হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপর্যটন

ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার :
ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটন শহর কক্সবাজারে নেমেছে লাখো পর্যটকের ঢল। সাগরকন্যা কক্সবাজারে পর্যটকদের স্বাগত জানায় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা। পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই হোটেল মোটেল গুলো সংষ্কার, সাগর পাড়ের কীটকট চেয়ারে রং লাগানোসহ অপরুপ সাজে সাজানো হয়েছে দর্শনীয় পর্যটন স্থান গুলোকে। সাগরে গোসল করতে নেমে অপ্রত্যাশিত প্রাণ হানি এড়াতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বিভিন্ন্ উদ্যোগ।
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস, শবে কদর, সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটক শুন্যতা কাটিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আগমন করেছে লাখো পর্যটক। বিশেষ করে ঈদের ২ দিন আগে থেকে সৈকত নগরী কক্সবাজারে পর্যটক শূন্যতা কেটে গেছে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। হতাশায় ডুবে থাকা এ শিল্প নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চাঙ্গাভাব শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মাতোয়ারা। সাথে লাখো পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের নয়নাভিরাম পর্যটন স্পটগুলো।
জানা যায়, অন্যান্য বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পুরোদমে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। তবে চলতি বছর ১২ মাস ধরেই পর্যটকের পদচারণায় কক্সবাজারের পরিবেশ ভিন্নতর হয়ে উঠতে থাকে। তবে পর্যটকদের কাছে টানতে না পারায় ব্যবসায়ীরা দারুন হতাশায় পড়ে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আশানুরুপ পর্যটক আসাতে হোটেল মোটেল, গেস্টহাউজ থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে লোকশান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।
এখানকার রিক্সা চালক থেকে টেক্সী ড্রাইভার, খাওয়ার হোটেল ব্যবসায়ী, ডাব বিক্রেতা, শুটকি বিক্রেতা সব ক্ষেত্রে এখন উৎসবের আমেজ। পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগমে তাদের এ হতাশা কেটে গেছে। লোকে লোকারন্য হয়ে পড়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বালুকাবেলা। রজততটে দাঁড়িয়ে বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে একই সাথে লাখ লাখ লোকের সমাগম, নারী পুরুষের মহা সম্মেলন সব বয়সের শিশু কিশোর, তরুন তরুনীর উচ্ছ্বাস রাঙ্গিয়ে তুলেছে সাগরকন্যা নৈর্সগিক সৌন্দয্যের লীলাভূমি কক্সবাজারকে। সাথে পর্যটকদের পদভাবে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিখ্যাত পর্যটন স্পট দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনও। সেখানেও হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। টানা ১ সপ্তাহ পর্যন্ত কক্সবাজার শহর, কলাতলী, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ইনানীসহ বিভিন্ন স্থানের কয়েকশ হোটেল মোটেল, রেস্টহাউজ, গেস্টহাউজ কোথাও সীট খালী নেই। দুইজনের রুমে রাত্রী যাপন করছে ৪ জন। এভাবেই পর্যটকদের ভিড়ে সর্বত্রই এখন দারুন প্রাণচাঞ্চল্য। ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন শিল্প যেন হঠাৎ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। আর ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দের পাশাপাশি কক্সবাজারে ছুটে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের ঠকানোর প্রবণতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব প্রতারণা ঠেকাতে কোনরকম উদ্যোগ এখনো কার্যকর হচ্ছে না। জেলার পর্যটন স্পট মহেশখালী, আদিনাথ মন্দির, ডুলহাজারা সাফারী পার্ক, ইনানী পাথরের সৈকত, হিমছড়ি ঝর্ণা, কক্সবাজার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, টেকনাফ সৈকত, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ আর বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত জুড়ে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আবাধ ভ্রমণে মুখরিত পর্যটন স্পটগুলো।
পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, পর্যটকদেরকে ছিনতাই, হয়রানী থেকে রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের একাধিক টহল টিমের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে হোটেল মোটেলে মাত্রাতিরিক্ত অর্থাৎ দ্বিগুন তিনগুন ভাড়া হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। বার্মিজ মার্কেটের পন্য বিক্রেতা দোকানগুলোতে নকল পন্যের সয়লাব। পর্যটকদেরকে ভূল তথ্য দিয়ে এসব নিন্মমানের দেশীয় পন্য ধরিয়ে দিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে ভর দুপুরেও ঝাউবাগানের ফাঁকে ফাঁকে শত শত পর্যটক দম্পতি স্বপরিবারে আনন্দগন সময় কাটাচ্ছে। আর ভাটার সময়ও লোকজন প্রাণের উচ্ছ্বাসে ঝাপিয়ে পড়ছে লোনাজলে। আবার দল বেঁধে আসা পর্যটকরা সাগর সৈকতে হাডুডু, ফুটবল, ভলিবল খেলে দৌড়া দৌড়ি করে সময় কাটাচ্ছে। বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে একই সাথে হাজার হাজার পর্যটক সমাগম ঘটে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.