টেকনাফ নিউজ ডেস্ক…নেশার বড়ি ইয়াবা তৈরি ও বিক্রির দুটি মামলায় ব্যবসায়ী আমিন হুদা ও তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে ৭৯ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিভিন্ন ধারায় ৭৯ বছর সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলার আদেশ হওয়ায় আমিন হুদাকে ২৮ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোতাহার হোসেন রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে দুই মামলার রায় দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে আমিন হুদা ও তার কর্মচারী আহসানুল হককে আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। এ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুই মামলায় বিভিন্ন ধারায় আদালত ৭৯ বছরের জেল দিলেও আসামিদের মোট ২৮ বছর সাজা খাটতে হবে। ২০০৭ সালের ২৫ অক্টোবর গুলশানের দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ কেজি ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও রাসয়নিক, যন্ত্রপাতি এবং ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করে র্যাব। ওই অভিযানেই ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাগ্নে এবং এম বি মাল্টিকেয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা আমিন হুদা ও তার কর্মচারী আহসানুল গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৬ অক্টোবরে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এ দুটি মামলা করা হয়। ওই বছরেরই ২৭ নভেম্বর র্যাবের উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুই মামলার একটিতে ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি এবং ৩০ জানুয়ারি অন্যটিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। ঢাকার আদালতে দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৩৮ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১ জুলাই যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত রায়ে ওই সময় জব্দ করা মাদক ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম ধ্বংস করারও নির্দেশ দিয়েছে বলে আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান। আমিন হুদা এই মামলায় জামিনে থাকলেও গত ১ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানির পর জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
Leave a Reply