টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ইয়াবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে…

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বল শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন অবাধে বিক্রি হচ্ছে ‘বাবা’ নামে অভিহিত এই মরণনেশা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ফেনসিডিলের দাম বেশি ও হেরোইনের কদর কমে যাওয়ায় ইয়াবা’র ব্যবহার বেড়েছে কয়েক গুণ। রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করছে মাদক বিক্রেতারা। এগুলো কেনাবেচা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগিয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। সম্প্রতি র্যাব হেড কোয়ার্টার্স ইন্টেলিজেন্স উইং দেশজুড়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের উপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াবা পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে মাদকের মধ্যে ইয়াবাই ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। গ্রামাঞ্চলে ছাত্রছাত্রীরা ইয়াবায় বেশি আসক্ত। এদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। আসক্তদের মধ্যে ৯০ ভাগ ছাত্রছাত্রী বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সময় থাকতে ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থাসহ সকল পেশার লোক তীব্র প্রতিরোধ গড়ে না তুললে জাতি মেধা শূন্য হয়ে পড়বে। জাতিকে মেধা শূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই ইয়াবা ট্যাবলেট এদেশে ব্যাপক হারে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এটিকে অন্যতম সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিত্সকসহ বিভিন্ন পেশার লোক।
ঢুকছে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে :মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়েই ইয়াবা এদেশে আসছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাফ নদী দিয়ে আসে সিংহভাগ ইয়াবার চালান। এছাড়া টেকনাফের নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, জালিয়াপাড়া, নাইট্যংপাড়া, কেরুনতলী, বন্দরঘাট, কাইয়ুকখালীঘাট, নীলার জাদিমুরা, নাটমুরাপাড়া, উলুবুনিয়া, শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া, ঝিনাপাড়া ও সাবরা এলাকা দিয়ে ইয়াবার চালান নিয়মিত দেশে ঢুকছে। নতুন করে কুমিল্লা বিবিবাজার সীমান্ত দিয়েও ইয়াবার চালান আসছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়।

জানা গেছে, ইয়াবার চালান কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম এবং পরে সরাসরি রাজধানী ঢাকায় চলে আসছে। কুরিয়ার সার্ভিস ও কাভার্ড ভ্যান ও মালবাহী পরিবহনযোগে ইয়াবার চালান ঢাকায় আসে। আবার রাজধানী থেকে ইয়াবা সারাদেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চালান এসব তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দেশেও নকল ইয়াবা তৈরি করা হচ্ছে।

নাফ নদীর ওপাড়ে কারখানা :মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, মিয়ানমারের নাফ নদীর তীরে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির একাধিক কারখানা রয়েছে। বেশ কয়েক বছর যাবত্ এসব কারখানা থেকে বস্তায় বস্তায় ইয়াবা নাফ নদী দিয়ে এপাড়ে প্রবেশ করছে। ভারত সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল তৈরির কারখানা উচ্ছেদ করার মতো নাফ নদীর পাড়ের ইয়াবা কারখানাগুলোও বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মত দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সিলেট অফিস জানায়, গত এক বছর ধরে সিলেট শহর ও গ্রামাঞ্চলে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ-তরুণীরা বেশি ইয়াবা খাচ্ছে। প্রকাশ্যেই ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসে ইয়াবা চালান সিলেটে আসছে। র্যাব-পুলিশ প্রতিদিনই ইয়াবা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করছে, কিন্তু তা সংখ্যায় খুবই কম। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ইয়াবা ব্যবসার জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল অফিস জানায়, ইয়াবা ব্যবহার বরিশাল শহরে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। গ্রামে গ্রামে চলছে অবাধে বেচাকেনা। গত দুই বছর ধরে বরিশালে ইয়াবা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আসক্তদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৯০ ভাগ। খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও রাজশাহী ইত্তেফাক অফিসও ইয়াবা পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুরূপ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়াবা সেবনে ক্ষতি :চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা বলেছেন, ইয়াবা পাকিস্তান আমলে ‘এমপিটামিন ট্যাবলেট’ হিসাবে বাজারজাত করা হতো। ক্ষুধা ও ঘুম হওয়ার জন্য এ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে হেরোইনসহ নানা নেশার উপকরণ সংমিশ্রণে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করে বাজারজাত চলছে। এ ট্যাবলেটের প্রতি তরুণীদের আকর্ষণ বেশি। ইয়াবা খেলে যৌন ক্ষমতা সাময়িক বাড়লেও স্থায়ীভাবে এ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ব্রেনসহ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়। আসক্তদের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি থাকে। ইয়াবা দেশের তরুণ ও শিক্ষিত সমাজকে নীরবে ধ্বংস করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই চিকিত্সক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “ইয়াবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে…”

  1. eta kono kotah na, shorkar chahile shob kichu shombhob,, daitto shil jara ase tarai e ,,,, 2 number duty korte se , other wise impossible kono din hote aprena,,, shorkarer cheye normal manush power full kono din hote parena,, mone hoi shorkar tader doler louk jon a kar bare jorito thakar bishoiye , chaap dite se na ,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT