টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

ইয়াবার ছোবলে একটি প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে: কাদের

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ১৯৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ইয়াবা ছোবল মারছে। একটা প্রজন্মকে সর্বনাশা মাদক গ্রাস করেছে। মাদক সেবনে প্রজন্মটি এখন ধ্বংসের মুখে। এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন গড়ে তুলতে হবে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে (টিএসসি) আয়োজিত জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে রাজনীতিকদের উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায় না। অথচ এটা একটা প্রজন্ম ধ্বংস করে দিচ্ছে। তথাকথিত রাজনীতিকরা সব সময় পরবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবেন, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবেন। তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, মাদকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন গড়ে তুলতে হবে। সর্বত্র বিভাজনের দেয়াল উঠে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন সামাজিকতার মধ্যেও পার্থক্যের রেখা। কেউ মারা গেলে জানাজায়ও যাওয়া যাবে না। প্রেসক্লাব, চিকিৎসক, আইনজীবী সবার মধ্যে বিভাজন। এর ভবিষ্যৎ শুভ নয়। এই বিভেদ দূর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অন্ধকার দিয়ে অন্ধকার প্রতিহত করা যায় না। অন্ধকার দূর করতে চাই আলো। ভালবাসা দিয়ে জিঘাংসা ও সহিংসতা দূর করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন বিপদ হলো সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ, অভিন্ন শত্রু দারিদ্র্য; আর অভিন্ন গৌরব হলো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উগ্রবাদ ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’
ইয়াবার ছোবলে একটি প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে: কাদের

মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়- সমকাল

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। কোনো আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত দেওয়ার মানসিকতা রাখবেন।’ জগন্নাথ হল নিয়ে স্মৃতিচারণ করে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘পঁচাত্তর পরবর্তী অন্ধকারে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ঢাবির বটতলায় একদল তরুণ শপথ করেছিলাম। এর মূল কর্মকাণ্ড ছিল জগন্নাথ হল ঘিরে। এখানে বসেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হতো। এ হলে অনেক রাত্রি যাপন করেছিলাম। পরে এখান থেকেই গ্রেফতার হই।’  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ-প্রতিবেশ এমনই যে, এখানে জঙ্গিরা কখনোই সফল হবে না। তাই জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রায় অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রসঙ্গ আসলে জগন্নাথ হলের নাম সবার আগে স্মরণ করতে হবে। হলের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অর্থাভাবে একজন শিক্ষার্থীরও পড়ালেখা যাতে বন্ধ না হয়, সে ব্যাপারে ঢাবি অ্যালামনাই কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 জগন্নাথ হলের প্রাক্তন আবাসিক ছাত্র ও ভারতের বন্ধন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্র শেখর ঘোষ বলেন, ধৈর্য্য, কঠোর পরিশ্রম ও ডেডিকেশন থাকলে জীবনে সফলতা আসবেই। জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পান্না লাল দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক দুর্গাদাস ভট্টাচার্য্য, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, মিলন কান্তি দত্ত প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার সাহা। এর আগে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। আড্ডা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাজানো ছিল দিনব্যাপী এ আয়োজন। ২০০০ সালের ৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু হয় জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের। বর্তমানে এর এক হাজার তিনশ’ আজীবন সদস্য রয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT