টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে

উখিয়া ডিগ্রী কলেজের বেহাল অবস্থা!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :::ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিার একমাত্র প্রতিষ্ঠান উখিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যরে অনিয়ম-দুর্নীতি, তহবিল তছরূপ, কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, কলেজের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যের বনভূমি জবর দখল, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছারিতা, ভর্তিবাণিজ্য, শিক-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার, শিার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নান অভিযোগে তার বহিস্কারের দাবীতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ােভ দানা বেঁধে উঠেছে। এ ঘটনা নিয়ে খোঁদ কলেজের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বিােভ মিছিলসহ নানা কর্মসুচী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্নীতিবাজ সু-চতুর অধ্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে আওয়ামীলীগের স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির পিছে পিছে ঘুরতে দেখা গেছে। কলেজের আয়ের কয়েক ল টাকা অধ্যরে পকেটে এবং উক্ত টাকা দিয়ে দুর্নীতির অপরাধ আঁড়াল করতে ও পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য দু’হাতে কলেজ ফান্ডের টাকা খরচ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি-১৯৯২ এর ২৪ (২) এবং ২৪(৩) তফসীলের ২নং বিধি অনুযায়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যরে জন্য ১২ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও অধ্য ফজলুল করিমের নিয়োগকালীন সময়ে সে ধরনের কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অজানা কারণে তার উপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। এছাড়াও নিয়োগকালীন সময়ে কলেজটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে থাকাকালে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ থাকলেও উখিয়া ডিগ্রী কলেজে এ নিয়ম কোন সময় বা কোন কালেই কার্যকর হয়নি। অধ্য ফজলুল করিমের অনভিজ্ঞতার কারণে পড়ালেখার েেত্র ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তেমন ফলপ্রসু অবদান রাখতে পারেনি। এসব অভিযোগের প্রেেিত গত ২০০৮ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন গভর্ণিং বডির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা আহমদ শামীম আল-রাজি দুর্নীতিবাজ অধ্য ফজলুল করিমকে তহবিল তছরূপ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর উখিয়া ডিগ্রী কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্যদের নিয়ে সভা করতে ব্যর্থ হওয়া, যৌথবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টে আনীত অভিযোগে দেখা যায়, উখিয়া ডিগ্রী কলেজের মতো উচ্চশিা প্রতিষ্ঠানে অধ্য হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার নেই। সরকারি টিন দ্বারা যাত্রীছাউনী এলাকায় দোকান নির্মাণ, যোগ্যতা না থাকা শর্তেও কম্পিউটার প্রভাষক ও তার আপন ভাইকে সহকারী লাইব্রেরীয়ান পদে নিয়োগ প্রদান, অর্থের বিনিময়ে শিক-কর্মচারী নিয়োগসহ এমনকি ১ ল ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার কথা অধ্য নিজেই স্বীকার করেছেন। কিন্তু ওই টাকা এখনো পর্যন্ত কলেজ ফান্ডে ফেরত দেয়া হয়নি। তৎকালীন অডিট কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক সবুজ শাহরিয়ার বলেন, অধ্যরে বিরুদ্ধে বনবিভাগের জায়গা দখল, কলেজ সংলগ্ন এলাকার বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের জায়গা দখল, কলেজ ফাউন্ডার বিধুভুষণ বড়–য়ার জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও শিা মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, কলেজের ব্যয় ভাউচার গভর্নিং বডি ও অর্থকমিটির নিকট থেকে অনুমোদন না নিয়ে আত্মসাৎ, ব্যয়কৃত কোন অর্থের অনুমোদনের ব্যবস্থা না নেয়া, সরকারি টিন দিয়ে দোকান নির্মাণ, অধ্যরে বাড়ির পাকঘর নির্মাণ, কলেজ বন্ধের তারিখে ভ্রমণবিল বানিয়ে হাজিরা খাতায় স্বার দিয়ে কলেজের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও দুর্নীতিবাজ অধ্য এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছে। এছাড়াও এইচএসসি পরীা চলাকালে বিভিন্ন সময় কেন্দ্রে অনুপস্থিত, ২০০২ সালে কলেজের অভ্যন্তরীন অডিট রিপোর্টে অধ্যরে অর্থ আত্মসাতের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টেও অর্থ আত্মসাৎ ও তহবিল তছরূপের প্রমাণ মেলে অধ্যরে বিরুদ্ধে। বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও কমিটির নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই ১১টি বিধি সম্বলিত নির্দেশমালা জারী করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা গ্রহণ করে অধ্য ফজলুল করিম। তাছাড়া ল ল টাকার ভাউচার অনুমোদন বিহীন রেখে নয়-ছয় এর মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজের স্বার্থে অধ্য মিথ্যা ভাউচার সৃজনে কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সুযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, কলেজ ফান্ডের ল ল ব্যাংক হিসেবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত জিম্মায় রেখে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের দৈনন্দিন ক্যাশবহি থেকে শুরু করে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ আনুষাঙ্গিক রেজিষ্টার থেকে শুরু করে কোনটিই সুষ্টুভাবে তিনি সংরণ করেনি। কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক তহিদুল আলমকে বিধি বর্হিভূতভাবে চূড়ান্ত বহিস্কারাদেশ দিয়ে মামলা সৃজন এবং কলেজের অর্থ অপচয় করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অধ্য ফ. করিমের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক বলেন, উখিয়া কলেজের মতো শিা প্রতিষ্ঠানে অধ্য নিজেই দায়িত্বপালনে অবহেলাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নিয়ে শিার্থী ও অভিভাবক মহলের মধ্যে ােভ দেখা দিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে ২০১২ সালে চট্টগ্রাম শিাবোর্ডের চেয়ারম্যান কর্তৃক দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিরত রাখে। পাহাড়সম এসব অভিযোগে দুর্নীতিবাজ অধ্য ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে ‘দৈনিক সাঙ্গু’ ও ‘দৈনিক কক্সবাজারবাণী’ পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের টনক নড়লে নড়েচড়ে বসে অধ্য ফজলুল করিম। তার অপরাধ কর্মকান্ড আঁড়াল করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের দিয়ে পত্রিকায় মিথ্যা প্রতিবাদের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হলে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে অধ্য ফজলুল করিম স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে গত শনিবার কক্সবাজারে কর্মরত ৪ জন ইলেক্ট্রিনিক মিডিয়াকর্মীকে টাকা দিয়ে তার পে সাফাই গাওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে দুপুরে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অধ্য ফজলুল করিমের দোর্দন্ড দাপটে কলেজটি পরিচালনা করে থাকে। প্রতিবছর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির নিকট থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান নিয়ে তা গভর্ণিং বডির নিকট প্রকাশ করতো না। ভূঁয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা। অধ্য নিজের অপরাধ দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়া এবং তার গুণ-কীর্তন প্রকাশ করার জন্য স্থানীয় কয়েকজন হলুদ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক উৎকোচের খাম পাঠিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও কয়েকজন ইলেক্ট্রিনিক মিডিয়া সাংবাদিকদের ভালোভাবে আপ্যায়ন এবং টুইপাশ দিয়ে পে সাফাই গেয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে অনুরোধ করেন। উখিয়া ডিগ্রী কলেজের সমস্ত দুই নাম্বারী কর্মকান্ডের হোতা বলে পরিচিত এ অধ্য ফ. করিম। প্রায় সময় সন্ধ্যার পর ১০/১৫ জন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে তার অধ্য পদটি রা করতে নানা ফন্দি-পরামর্শ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ডিগ্রী পর্যায়ের শিার্থীরা তার অপকর্মের বিষয়ে কখনো প্রতিবাদ করলে হয় বহিস্কার না হয় পরীায় ফেল করিয়ে কলেজ তাড়িয়ে দেয়। যখন যে সরকার মতায় আসে ভোল্ট পাল্টে স্থানীয় ক্যাডারদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করার কৌশলে সে অত্যন্ত পারদর্শী বলে স্থানীয়দের অভিমত। স্থানীয় শিার্থীরা মনে করেন, এখানে অনার্স কোর্স চালু মানে দুর্নীতিবাজ শিক-কর্মচারীরা লেখাপড়ার পরিবর্তে আর্থিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দু’হাতে টাকা ইনকামের রাস্তা তৈরি করছে। গ্রামাঞ্চলের মতো একটি কলেজে অনার্স চালু হলে ২/৩ জন ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া আর কেউ থাকবে না। কিন্তু শিক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর সরকারি অর্থের অপচয় ঘটাবেন।

অভিভাবকরা জানান, কলেজের অর্থের অপচয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অধ্যরে এসব অপরাধ একের এক ফাঁস হতে থাকলে এলাকাবাসী, অভিভাবকমহল ও শিার্থীরা প্রতিবাদ মুখোর হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন, উখিয়া ডিগ্রী কলেজের একটি উচ্চশিা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি দুর্নীতি পরায়ন হয়; তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিার পরিবেশ উন্নতি হবে কিভাবে? এ ব্যাপারে কলেজ অধ্য ফজলুল করিম বলেন, সকল দুর্নীতির প্রমাণিত স্থগিত করে অধ্য পদে নতুনভাবে যোগদান করেছি।  ## কায়সার হামিদ মানিক উখিয়া- কক্সবাজার ০১৮১৩-০১৯৮৩২

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT