টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঈদগাঁওতে প্রায় ৪০ একর ধানী জমি চাষাবাদে অনিশ্চিতঃ হতাশ চাষীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম. আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও ::::সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে প্রায় ৪০ একর ধানী জমি চাষাবাদে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি চরম ভাবে হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান জুমবাড়ী। জানা যায়, দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ ধরে জালালাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অর্থাৎ জুমবাড়ী জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী (জুমবাড়ী বিল) খ্যাত প্রায় ৪০ একর ধানী জমি পানি যুক্ত হয়ে গর্তে পরিনত হয়ে পড়েছে। যার দরুণ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানকার চাষীরা এই চাষাবাদকৃত ধানী জমিতে ধান রোপন করতে পারছেনা কোনমতেই। এতে করে স্থানীয় চাষীরা দুঃচিন্তায় আর মহা টেনশনে ভোগছে দীর্ঘ কাল ধরে। পূর্বে যেভাবে এসব ধানী জমিতে ধান ফলন হত, এখন ঐসব জমিতে ধান রোপনতো দুরের কথা নানা কারণে সবুজ ধানের চাষাবাদ হারিয়ে গেছে। অপরদিকে, একটু বৃষ্টি ও বন্যার পানি যথাযথ ভাবে নিষ্কাশন তথা পর্যাপ্ত ভাবে যাতায়াত করতে না পারায় ঐসব ব্যাপক ধানী জমিতে ধানের চাষাবাদ একেবারেই অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে বলে চাষীদের সূত্রে  জানা যায়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানির আতঙ্কে নানা ভাবে হুমকির মুখে পড়ে ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান জুমবাড়ী। পাশাপাশি, স্থানীয় নুরুল হকের বাড়ি হইতে জুমবাড়ী জামে মসজিদে চলাচলের রাস্তাটি অযোগ্য হওয়ার ফলে লোক চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত হয়ে পড়ছে। ঐ রাস্তা দিয়ে কোন রকম উক্ত গর্তের পানি পারাপার হয়ে মুসল্লি, জনগণ, নুরানী মাদ্রাসা ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা যাতায়াতে দারুণ ভাবে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। এতে করে শিার্থীরা স্ব স্ব শিা প্রতিষ্ঠানে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। ঐসব এক চোখের ধানী জমির প্রকৃত মালিকরা নানা দূঃচিন্তায় পড়ছে প্রতিণে প্রতি মুহুর্তে। এই গর্তে ডুবা খালি জমিতে কি চাষ করবে ভেবে কূল পাচ্ছে না চাষীরা। দীর্ঘ সময় ধরে এ জমি গুলোতে ধানের ভাল ফলনের আশা-নিরাশার দোলাচলে বন্দি রয়েছে। এ ব্যাপারে ঐ ধানী জমির চাষী ইউছুপ আলী মুন্সি আপে করে বলেন, বহুদিন যাবৎ ধরে এই ধানী জমি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছি। ৫/৬ বছর ধরে ঐ জমিতে পানি আর পানিতে বন্দি থাকে। চাষাবাদ নিয়ে দারুণ ভাবে কষ্ট পাচ্ছি। যে কষ্ট ভূলার নয়। অপর আরেক চাষী জানান, এই জমি নিয়ে নানা চিন্তার শেষ নেই । তারপরও অপোয় আছি। কি করা যায় দেখি। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ছুরুত আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই বিশাল ধানী জমিতে বন্দি থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে প্রাণপর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  ——————————————————

ঈদগাঁও’র ডিজিটাল টেলিফোন এক্সেচেঞ্জ ভবনটির বেহাল দশা এম. আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও ৩০/০৯/১৩ইং কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের একমাত্র ডিজিটাল টেলিফোন এক্্রচেঞ্জ ভবন চলছে বেহাল দশায়। নানামুখী সংকটের  কবলে পড়ে ঈদগাঁওর একমাত্র ডিজিটাল এক্্রচেঞ্জটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। ফলে এতাদঞ্চলের টেলিফোন সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ঈদগাঁওর শহস্রাদিক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও এক্্রচেঞ্জ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, জনবল সংকট, ভৌত ও অবকাঠোমোগত অসুবিধার কারণে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বিগত ২০০২ সালে বিএনপির সরকারের তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমদ অন্ত্যন্ত ঝাঁকজমকপূর্ন অনুষ্টানের মধ্যদিয়ে জেলার প্রথম ৫শত লাইনের ডিজিটাল এক্্রচেঞ্জটির উদ্বোধন করেছিলেন। বর্তমানে এক্্রচেঞ্জটিতে ৭টি পদের বিপরীতে ১ জন টেলিকম টেকনিশিয়ান ইনচার্জ হিসেবে এবং অপরজন টেলিকম মেকানিক হিসেবে কর্মরত আছেন। অপরাপর শূন্যপদ গুলো হচ্ছে-ব্যাটারীম্যান,অপারেটর,ওয়ারম্যান, নাইটগার্ড, এবং লাইন ম্যান। কর্মরত ইনচার্জ জানালেন, মুল ভবনের দু’পাশে দুটি বৃহদাকার ডুবা ও জলাশয় এবং চারিদিকে ঝোপ জঙ্গল জন্মানোর ফলে শুধু রাতে নয় দিনের বেলায় এক ভুঁতেড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও টাওয়ার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে দেওয়াল ও টাওয়ার পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এছাড়া বিগত দু’ বছর ধরে এসি দুটো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে যে কারনে ইকুইপমেন্টগুলো মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশি-ষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রধান প্রবেশ পথের রাস্তায় বড়-বড় গর্ত ও ঘাস জন্মানোর ফলে পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ডরমেটরী রুমের ফোর, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙ্গা রয়েছে অনেক দিন ধরে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের চুরির আশংকা রয়েছে বলে জানালেন স্বয়ং ইনচার্জ। টাওয়ার ফ্রিকোয়েন্সি না বাড়ানোর কারনে একমাত্র রাষ্টীয় মালিকানাধীন মোবাইল কোম্পানী টেলিটকের গ্রাহক ঈদগাঁওতে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। যেখানে অন্যান্য কোম্পানী গুলো গ্রাহকদের মাঝে যথাযথ সেবা দানের মাধ্যমে ঈদগাঁও থেকে বছরে রাজস্বসহ কোটি-কোটি টাকা আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। সাবমেরিন সংযোগ থাকলেও  ঈদগাঁও গ্রাহকেরা শুরু থেকেই ইন্টারনেট সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। লাইনম্যান না থাকায় কোন স্থানে লাইন খারাপ হলে তা দীর্ঘদিনেও মেরামত করা সম্ভব হয় না। ফলে ঈদগাঁওর লোকজন দিন-দিন রাষ্ট মালিকানাধীন টেলিফোন সংযোগ ব্যবহারের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমতাবস্থায় জনস্বার্থে সংশি-ষ্ট কতৃপহ্ম বিষয়টির প্রতি যথাযথ গুরাত্বারোপের মাধ্যমে শীঘ্রই এক্্রচেঞ্জটি সংস্কার পূর্বক গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবাদানে সচেষ্ট হবেন এমনটাই প্রত্যাশা ঈদগাঁওর টেলিফোন গ্রাহক ও আপামর জনসাধারনের।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT