টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ইয়াবা পাচারে শিশু ও মহিলা ব্যবহৃত হচ্ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৭০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 সৈয়দুল কাদের:Zemanta Related Posts Thumbnail কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচারে শিশু ও মহিলার ব্যবহার আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে। বাহকরা গ্রেপ্তার হলেও মুলহোতারা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কক্সবাজার জেলা কারাগারে ইয়াবা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দেড় শতাধিক শিশু ও শতাধিক মহিলা হাজতি থাকলেও ইয়াবার প্রকৃত মালিক রয়েছে মাত্র কয়েকজন। মহিলা ও শিশুদের ইয়াবা বহনের সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করলেও তারা জানেনা ওই ইয়াবার প্রকৃত মালিকের পরিচয়। ইয়াবা পাচার মামলায় হাজতীদের মধ্যে রোহিঙ্গা শিশু ও মহিলা রয়েছে অর্ধশতাধিক। কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে বিভিন্ন চেকপোষ্ট ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বাধা অতিক্রম করতে শিশু ও মহিলার ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক ডজন হাত বদলের মাধ্যমে পাচারের জন্য ইয়াবা তাদের কাছে পৌঁছার কারণে বাহক আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও পার পেয়ে যাচ্ছে মুলহোতারা। কক্সবাজার জেলা কারাগারে হাজতী শিশু টেকনাফ সাবরাং এর নাছির (১৪) জানায় টেকনাফ থেকে যে কোন পথে কক্সবাজারে একটি ইয়াবার চালান এনে দিলে ইয়াবার মালিক খরচ ছাড়া ৩ হাজার টাকা দেয়। মরিচ্যা ও লিংক রোড়ের ঝামেলা এড়াতে প্রায় সময় কোট বাজার হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারে ইয়াবা নিয়ে আসা হয়। হলিডের মোড়েই আমাদের কাছ থেকে ইয়াবা বুঝিয়ে নেয় মালিকের লোকজন। শিশুদের কম টাকা দিয়ে ব্যবহার করতে পারায় এবং নিরাপদ মনে করায় তারা আমাদের ব্যবহার করে। টেকনাফে ইয়াবা পাচারকারি শিশুদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। কেউ টাকা নিয়ে সমস্যা করলে তার ইয়াবা আর নেওয়া হয় না। যার ফলে তারা আমাদের প্রাপ্য দিতে বাধ্য থাকে। কুতুব পালং শরণার্থী শিবিরের শিশু ধইন্যা মিয়া(১৬) জানায়, ইয়াবা বহনকরার জন্য তার মা তাকে বলেছে। সংসারে অভাবের কারণে কম সময়ে বেশী রোজগারের জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। সে বলে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর জেল হাজতে থাকলেও ইয়াবার প্রকৃত মালিক কোন খোঁজ খবর নেননি। কোন দিন কেউ মামলার জামিনও চায় নি। তাকে না চেনার কারণে প্রশাসনকে তাদের নাম বলাও সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেক শিশু এ কাজে জড়িত। কাজ করতে নগদ ভাল আয় করা যায়। হাজতি শিশু টেকনাফ পৌর এলাকার আলতাফ(১৪) জানায়, হ্নীলার নুরুল আমিন নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ির হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। গত এক বছর আগে মরিচ্যা চেকপোষ্টে দেড় হাজার ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার হয়। এর পর থেকে আমার খোজঁ কেউ নেয় নি। পরিবারে আর্থিক সংকটের কারণে জামিনও চাওয়া হয় নি। একই ভাবে কক্সবাজার জেলা কারাগারের বিভিন্ন ওর্য়াডে প্রায় ৪০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ি হাজতি হিসাবে রয়েছে। তাদের অধিকাংশই টেকনাফ উপজেলার। প্রায় ১৪ হাজার ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক ইয়াবা ব্যবসায়ি (হাজতি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন সব শেষ হয়ে গেছে। বলতে কোন সমস্যা নেই।  টেকনাফের অবিলম্বে লোক ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এটি এখন এ উপজেলার প্রধান ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। একটি চালান নিরাপদে পৌছে দিতে পারলে পাওয়া যাচ্ছে লাখ টাকা। ইয়াবা এখন টেকনাফের ঘরে ঘরে। বিভিন্ন পেশার লোকজন প্রায় এ ব্যবসাতে জড়িত। বর্তমানে জেল হাজতে যারা রয়েছে তারা প্রায় সবাই বাহক। প্রধান হোতাদের কেউ কখনো গ্রেপ্তার হয় নি। তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়িদের গ্রেপ্তার করা না গেলে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজাদ মিয়া জানান, ইয়াবার বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় আছে। যাদের ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তে যাদের নাম আসে কাউকে রেহাই দেওয়া হচ্ছেনা। ইয়াবা সংক্রান্ত কোন খবর পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT