হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

পর্যটনপ্রচ্ছদ

ঈদে হাসে নি ইনানী সাগরকন্যা

এম,এস রানা উখিয়া ::: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও দুই শুক্র-শনিবারের দীর্ঘ ৯ দিন ছুটিতেও জমে উঠেনি পর্যটক কেন্দ্র গুলো, পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেনি সাগরকন্যা, ইনানী সৈকত ছিল প্রায় পর্যটক শুন্য, যারা এসেছিল তাদের পদে পদে গাড়ী বিড়ম্বনা সহ বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে ব্যাপক।
কর্মব্যস্ত হাজারো মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনে একটি দীর্ঘ ছুটির আশায়, প্রিয়জন, পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে এসে নিজেকে প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দিয়ে একটি বিশুদ্ব আবহাওয়ার শান্তির নিশ্বাঁস নিতে। সেই লক্ষে দেশ বিদেশের হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসো মানুষ ছুটে আসে প্রাকৃতিক সুন্দয্যের লীলাভুমি কক্সবাজারে।
দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের আবাস ভুমি কক্সবাজারের প্রধান দর্শনীয় স্হান ইনানীর পাথুরে বীচ বিকেল বেলার ভাটার টানে ভেসে উঠা সারি সারি পাথুরের মেলা তাতে লাল কাঁকড়া ও রং বেরং ঝিনুকের লোকুচুরি খেলা দর্শনার্থীদের বার বার ফিরিয়ে আনে এই ইনানী সৈকতে,  এছাড়াও সাগরের ঝাউবীথির গুন-গুনে গানের মাঝে হিমেল হাওয়া যে হৃদয়ে পরশদিয়ে যায়।  মানব প্রেমের অনান্য দৃষ্টান্ত টেকনাফের মাথিনের কূপ, দেশের বৃহত্তর বৌদ্ব মুর্তির শহর রামু রামকুট, রয়েছে- পাহাড় বেয়ে বয়ে চলা আরেক পাকৃতিক হিমিল জলধারা হিমছড়ি ঝর্না সহ আকাঁ বাকাঁ পাহাড়ি গাঁ ঘেষে নির্মিত মেরিনড্রাইভ সড়ক, সম্প্রতি মাননিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আনড়ম্বন, ঝাক জমকপুর্ন অনুষ্টানের মাধ্যে উদ্বোধন করে পর্যটক শিল্পের উন্নয়নের দ্বার খুলে দিয়েছে।  যা দিয়ে চলতে চলতে অবলোকন করা যায় সাগর এবং পাহাড়ের অপরোপ সুন্দয্য, রয়েছে দেশের বিলাস বহুল, বিভন্ন কারুকায্যে দৃষ্টিনন্দন মডেল করা ও বহুতল হোটেল।  লাখো আগন্তুকের প্রত্যাশায় কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের পরিশ্রম প্রচেষ্টা ও হাতের ছোঁয়াই সাঁজানো স্বপ্নভুমি ও প্রকৃতির মনোরম পরিবেশের ডাকে সাড়াদিতে প্রতি বছর লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটলেও এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পথচারনে তেমন মুখরিত হয়নি সাগরকন্যা ইনানী পাথুরে সৈকত।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা তাদের স্বজনদের নিয়ে সৈকতে আসার সংখ্যা তুলনামূলক অনেকটা কম, তবে এবারের ঈদের ছুটিতে স্হানীয় ভ্রমন পিপাসো বাসিন্ধাদের কোলাহল ছিল চোখে পড়ার মত, তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে ইনানী সাগর পাড়। দেশের দুর দরান্ত থেকে সৈকতে এবারে তুরনামূলক পর্যটক কম আসার কারন হিসেবে বর্ষা মৌসুমের বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকার বিষযকে দায়ী করছে সৈকতপাড়ের অনেক ব্যবসায়ীরা, তাদের আক্কেপ যদি ঈদটা শুষ্ক মৌসুমে হতো। বৈরী আবহাওয়াকে তোয়াক্কা না করে  যারা এসেছিল তাদের পথে পথে গাড়ি বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে, ঈদের দোহাই দিয়ে আসাধু গাড়ি চালকরা ভাড়া আদায় করছে দ্বিগুন।
ইনানী বটতলী ষ্টেশন থেকে ইনানী সৈকত পাড়ের দৌরত্ব প্রায় দুইশত গজ এরেই মধ্যে সৈকতে অবৈধ ভাবে দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসাধ ব্যবসায়ীরা সাধারন পর্যটকদের গলাকেটে তারা বিভিন্ন পন্যের দাম আদায় করে নিচ্ছে দিগুন। সরেজমিনে দেখা গেছে এক থেকে দেড় লিটারী পানি বিক্রি করছে ৩৫/৪০ টাকা, দুই লিটারী পানির দাম আদায় করছে ৪৫/৫০ টাকা, সাধারন একটি ডাব বিক্রি করছে ৭০/৮০ টাকা এভাবে প্রতিটি পন্যের উচ্চ মুল্যের কারনে পর্যটকরা এক প্রকার অসহায়। তবুও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ইনানী সাগর কন্যার গর্জন করে আহবান করছে এসো প্রকৃতির মাঝে, প্রকৃতি আমার মাঝে লুকিয়ে আছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.