হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদ

ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে নতুন ‘আতঙ্ক’

আজিম নিহাদ []
সারাদেশে ইয়াবার গেটওয়ে নাফ নদের তীরে গড়ে উঠা টেকনাফ। এই গেটওয়ে অর্থ্যাৎ টেকনাফে ইয়াবা নির্মূলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পাঁচটি নতুন ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছে। এর ফলে ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে পালাতে শুরু করেছে সীমান্তের কারবারিরা।
সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় কক্সাবাজারেও গেল রমজানের শেষের দিকে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়। কিন্তু শুরু হতে না হতে বিতর্কের মুখে অভিযান স্থিমিত হয়ে যায়। এর ফলে আদৌ ইয়াবা বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে নানা কথা শুরু হয়।
সব বিতর্ক উপেক্ষা করে আবারও ইয়াবা নির্মূলে উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাব। এরই অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকা টেকনাফে স্থাপন করা হয়েছে র‌্যাবের পাঁচটি নতুন ক্যাম্প। যে ক্যাম্পগুলো গত মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বপালন শুরু করেছে।
র?্যাব সূত্র জানায়, উখিয়া ও টেকনাফের ওপারে মিয়ানমার। মিয়ানমারের কারখানায় তৈরি ইয়াবা টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়েই দেশে ঢোকে। সীমান্তে পাহারার জন্য বিজিবি ও নৌপথ পাহারার জন্য কোস্টগার্ড রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশ। এরপরও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি। তাই ইয়াবা বন্ধে এই নতুন পাঁচটি ক্যাম্প।
নতুন পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং এলাকায়। এর আগে কক্সবাজার ও টেকনাফে আরও দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। র‌্যাবের তথ্যমতে, নতুন করে স্থাপিত র‌্যাবের প্রতিটি ক্যাম্পে স্থানীয় থানার চেয়ে অধিক জনবল থাকবে। যারা প্রথমত ইয়াবা দমনে লড়বে।
র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় শহরের লিংক রোড এলাকা থেকে সাইরেন বাজিয়ে ২৪টি দলের বিশেষ যৌথ টহল শুরুর মাধ্যমে মাদকবিরোধী ‘নতুন যুদ্ধের’ ঘোষণা জানান দেয় র?্যাব।
র?্যাব-৭ কক্সবাজার সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘দেশব্যাপী র?্যাবের “চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে” শীর্ষক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে নতুন করে র?্যাবের পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক টহলের মাধ্যমে ক্যাম্পগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছে। ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের আর রক্ষা নেই।’
কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। র?্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান এলাকার মানুষ সানন্দে গ্রহণ করলেও চিহ্নিত গডফাদাররা এলাকায় অবস্থান করেন। এ কারণে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ হয় না।
তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের নতুন পাঁচটি ক্যাম্পযুক্ত হওয়ার বার্তাটি নিঃসন্দেহে খুশির। কিন্তু কোন অবস্থাতে অভিযান করতে গিয়ে ‘ভুল’ করা যাবে না। খুব সতর্কভাবে ইয়াবা নির্মূলের যুদ্ধ সফল করতে হবে। কারণ গডফাদারেরা যে কোনভাবে চাইবে, প্রশাসনের কর্মকান্ডকে বিতর্কিত করতে।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ একটি তালিকা তৈরী করে। সেই তালিকায় কক্সবাজারের ১১৫১ জনের জড়িত থাকার নাম উঠে আসে। এদের মধ্যে ৬০ জন গডফাদার।
ওই তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজারে আট উপজেলার মধ্যে টেকনাফে ৯১২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আছেন। এছাড়া কক্সবাজার সদর থানায় ৪৩ জন, রামুতে ৩৪ জন, কুতুবদিয়ায় ৪৮ জন, উখিয়ায় ৭ জন, মহেশখালীতে ৩০ জন এবং পেকুয়ায় ২২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাবের টহলের গাড়ি গুলো টেকনাফ পৌছলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মঙ্গলবার রাতেই গা ঢাকা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের এক জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পর্যায়ের) বলেন, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ থেকে সবচেয়ে বশি ইয়াবা ঢুকে। রাতভর ইয়াবার বড় বড় চালান ঢুকে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন এসব না দেখার ভান করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর ইয়াবার বদনাম তথা প্রজন্মকে ধ্বংস হতে দিতে চাই না। নতুন করে র‌্যাবের পাঁচটি ক্যাম্প হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছি। আমরা আশা করি র‌্যাব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে আতাঁত না করে সত্যিকার অর্থে ইয়াবা নির্মূলে কাজ করবে।’
এদিকে আজ ২ আগষ্ট কক্সবাজারের টেকনাফে স্থাপিত র‌্যাব ক্যাম্প গুলো পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‌্যাবের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের। পরে ৩ আগষ্ট কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি তারকা হোটেলে মতবিনিময় সভা করারও কথা আছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকালের মতবিনিময় সভায় ইয়াবা নির্মূলে র‌্যাবের জন্য ‘সুনির্দিষ্ট’ নির্দেশনা আসতে পারে। এরপর থেকেই ইয়াবা নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিটি অভিযানে ইয়াবাসহ পাচারকারীরা গ্রেপ্তার হলেও চিহ্নিত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনলে অভিযান সফল হবে না বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.