টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ইয়াবা ও রোহিঙ্গা আগ্রাসন থেকে মুক্তি চায় টেকনাফবাসী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মমতাজুল ইসলাম মনু টেকনাফ ::::2 [1600x1200]মাদকরাজ্যে গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনকে পেছনে ফেলে পুরো দেশে কাঁপন তুলেছে যে মাদক তার নাম ‘ইয়াবা’। তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব- সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে ইয়াবা। ইয়াবা বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ-মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন পর্যন্ত। মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠ স্বজন। নেশাখোর পিতা ইয়াবা সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার ক্রোধে নিজ সন্তানকে খুন করছে অবলীলায়। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, মাকে জবাই করা, আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটছে। ইয়াবার কারণে ঘটছে চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি, ডাকাতি ও খুন-খারাবির মত ঘটনা। সর্বশেষ রাজধানীতে ঐশী নামের এক ইয়াবা সেবী স্কুল পড়–য়া মেয়ের হাতে বাবা-মা খুনের ঘটনায় সারা দেশের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশী উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে ইয়াবা ব্যবহার ও পাচারের স্বর্গরাজ্য নামে খ্যাত টেকনাফের হাজার হাজার পরিবারে। ‘দৈনন্দিন জীবন-যাপনে তীব্র উচ্চাকাংখা সন্তানদের সামাজিক আনুগত্যবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইয়াবার জের ধরে অপরাধ বৃদ্ধির ভয়াবহতা ভাবিয়ে তুলেছে পুরো জাতিকে। চারদিকে ইয়াবার ছড়াছড়ি। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবাসহ চোলাই মদ, গাঁজা, হিরোইন, আফিমসহ বিভিন্ন মাদক। স্কুল পড়–য়ারাও এখন ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। টিফিনের টাকা একত্র করে সহপাঠীরা মিলেমিশে হেরোইন-ইয়াবা সেবন করছে এমন উদাহরণও কম নয়। অপরাধের মূল সূত্র চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উলেখযোগ্য উদ্যোগ নেই বললেই চলে। পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাঝে-মধ্যে অভিযান চালালেও বেশির ভাগ অভিযানই চলে টু পাইস কামানোর ধান্ধায়। আবার অভিযানের মাধ্যমে যেসব ইয়াবা উদ্ধার হয় এর সিংহভাগই পুলিশের হাত ঘুরে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছেই চলে যায়। প্রচার মাধ্যমে এমন অভিযোগও ভুরি ভুরি। ইয়াবার সর্বগ্রাসী থাবা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে শিা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। উচ্চ শিা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়েও মাদকের ভয়াল অভিশাপ নেমে এসেছে। সহজলভ্যতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কালো টাকার আধিক্য, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ইত্যাদি কারণে ইয়াবাসক্তের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে এমনটি ধারণা এখনকার সচেতন মহলের। নতুন প্রজন্ম এখন ইয়াবা প্রেমে উম্মাদ। অভিজাত নেশাদ্রব্য হিসেবে পরিচিত ইয়াবার বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছেনা কিছুতেই। তরুণ-যুবক থেকে শুরু বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন দিন দিন। টেকনাফসহ পুরো জেলায় গড়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অপ্রতিরোধ্য নেটওয়ার্ক। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সভ্যতার এ চরম উৎকর্ষের যুগে আমাদের আগামী দিনের আশা ভরসার স্থল কিশোরসমাজের এ ব্যাপক বিপর্যয় সত্যিই বড় দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক। এ সর্বনাশা ছোবল থেকে আমাদের কিশোর-কিশোরীদেরকে রার আহবান টেকনাফের সর্বস্তরের মানুষের। রোহিঙ্গা আগ্রাসন : বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ সেই যে শুরু হয়েছিল এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি একদিনের জন্যও। সীমান্ত রীদের হাতে প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকজন করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেও প্রতিদিনই টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবান সীমান্তের কোন না কোন পয়েন্ট দিয়ে সীমান্ত প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শত শত মিয়ানমার নাগরিক কৌশলে ঢুকে পড়ছে দেশে। কিছুতেই যেন থামছেনা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। বর্তমানে জেলায় রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গাদের ভারে ন্যুজ কক্সবাজার তথা পুরো দেশ। দেশে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে বর্তমানে। এদের কারণে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, খাদ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, শ্রমবাজার, ধর্মীয় উস্কানিসহ বিভিন্ন েেত্র সৃষ্টি হচ্ছে চরম অস্থিরতা। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শ্রমবাজার দখল করে স্থানীয়দের দূর্ভোগে ফেলেছে। কক্সবাজারের স্থানীয়দের চাহিদামতো খাদ্য কক্সবাজার থেকে উৎপাদিত হলেও সেখানে ভাগ বসাচ্ছে রোহিঙ্গা। যার কারণে খাদ্য ঘাটতিও তৈরী হয়েছে। এরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করছে সামাজিক সম্প্রীতিতেও। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে তারা এদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের েেত্রও এরা বড় ধরণের ভুমিকা রাখছে। দেশের রাজনীতিতেও ব্যবহার হচ্ছে এসব রোহিঙ্গারা। যার কারণে এদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে অনেক েেত্রই রোহিঙ্গারা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে রোহিঙ্গাদের সক্রিয় ও পরিকল্পিত অংশগ্রহণ এদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পনা ও অংশগ্রহনে ইতোমধ্যেই কক্সবাজার, রামু ও উখিয়ায় শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতিও নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে লজ্জায় ফেলার পেছনে এই রোহিঙ্গাদের হাত রয়েছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনী প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির পেছনে সিংহ ভাগ দায়ী এই রোহিঙ্গারাই। প্রায় প্রতিদিন জেলায় ঘটে যাওয়া চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, হামলা, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গাদের নাম। ইয়াবা প্রবন ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সীমান্ত শহর টেকনাফসহ পুরো দেশকে ইয়াবার করাল গ্রাস ও রোহিঙ্গার আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এখনি। টেকনাফকে ইয়াবা তথা মাদক ও রোহিঙ্গামুক্ত করা গেলে সুস্থ সমাজ ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি পুরো দেশটাই ভালো থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীলসমাজ।

মমতাজুল ইসলাম মনু টেকনাফ মোবাইল নং-০১৮৪৩৭২৫৩৪৩

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT