেখবে, মূল্যায়ন করবে। কেন খারাপ হলো, আমাদের বোর্ডগুলো দেখবে। আমরা সমস্যা চিহ্নিত করবো।’
বাংলাদেশ আন্ত: শিক্ষা বের্ডো সমন্বয় সাবকমিটি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর জিয়াউল হক বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় কড়াকড়ির আরোপের কারণে পাশের হার হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ে তুলনামূলক ফল খারাপ হয়েছে। পরীক্ষায় পত্র ফাঁসের সঙ্গে ফলের সূচকের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মনে করেন তিনি।
গ্রুপ ও বিষয়ভিত্তিক খারাপ ফল :

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি ফল বিপর্যয় হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিজ্ঞানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মানবিকে কমেছে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বাণিজ্যে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ ছাড়া বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতেও পাসের হার গত বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কমেছে।
এবছর বিজ্ঞান গ্রুপে পাসের হার ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অথচ গত বছর এই হার ছিল ৮৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ বিজ্ঞানের পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিকের পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও গত বছর এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ হিসেবে মানবিকে এবছর পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আবার বাণিজ্যে এ বছর পাশের হার ৭০ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং গত বছর ছিল ৭৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ হিসেবে এ হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতেও গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে এ বছর পাসের হার ৮৬ দশমিক ১৫। গত বছর এই হার ছিল ৯২ দশমিক ১৭। রসায়নে এ বছর পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। উচ্চতর গণিতে এ বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জীববিজ্ঞান বিষয়ে এ বছর পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৬ দশমিক ৯৩ শতংশ। আইসিটিতে এ বছর পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
২৬টি বিষয়ে ৫০টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে এবছর। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে বিষয় বেড়েছে। গত বছর থেকে এমসিসিকিউ তে ১০ নম্বর কমানো হয়েছে এবং এই ১০ নম্বর যোগ করা হয়েছে সৃজনশীল প্রশ্নে। এমসিকিউ তে ১০ নম্বর কমানোয় গড় ফলে নম্বরে তারতম্য হয়েছে।
এ ছাড়া, উত্তীর্ণ হতে হলে রচনামূলক, সৃজনশীল, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথক পৃথকভাবে পাস করতে হয়। একটি বিষয়ে চার ভাগে পাস করার বাধ্যকতায় অনেক শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.