টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উখিয়ায় নিধন হচ্ছে ইনানীর ঝাউ বাগান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Pic ukhiya  27.08.13 দীপন বিশ্বাস #### কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপকূলে সৃজিত ঝাউ বাগান প্রতিদিনই নিধন হয়ে বিলীন হবার পথে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী চক্রের নগ্ন থাবা ও সাগরের করাল গ্রাসে দিনের পর দিন সৃজিত ঝাউ বাগান প্রকল্প উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে বিস্তৃর্ণ উপকূলীয় জনপদে বসবাসরত জেলে পরিবারগুলো শংকিত হয়ে পড়ছে। ঝাউ বাগান প্রকল্প রনা-বেনের জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উপর দায়-দায়িত্ব থাকলেও তাদের অনীহার কারনে দৃষ্টি নন্দন উপকূল বেষ্টনী খ্যাত ঝাউ বাগান বিলুপ্তির ধার প্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে পরিবেশবাদী সচেতন মহলের অভিযোগ। জানা গেছে, ১৯৯১ সালে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের ফলে ব্যাপক প্রাণহানী ও য়তির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে উপকূলীয় জনপদে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিচিহ্ন হয়ে পড়ে। এ সময় সরকার উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবার গুলোর পুর্নবাসনসহ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ল্েয সাগর উপকূলীয় এলাকায় ঝাউ গাছ ও নারিকেল গাছ সৃজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে জেলার দীপাঞ্চল উপজেলাসহ উখিয়া-টেকনাফ উপকূলে প্রায় আড়াই লাখেরও অধিক ঝাউ ও নারিকেল গাছ সৃজন করে। সম্প্রতি উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা সোনারপাড়া, ইনানী, চোয়াংখালী, চেপটখালী, মাদারবনিয়া ও মনখালী এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী চক্র উপকূলের ঝাউ গাছ কেটে পাচার করছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজে এসব ঝাউ গাছ ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় মনখালী বন রা সহায়ক কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় কতিপয় চিহ্নিত কাঠ পাচারকারী চক্র ঝাউ গাছ কর্তন করে তাদের বসত বাড়ীতে মজুদ করে। সুযোগ বুঝে এসব ঝাউ গাছ সড়ক পথে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে দেয়। তিনি আরো বলেন, উখিয়া-টেকনাফ বন রেঞ্জে দায়িত্বরত তৎকালীন সহকারী বন সংরক মোঃ হোছাইন মনখালী বাজার সংলগ্ন ২/৩টি বসত বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২শতাধিক ঝাউ গাছের বল্লি উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের জেল হাজতে প্রেরন করার ঘটনায় কিছুদিন ঝাউ গাছ কর্তন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ওই সংঘবদ্ধ বন দস্যুরা বেপরোয়া ঝাউ গাছ কর্তন অব্যাহত রেখেছে। মনখালী ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ জানান, মনখালী খালের ভাঙ্গনে প্রতি বর্ষা মৌসুমে শত শত ঝাউ গাছ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বন বিশ্রামাগার, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, মনখালী বাজার ভাঙ্গনের দ্বারপ্রান্তে। এ অবস্থায় মনখালী খালের গতিপথ পরিবর্তন করা না হলে বিস্তৃর্ণ উপকূলীয় এলাকার ঝাউ বাগানসহ ফসলী জমি ও কয়েকটি গ্রাম নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। উপকূলের ঝাউ গাছ কর্তনের সত্যতা স্বীকার করে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল দেব রায় বলেন, লোকবল সমস্যার কারনে কাঠ চোরদের হাত থেকে ঝাউ গাছ রা করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০০৪ সাল থেকে ঝাউ গাছ রনা-বেনের দায়-দায়িত্ব বন বিভাগের উপর ন্যাস্ত করা হয়। চেষ্টা চলছে কিভাবে নিধন বন্ধ করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধূরী বলেন, বন বিভাগ তৎপর হলে ঝাউ গাছ চুরি হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, বন সম্পদ ও ঝাউ গাছ লুটপাটের নেপথ্যে অসাধু বন কর্মীরা সম্পৃক্ত রয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড় কর্তন, বন সম্পদ ও ঝাউ গাছ লুটপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT