টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঈদের কেনাকাটা : মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৩
  • ১৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

timthumb‘শাড়ী’ শব্দটি উচ্চারণমাত্রই বাঙালি রমণীর মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শাড়ির প্রতি অনুরাগ নেই, এমন বাঙালি নারী খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। বাঙালি সংস্কৃতি অনুসারে নারীর জীবনে শাড়ি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এবারের ঈদ বাজার সরজেমিন ঘুরেও শাড়ির প্রতি নারীর দুর্বলতার সেই চিত্রই দেখা গেছে শহরের শপিং কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে ফুটপাত র্পযন্ত। অপরদিকে ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঐ দিনে নতুন পোষাক কার না চায়? আর প্রিয় পোষাক যদি হয় হিন্দী নাটক অথবা সিনেমার অভিনেত্রীর পরিহিত ডিজাইনের কাপড় তাহলে আর কথাই নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নাটক ও সিনেমার প্রতি বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরা এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে যেন ওই নাটক এবং সিনেমার অভিনেত্রীদের পোষাকের ডিজাইনটাই সবচেয়ে ভাল ডিজাইন। আর এদিকে ব্যবসায়িরাও সুযোগ কাজে লাগিয়ে হিন্দী নাটক-সিনেমায় ব্যবহ্নত ডিজাইনেই পোষাক তৈরী ও নামকরণ করছে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ি। তরুণ তরুণীরা ঝুকে পড়েছে ওই পোষাকের দিকে। গতকাল বৃষ্টির কারণে সকাল থেেক দুপুর র্পযন্ত  ক্রেতাদরে ভিড় ছিল কম। দুপুরের পর থেেক ক্রেতারা যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে পোশাকের দোকানগুলোতে। ক্রেতার চাহদিা অনুযায়ী পোশাকের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয় দোকানিদের। কিন্তু এতেই খুশি বিক্রেতারা। কারণ গত শনিবারও বৃষ্টির কারণে তাঁদের বেচাবিক্রি তেমন ভালো হয়নি। শহরের ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায় নারীদের প্রধান চাহিদা শাড়ী। টেকপাড়ার রুবি আকতার জানিয়েছেন তিনি শাড়ি তেমন ব্যবহার করেন না। তবে ঈদের দিনের জন্য একটি নতুন শাড়ি চাই। তাই একটি পছন্দের শাড়ি কিনতে এসেছি। বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের শাড়ির দোকান গুলোতে মধ্যম বয়সী নারীদের ভীড় লেগেই আছে। সবার একই সুর অন্ততঃ ঈদের দিনের জন্য হলেও একটি শাড়ি চাই। ব্যবসায়ীরাও তাদের এ চাহিদাকে পুজি করে হাঁকাচ্ছেন বেশী মুল্য। শহরের সী-কুইন মার্কেটে চমক নামে একটি বিপনী বিতানের মালিক জানান, নারী ও শিশুদের পোষাক নাটক, সিনেমে ও নায়িকাদের নামে হওয়াতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে সুবিধা রয়েছে। কারন ক্রেরাগন নাটক ও নায়িকার নামে কাপড় খুজলে বিক্রেতারা তা সহজেই সনাক্ত করতে পারে। শহরের পানবাজার সড়কস্থ রাজস্থানে মার্কেটিং করতে আসা রিয়া নামে এক ক্রেতা জানান, এই ঈদের জন্য রাওয়ান সিনেমার ১টি ও খুশি নাটকের ২ টি পোষাক তিনি কিনেছেন। এডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, ভারতীয় নাটক ও সিনেমা প্রদর্শীত পোষাকের প্রতি আগ্রহ ও নামকরণ বাঙ্গালীদের জন্য শুভ নয়। কারন তাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যার ফলে আমাদের দেশীয় কাপড়ের গুরুত্বও ভারতের মধ্যে কম। ক্রেতারা জানান, বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী ভারতীয় নাটকে আসক্ত এবং দিনে বেশিরভাগ সময় এই নাটকের পেছনেই সময় ব্যায় করে। এই নাটকগুলো আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। ব্যবসায়ি রায়হান জানান, ভারতীয় চ্যানেলের কারনে বাঙ্গালীরা দেশীয় কাপড়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ক্রেতা হাছিনা বেগম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমনই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছে কে কোন নাটকের কাপড় ক্রয় করছে এবং বানিয়েছে। যা আমাদের সংস্কৃতির উপর অনৈতিক প্রভাব আসতে পারে। সরেজমিনে সমবায় সুপার মার্কেট, এ. ছালাম মার্কেট, ফিরোজা মার্কেট, সী কুইন মার্কেট, রাজস্থান, রাঙাবউসহ বেশ ক’টি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের সরগমে মুখরিত প্রতিটি মার্কেট। কিছু কিছু মার্কেটে পা ফেলার পর্যন্ত জায়গা নেই। বিক্রেতাদের বাড়তি কথা বলার ফুসরত পর্যন্ত নেই। কিছুদিন আগে মার্কেটগুলোতে পুরুষদের সরগম না থাকলেও এখন পুরুষদের মার্কেটগুলোতেও জমতে শুরু করেছে ভীড়। পোশাকের দাম গতবারের থেকে একটু বেশি থাকলেও কেনাবেচা বেশ ভালোই চলছে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রাজস্থানের মালিক আরিফ মাহমুদ বলেন “প্রথম রোযা থেকেই বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। তবে দশ রোযার পর থেকে বিক্রি বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ৬-৭ লাখ টাকার বিক্রি হচ্ছে। প্রথম রোযা থেকে নারীদের ভীড় লক্ষ্যণীয় হলো এখন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সকল মানুষের ভীড় লক্ষ্যণীয়। ক্যটস আই, নক্ষত্র, জেন্টালম্যান, প্লাস পয়েন্ট, মুন ওয়াকার, বাঙালি বাবু, শৈল্পিকসহ বেশ কিছু বিপনী বিতানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেচাকেনা বেশ ভালো চলছে। বড় বড় শপিংমল ও বিপনী বিতান থেকে কিনলেও ঈদকে উপভোগ করার জন্য বসে নেই নিম্ন আয়ের লোকেরা। প্রিয়জনকে খুশি করতে তারা ভীড় জমাচ্ছে পৌর হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের খোলা দোকানগুলোতে। রিক্শা চালক নূর হোসেন (৩৫) বলেন “বছরে একটা মাত্র ঈদ। এই খুশির দিনে যদি একটা জামা দিয়ে ছেলেমেয়েকে খুশি করতে না পারি তাহলে আর কিসের বাবা। তাই কম দামের মধ্যে কাপড় কিনতে এসেছি এই হকার্স মার্কেটে।” ফুটপাত থেকে ছেলের জন্য প্যান্ট কিনছিলেন মনোয়ারা বেগম (৩৭)। তিনি বলেন, মার্কেট থেকে কিনতে গেলে অনেক টাকা লাগবে  তাই কম দামের মধ্যে এখান থেকেই কিনছি। বড় মার্কেট এবং বিপনী বিতানগুলো সেজেছে বাহারী রঙে। বসে নেইÑ হকার্স ও ফুটপাতের দোকানগুলো। এখানেই বাহারী পোশাকে সেজেছে প্রতিটি দোকান। কক্সবাজার পৌর হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় পা ফেলার মতো জায়গা নেই সেখানে। নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনের ভীড়ই সেখানে বেশি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন এখানে দাম কম বলে সব শ্রেণির মানুষ এখানে ভীড় করে। এখানে পাওয়া যাচ্ছে বাচ্চাদের পোশাক, তরুণ-তরুণীদের পোশাক ও সকল বয়সের মানুষের পোশাক। আর ক’দিন পরেই মুসলমানদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদের ছেলে-বুড়ো সবাই নতুন পোশাক পড়ে আনন্দে মেতে ওঠে। আর এই আনন্দের পোশাকটি কিনতে প্রিয়জনকে খুশি করতে সকলেই এখন ছুটছে মার্কেটগুলোতে। কেউ বড় বড় বিপনী বিতানগুলো থেকে কেউবা ফুটপাত বা হকার্স মার্কেটগুলো থেকে কিনছে ঈদ পোশাক। যে যার সাধ্যমত ঈদকে আনন্দময় করছে ভীড় জমাছে পোশাকের দোকানে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT