হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদরোহিঙ্গা

উখিয়া- টেকনাফ নিয়ে বহুমুখি ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখা জরুরি

টেকনাফ নিউজ ডেক্স::
টেকনাফ-কক্সবাজার উপকূলবর্তী বাংলাদেশে দীর্ঘদিন থেকে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে প্রমাণ মিলেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যাতে ব্যর্থ হয় সেজন্য বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত প্রত্যাবাসন বিরোধী একটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। চক্রটি রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে ফেরত না যায় সেজন্য ক্যাম্পে বিভিন্ন অপকর্ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অশান্ত করে তুলছে ক্যাম্পগুলো। এর সঙ্গে কিছু এনজিও তাদের ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে। জানা গেছে, বর্তমানে শিবিরগুলোতে আল ইয়াকিন নামের একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ বেশ সক্রিয় রয়েছে। আল ইয়াকিন নামের সংগঠনটির বেশির ভাগ রোহিঙ্গা আগে আরএসও নামক সংগঠনে ছিল। আল ইয়াকিন সংগঠনকে রোহিঙ্গাদের অনেকেই আরসা হিসেবেও বলে থাকে। সংগঠনটিতে রয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তরুণ ও যুবক। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে আল ইয়াকিন বা আরসা নামের সশস্ত্র সংগঠনটি একটি বড় ধরনের আতঙ্কের নাম। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের কাছে আরেক ত্রাস হিসেবে পরিচিত হচ্ছে ‘ডাকাত বাহিনী’। ডাকাত বাহিনীটি আবার ‘নবী হোসেন বাহিনী’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি শিবিরেই রয়েছে রোহিঙ্গা ডাকাত নবী হোসেন বাহিনীর তৎপরতা। গতকালের ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল শুরু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই আরএসও, আরাকান আর্মি, আরসা ও আল ইয়াকিন নামের অনেক সশস্ত্র গ্রুপের নাম উঠে আসতে শুরু করে। তখন অভিযোগ ওঠে, শরণার্থীদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে ওই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লিখিত দলগুলোর বাংলাদেশে তেমন অস্তিত্ব না থাকলেও এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রাজত্ব কায়েম করছে আল ইয়াকিন নামের সন্ত্রাসী গ্রুপটি। এই দলের কারণে প্রায়ই ঘটছে হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সব ধরনের জঘন্য অপরাধ। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার পেছনেও আল ইয়াকিন বাহিনী জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। টেকনাফ-উখিয়ার ৩২টি ক্যাম্পেই রাজত্ব করছে আল ইয়াকিন বাহিনীর সদস্যরা। দিনের বেলা সাধারণ রোহিঙ্গার বেশ ধরে থাকলেও সন্ধ্যার পর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তারা। গত দুই বছরে টেকনাফ ও উখিয়াতে ৪২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গেই আল ইয়াকিন বাহিনী জড়িত বলে জানা গেছে। এমন ঘটনা দেশের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া উন্নয়নসমৃদ্ধ দেশকে রোহিঙ্গা নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে কিনা খতিয়ে দেখা জরুরি মনে করছি। আমরা দেখছি যতই দিন যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আচার-আচরণে ততই পরিবর্তন আসছে। এ জন্য একটা সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, বিদ্যমান অবস্থা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে স্থানীয় অধিবাসীদের রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমের প্রতি সরকারের নজরদারি আরো বৃদ্ধি করতে হবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.