টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উখিয়ায় হ্যাচারী শিল্পের বর্জ্য ছড়াচ্ছে সাগরে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১২
  • ২৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়া  /

                                             
উখিয়ার সোনারপাড়া থেকে কক্সবাজারের কলাতলী পর্যন্ত ৪২ টি হ্যাচারী থেকে বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন ছাড়া হচ্ছে হাজার হাজার লিটার রাসায়নিক পদার্থ। আর এতে সাগরের পানি দুষিত হয়ে জীব বৈচিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয় জনগনের অভিযোগ। যেভাবে সাগরে হ্যাচারী গুলোর বিষাক্ত পদার্থ চড়াচ্ছে তাতে সাগরের পানিগুলো বিষে পরিনত হওয়ার আশংকা রয়েছে। গত রবিবার সরজমিনে উপজেলার ইনানী ও সোনার পাড়া হ্যাচারী জোন ঘুরে জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সোনারপাড়া ইনানী পর্যন্ত ৪২ টি ছোট বড় হ্যচারী শিল্পের প্রতিষ্টান রয়েছে। এসব হ্যাচারী জোনের  মধ্যে কলাতলীর নিরিবিলি হ্যাচারী, সোনার পাড়ার সৌদিয়া হ্যাচারী, এস আলম হ্যাচারী, ডায়মন্ড হ্যাচারী, এস আর হ্যাচারী, মর্ডান হ্যাচারী, এস,কে হ্যাচারী, মক্কা হ্যাচারী, গ্রামীণ হ্যাচারী, বেঙ্গল বে হ্যাচারী, রেড়িয়েন্ট হ্যাচারী, আল আসরাফ হ্যাচারী, বৈশালী হ্যাচারী, প্যাসিপিক হ্যাচারী,বোরাক হ্যাচারী ,সী কুইন হ্যাচারী,সী কিং হ্যাচারী, সোনালী হ্যাচারী ,ইনানী হ্যাচারী,সুপার হ্যাচারী, গ্রামীন হ্যাচারী, এ আর সি হ্যাচারী,সততা হ্যাচার অন্যতম। দেখা গেছে প্রতিটি হ্যাচারী থেকে ২ টি বড় পাইপ লাইন গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে । এসব পাইপ লাইন দিয়ে হ্যাচারী গুলোতে লবনাক্ত পানি সংগ্রহ করা হয়। যাতে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিতে হ্যাচারীগুলোর উৎপাদিত চিংড়ি পোনা সংরক্ষন করা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোরাক, এস আলম , সৌদিয়া হ্যাচারীর একাধিক কর্মচারী জানান, প্রতিদিন প্রতিটি হ্যাচারীতে ৩’শ থেকে ৪’শ মন লবনাক্ত পানি সংগ্রহ করতে হয় । আর পানিগুলো সংগ্রহ করার পর  হ্যাচারীর কর্মচারীরা রাতে পোনা গুলো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে লবনাক্ত পানিতে ধুয়ে আবার  পানি গুলো পাইপ লাইনের মাধ্যমে সমুদ্রে বর্জ্যসহ ফেলে দেয়। এ হিসেবে প্রতিদিন একটি হ্যাচারী থেকে ৪’শ মন পানি সমুদ্রে ফেলা হলে ৪২ টি হ্যাচারী থেকে প্রতিদিন সমুদ্রে বিষাক্ত পানি ফেলা হচ্ছে ১৬ হাজার ৮শ মন বর্জ্য। প্রতিদিন বিপুল পরিমান বিষাক্ত পানি সমুদ্রে ছড়ানোর ফলে একদিকে যেমন সমুদ্রে মাছ শূন্যতা সহ জীববৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে।  অন্যদিকে বিষাক্ত পানিগুলো হ্যাচারী জোনের পাশের এলাকাতে মারাত্বক প্রাকৃতিক দুষনের সৃষ্টি করছে। স্থানীয় জনগনের অভিযোগ, প্রতিদিন এভাবে বিপুল পরিমান বিষাক্ত পানি সাগরে যাওয়ার ফলে সাগরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে পানিগুলো বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাছাড়া এভাবে বিষাক্ত রাসায়নিক যুক্ত পানি সাগর ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে এলাকায় ছাড়ার কারনে স্থানীয় জমিজমা গুলোতে কোন চাষাবাদ হচ্ছেনা। এভাবে নোংরা রাসায়নিক পদার্থযুক্ত পানি সাগরে ছাড়া হলে ক্ষতির কথা হ্যাচারীগুলোর কর্মচারীরা ও স্বীকার করেছে। তাদের মতে, বিষাক্ত ঔষুধ মিশ্রিত করে নোনা পানিতে চিংড়ি পোনা গুলো রাখা হয়। প্রতিদিন পানি বদল করতে হয় বাধ্যতামুলকভাবে। তাই এসব রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি ক্ষতিতো করবেই। ফলে যেভাবে সাগরে প্রতিদিন বিষাক্ত পানি ছড়াচ্ছে তাতে সংকোচিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তারা অচিরেই এ ব্যাপারে প্রসাশনের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর তা না হলে বঙ্গোপসাগরের পানি বিষে পরিণত হবে । আর হুমকির মুখে পড়বে পর্যটন শিল্প। মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটনের অপূর্ব লীলাভুমি কক্সবাজার ও ইনানীতে প্রতিবছর আসা দেশী বিদেশী লক্ষ লক্ষ পর্যটক।  এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি টেকনাফ নিউজকে বলেন, পর্যটন শিল্পের অন্তরায় ঘটবে এমন কিছু হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তদন্তের মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT