টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উখিয়ার অর্ধশতাধিক মানুষের হদিস নেই, নেপথ্যে ৬২ দালাল

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৬৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

উখিয়ার অর্ধশতাধিক মানুষের হদিস নেই, নেপথ্যে ৬২ দালাল

কক্সবাজার: সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া কক্সবাজারের উখিয়ার অর্ধশতাধিক মানুষের কোনো হদিস পাচ্ছে না স্বজনরা। চিহ্নিত ৬২ দালালের হাত ধরে এসব মানুষ অজানা উদ্দেশে পাচার হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং গ্রামের ছৈয়দ নুরের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৭) গত ২০১৩ সালের ৫ জুন সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রা করে। এরপর থেকে ওই কিশোরের কোনো সন্ধান মিলছে না।
ইব্রাহিমের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে এ ঘটনায় উখিয়া থানায় অভিযোগও দায়ের করেছে।
ফাতেমা বেগম বাংলানিউজকে জানান, একটি চক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে গোপনে তার সন্তানকে মালয়েশিয়ার নামে পাচার করে দেয়। এর জন্য তিনি একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ ইলিয়াসের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন (৪৫), ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ মামুন (২১), জামাতা মোহাম্মদ হান্নান (৪০), মৃত কাদির হোছনের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ (৫০), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাম্মস আলীকে (৪৭) দায়ী করছেন।
তিনি বলেন, ‘এসব দালালরা তারা সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে।’
কুতুপালং সংলগ্ন কচুবনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে মোক্তার আহমদ বাংলানিউজকে জানান, ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই তার গ্রামের জালাল মিয়া (৩০), শাহ জাহান (২০), রিপন বড়ুয়া (১৫), মিকু বড়ুয়া (২০), সুপন বড়ুয়া (১৭), অনিল বড়ুয়া (৩২), রিবন বড়ুয়া কহলু (২৬), নিপন বড়ুয়া (২০), খলিলুর রহমানদের (৪৮) সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচার হয়। এখানো তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একই ভাবে গত আগস্ট মাসে কুতুপালং এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে কামাল উদ্দিন ড্রাইভার (২৮),  মৃত আশরফ আলীর ছেলে আব্দু শুক্কুর (৩০), মৃত আবুল হোছনের ছেলে জামাল উদ্দিন (২৭), লম্বাঘোনা এলাকার শামশুল আলমের ছেলে ইসমাইল (৩০) মালয়েশিয়া যাত্রা দিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি মালয়েশিয়া যাত্রা দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন, ছোয়াংখালী গ্রামের আলতাজ মিয়ার ছেলে নুরুল কবির (২৮),  মকবুল হোছনের ছেলে নুরুল হুদা (১৯), ছৈয়দ করিমের ছেলে মফিজ আলম (২০), মৃত তাজর মুল্লুকের ছেলে ছৈয়দ করিম (৫০), মরিচ্যা গ্রামের রশিদ আহম্মদের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৫)। এ ঘটনায় মৃত নুরুন্নবীর ছেলে আলতাজ মিয়া বাদী হয়ে মোজাম্মেল নামের এক দালালকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করলেও আদম পাচারকারী দলের মূলহোতা মোজাম্মেল থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে।
আলতাজ মিয়া বাংলানিউজকে জানান, সম্প্রতি তার ছেলেসহ অন্যন্যরা থাইল্যান্ড কারাগারে বন্ধি থাকার খবর পেয়েছেন তিনি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন মিয়া বাংলানিউজকে জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি  সাগর পথে মালয়েশিয়া গমন করে নিখোঁজ হয়ে যায় তুতুরবিল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সিরাজুল হক (২৮)।
আবুল কাশেম বাংলানিউজকে জানান, তার ছেলে শ্রীলংকার মিরাখানা ডিটেনশন কারাগারে বন্দি থাকার খবর পেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে কোনো কাজ হয়নি।
একই ভাবে আরো ৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে মালয়েশিয়া গমন করে। আর এর জন্য নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারীও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়ার চিহ্নিত কেন্দ্রীয় ৬২ জন দালাল এ মানব পাচারে জড়িত রয়েছে। আর এসব দালালদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় রয়েছে মানবপাচার মামলাও।
উখিয়া থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর রাত ১টায় উখিয়ার জালিয়া পালং ইউনিয়নের রূপপতি গ্রামের মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে আব্দুল গফুরের (৩৮) বাড়িতে মালয়েশিয়া আদম পাচার করার জন্য লোকজন জড়ো করলে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ধাওয়া করে ৯ জন দালালকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাঈদ মিয়া বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার দালাল হিসেবে আসামিরা হল, টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে নুর হোছন (২৪), মৃত জমির হোসনের ছেলে নাগু (৩৫), টেকনাফের নাজির পাড়া গ্রামের মৃত মনি উল্লাহর ছেলে কামাল (৩০), কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের আলী আহম্মদের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৮), আমিন উল্লাহ নাগুর ছেলে ফারুক (১৯), শামশুল আলমের ছেলে জোবাইর হোসেন (২০), কক্সবাজার কালুর দোকান এলাকার রোহিঙ্গা জুহারের ছেলে মনজুর আহম্মদ (১৮), কাশেম (৪০), জাহিদ হোছনের ছেলে আবুল কালাম (২৬), চট্টগ্রাম কর্ণফুলি চিরার টেক গ্রামের রোহিঙ্গা আজিম (৩৬), উখিয়ার রূপপতি গ্রামের জমির মিয়া, গফুর মিয়া (৩৮)।
২০১২ সালের ২০ নভেম্বর রাতে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ইনানী পুলিশ দু’জন দালালকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দালাল হল, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের সেকান্দরের ছেলে আবু ছৈয়দ (২৬), আবু ছিদ্দিক (৩০), চোয়াংখালী গ্রামের শামশুল হকের ছেলে ছলিম উল্লাহ (৩০), মাদারবুনিয়া গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল (২৫)।
২০১২ সালের ২৫ নভেম্বর আরেক অভিযানে পুলিশের দায়ের করা মামলা দালালরা হলো- জালিয়া পালং ডেইল পাড়া গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে আবু তাহের (৩৫), আহম্মদ হোছনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৮), রফিক উল্লাহ (৩০), রহমত উল্লাহ (৩২) কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মৃত ফোরকান আহম্মদের ছেলে রবিউল আলম (২২)।
একই ভাবে ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর অভিযানের মামলায় পশ্চিম সোনার পাড়া গ্রামের শামশুল আলমের ছেলে জালাল উদ্দিনের (২৮), বাড়িতে কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের মৃত ফারুক আহম্মদের ছেলে ছৈয়দ আমিন (২৭), হাছু মিয়ার ছেলে হামিদ হোসেন (২২), জাফর আহম্মদের ছেলে আরিফ উল্লাহ (২০), শফি উল্লাহর ছেলে ছৈয়দ কাশেম (১৯), কামাল হোছনের ছেলে রশিদ উল্লাহ (২০), উলা মিয়ার ছেলে কালু (২০), সোনার পাড়া গ্রামের মির আহম্মদ মিরু বলির ছেলে শফিউল আলম (৩০), নাজির হোছন নাজুর ছেলে জয়নাল আবেদিন (২৮), শামশুল আলমের ছেলে জালাল উদ্দিন (২৮)।
২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর অভিযানের মামলায়  টেকনাফের শাপলাপুর পুরান পাড়ার শফি উল্লাহর ছেলে আশিক উল্লা, (২০), শহীদুল্লা (৩২), শফি উল্লা (৬০)।
২০১৩ সালের ১১ মার্চ অভিযানের মামলায় সোনার পাড়া গ্রামের নুরুল কবির (৪০), নুরুল কবিরের ছেলে নুরুল আবছার (২০), বশির আহম্মদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫), ইলিয়াছের ছেলে সাগের আলী সাগর (৩০), নুরুল আলম মাঝি আলম (৩৫), সোনাইছড়ি গ্রামের সোলতান হাতী সোলতানের ছেলে জিয়াউল হক (৩৮), শফি আলম (৩৮)।
২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট অভিযানের মামলায় মনখালী গ্রামের বশরত আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোছন ফেসুক্রুরী (৪৫), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দু রাজ্জাক (২৮), ফয়সাল (৩২) ও মোহাম্মদ হোছন (৩৫) দালাল হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত ছাড়াও মোহাম্মদ শফির বিল গ্রামের মোজাফ্ফর আহম্মদের ছেলে মনজুর আলম (২৯), মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে আব্দুস ছালাম (৩০), মৃত নুর আহম্মদের ছেলে জমির আহম্মদ (৩০), রামু এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মোস্তাক আহম্মদ (৪২), চোয়াংখালীর কালা মিয়ার ছেলে জাহেদ মেম্বার, মনখালীর মনির আহম্মদের ছেলে নুরুল আবছার ধইল্লা (৩৮), রূপপতির ইসলাম মিয়ার ছেলে আব্দুস ছালাম (৩৬), চেপটখালীর শাকুরানের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৫), নবী হোছন (৪২), থাইংখালী রহমতের বিল গ্রামের আলতাজ আহম্মদ (৪০), শাপলাপুর বাহার ছড়া গ্রামের শামশুল আলম প্রঃ বাঘ শামশু মানব পাচারে জড়িত রয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন মিয়া বাংলানিউজকে জানান, মানবপাচারের মামলায় অভিযুক্তসহ উখিয়া কেন্দ্রীক দালাল ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মানবপাচার বন্ধ করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৮০৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৩ এনএ/এসএইচ/আরআইএস

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT