টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উখিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে সোচ্চার চেয়ারম্যানরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম বশর চৌধুরী, উখিয়া, কক্সবাজার  #### ukia ocউখিয়া উপজেলার সর্বত্র  ইদানিং একটি কথা সবার মুখে মুখে শুনা যাচ্ছে। আর তা হলো সত্য হৌক বা মিথ্যা হৌক উখিয়া থানায় টাকা ছাড়া কোন মামলা রেকর্ড হয়না। থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়ার এ কর্মকান্ড থানার সকলেই জানে। থানা এলাকায় অনেকে এ ওসিকে গিয়াস উদ্দিন মিয়া না বলে গিয়াস উদ্দিন টিয়া বলেই চেনেন। রামু থানার ওসি থাকাকালে সাংবাদিক নোমানকে পিঠিয়ে ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিকর্ত জন্ম দেয়া ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়া হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে উখিয়া থানায় যোগদানের পর থেকে চাদাঁবাজি ও ঘুষ বানিজ্যে নেমেছেন। টাকা ছাড়া কোন মামলাতো দুরের কথা কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলেননা। এ ঘুষ বানিজ্যের খবর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে ইতিমধ্যে ওসির রোষানলে পড়েছেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও  আবদুর রহিম সেলিম। গত ২৭ আগষ্ট উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় প্রকাশ্যে উখিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উত্থাপন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। জানা গেছে, বিতর্কিত ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়া উখিয়া থানায় যোগদান করে মামলা বানিজ্যে মেতে উঠেছেন। থানায় যোগদানে পর সত্য বা মিথ্যা এমন কোন মামলা নেই, যে মামলা  তিনি টাকা ছাড়া রেকর্ড করেছেন। ওসির এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান সিকদারকে দেখা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়া। তাছাড়া ওসির ঘুষ বানিজ্যের খবর পত্রিকায় প্রকাশ করায় দৈনিক কালের কন্ঠের উখিয়া প্রতিনিধি রফিকুল ইসলামকে তিনি চাদাঁবাজি মামলায় জড়িত করার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধি আবদুর রহিম সেলিমকে গত ১৫ আগষ্ট গ্রেফতার করে ওসি নির্দেশে থানায় নিয়ে যায়। পরে অবশ্য ওসির বিরুদ্ধে আর সংবাদ প্রকাশ করা হবেনা মর্মে মুছলেকা নিয়ে ছাড়া পান এ সাংবাদিক। রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ছাড়াও  গত ১৯ জুলাই উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডিগলিয়াপালং গ্রামে দুই নিকট আত্মীয়ের মাঝে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে এক প খালেদ সাগরের কাছ থেকে প্রতিপরে বিরুদ্ধে মামলা লিপিবদ্ধ করার নামে ৫ হাজার টাকা নেন । গত ২২ জুলাই উখিয়ার রতœাপালং ইউনিয়নের দুই সতিনের ছেলেমেয়েদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে এক সতিন ও ছেলেরা অপর সতিনের মেয়ে ও স্বামীকে মারধর করে অপহরণ করার চেষ্টা চালায়। এতে স্বামী জীন কান্তি বড়–য়া সহ তিন জন আহত হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংশার জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় ওসি’র একগুঁয়েমির কারণে। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা এলাকার জমিলা বেগম মুন্নি জায়গা জমি নিয়ে আদালতে মামলা করলে আদালত থানাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই জয়নাল ওসির ইন্দনে বাদী মুন্নির কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়ার পরেও প্রতিপরে কাছ থেকে অতিরিক্ত ঘুষ নিয়ে প্রতিবেদনটি আমার বিরুদ্ধে আদালতে প্রেরণ করে বলে মুন্নি জানান। গত ১৬ জুলাই উখিয়া থানার ক্যাশিয়ার নামধারী জনৈক পুলিশ কনষ্টেবল সরওয়ার স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী সহ রংপুরের পীরগাছার গরু ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে উখিয়ার কোটবাজার থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে উক্ত গরু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৩ ল টাকা ছিনিয়ে নিয়ে উখিয়ার পালং গার্ডেন নামক এলাকায় ছেড়ে দেয়। এ ঘটনাটি করা হয়েছে ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়ার নিেের্দশে। গত ২৪ জুলাই ছিনতাইকারী দলের সদস্য উখিয়ার হিজলিয়া এলাকার জনৈক আব্দুল হাকিমকে (২৮) থানার এসআই মুহিত সোনারপাড়া থেকে আটক করে। নির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে জেলে প্রেরণ না করে পুলিশ যোগসাজসে ৫৪ ধারায় চালান দেয়। গত ১৮ জুলাই উখিয়ার পূর্ব ডিগলিয়া গ্রামে জায়গা জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাদী আবু তাহেরের মামলা থানার ওসি প্রতিপরে কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উল্টো বাদীর বিরুদ্ধে মামলা লিপিবদ্ধ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশ থাকা স্বত্ত্বেও তাদের আবেদনে মামলা রেকর্ড না করায় ২৮ জুলাই আদালতে হাজির হতে হয় এ বিতর্কিত ওসিকে ।  সর্বশেষ গত ২৭ আগষ্ট উপজলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ওসির উপস্থিতিতে ওসির বিরুদ্ধে মামলা বানিজ্য সহ থানায় দালালদের পৃষ্টপোষকতা করার অভিযোগ আনেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিন আকতার, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী, রতœাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী,জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনেয়ার হোছাইন চৌধুরী, হদলিয়া পালং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু প্রমুখ। তারা সাধারন জনগনকে হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে বতৃমান ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়াকে অন্যত্র বদলী করার জন্য পুলিশ সুপার সহ উধ্বর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসব ব্যাপারে ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ২৫ লাখ টাকা খরচ করে এ থানায় পোষ্টিং নিয়েছি। দেশের কোন ওসি ঘুষ খায়না বলেন, আমি অবশ্য একটু কম নেয়, গরীব জনগনের কাছ থেকে নেয়না। আর টাকা নিলেও কাজ করে দেয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি কোন কাজ করিনা। তারা সব জানে, আমি আসার পর এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভাল হয়েছে।

এম বশর চৌধুরী উখিয়া, কক্সবাজার ০১৮২৬-১৪১৪০৪।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT