টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
বান্দরবানে রোহিঙ্গা ‘ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রামুতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু দেশের ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: গ্রেডিং বিহীন সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলা বাতিল চাওয়া আবেদনের শুনানি ১০ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর উদ্যোগঃ নগদ’এ ক্যাশ আউট হাজারে ৯.৯৯ টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন জাল নোট ও ইয়াবা নিয়ে এক নারীসহ ৩ জন রোহিঙ্গা আটক সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষক পদে আবেদন করবেন যেভাবে

উখিয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পের গরীবের টাকা আ’লীগ নেতাকর্মীর পকেটে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২
  • ১১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এ এইচ সেলিম উল্লাহ,…কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পের নামে চলছে ব্যাপক লোপাট। বলতে গেলে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে খেটে খাওয়া লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকের তালিকায় সরকার দলীয় লোকজনের নাম তুলে গরীবের টাকা নিয়ে যাচ্ছে আ’লীগ নেতাকর্মীরা। কর্মসৃজনের শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে ৫দিন কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ২ দিন কাজ করে ৫ দিনের টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব অপকর্মে সহায়তা করে আসছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালনাকারী কতিপয় লোকজন। খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত বলে একাধিক শ্রমিক সাংবাদিকদের জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের অনুুকুলে  ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় খাদ্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রাণালয়। প্রতিজন শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমের বিনিময়ে গড়ে ১৭৫ টাকা মজুরীতে ৫ ইউনিয়নের ২ হাজার ৫’শ ৯২ জন কর্মক্ষম নারী পুরুষ শ্রমিক কর্মসৃজন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ৭৮২ শ্রমিকের জন্য ৫৪ লাখ ৭’শ ৭৪ হাজার টাকা, জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১০ প্রকল্পের বিপরীতে ৫০০ শ্রমিকের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা, পালংখালী ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৬০ জন শ্রমিকের জন্য ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, রতœা পালং ইউনিয়নের ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৫০ জন শ্রমিকের জন্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার ও হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৬০০জন শ্রমিকের জন্য ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু একজন শ্রমিক দৈনিক ১৭৫ টাকা করে মজুরী পাবেন। কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করে তার প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করার কথা রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রতি সপ্তাহে ৫দিন কাজের মধ্যে ২দিন কাজ করেছে বলে জালিয়া পালং ও রাজাপালং এর শ্রমিক আবু ছিদ্দিক, ফারুক আহামদ সাংবাদিকদের জানান। এ চিত্র রতœাপালং, হদলিয়া, পালংখালী ইউনিয়নেও । নামেমাত্র মাস্টার রোল করে সরকার দলীয় লোকজনদের নাম ব্যবহার করে কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা লোপাটের মহোৎস চলছে। এ দিকে এ ব্যাপারে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দাবী , কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ সুন্দরভাবে চলছে।

গত দুদিন উপজেলার  রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল খাল কাচা পাড়া হতে পিনজি সড়ক, পিনজীরকুল ঘোনার পাড়া রাস্তা, কবরস্থান, উত্তর পুকুরিয়া কামারিয়ার বিল, দক্ষিণ পুকুরিয়া খাল কাচাও চেংখোলা, পালংখালী ইউনিয়নের চাকমাপাড়া, ফারিরবিল, রহমতের বিল, হদলিয়া পালং ইউনিয়নের গোয়ালিযা, গুরাইয়ার দ্বীপ, হলদিয়া-পাতাবারী, নাপিতপাড়া, বউবাজার, রতœাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা, ভালুকিয়া, মাতবরপাড়া, তেলীপাড়া ঘুরে কাজ শ্রমিক ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথম ২ দিন প্রকল্পগুলোতে বেশীর ভাগ তালিকাভুক্ত শ্রমিকের অংশগ্রহন ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইউপি সদস্যরা সরকার প্রকল্পের কাজ স্থগিত ঘোষণা করেছে মর্মে শ্রমিকদের আর কাজ করতে হবে না বলে তাড়িয়ে দেয়। শ্রমিকদের প্রথমে ২ দিনের টাকা দিলেও ব্যাংক থেকে বাকী টাকা দেওয়া হয়নি এ পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুল হক আযাদ সাংবাদিকদের জানান, কোথাও কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ হচ্ছেনা। শুধুমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। ভাগ ভাটোয়ারা করে নেওয়া হচ্ছে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখো টাকা।

উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীরা কাজ না করে লুটপাট করলে আমার কিছুই করার নেই। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আর কেউ কোন অভিযোগও আমার কাছে করেনি এখনো পর্যন্ত। অভিযোগ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি যোগদান করেছেন। এ পর্যন্ত  কোন ধরণের অনিয়মের অভিযোগ তিনি পাননি এবং পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ এইচ সেলিম উল্লাহ

০১৮১৭১২০৬০৬

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT