টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি

ইলিশ মোবারক !

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Image- Atik আতিকুর রহমান মানিক বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। সু-স্বাদু মাছ ইলিশ সম্পর্কে যৎসামান্য আলোকপাত করতেই ঈদ মোবারকের পরিবর্তে এ “ইলিশ মোবারক”। ইলিশ মাছ একক প্রজাতি হিসেবে সর্ববৃহৎ এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে একক ভাবে ইলিশের অবদান শতকরা ১৩-১৫ ভাগ। এর বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রায় ৩.৫ লক্ষ মেট্রিক টন, যার মূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। জি.ডি.পি-তে  ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ২.০%। জাতীয় রপ্তানী আয়েও ইলিশ মাছ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতি বছর ইলিশ মাছ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে প্রায় ১’শ কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা অর্জিত হয়। কর্মসংস্থানেও ইলিশ মাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের ৪০টি জেলার প্রায় ১৪৫টি উপজেলার ১৫০০ ইউনিয়নের ৪ লাখ ৫০ হাজার জেলে ইলিশ মাছ ধরে থাকে। ইলিশ ধরা ছাড়াও বিপনন, পরিবহণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানী, জাল-নৌকা তৈরী ইত্যাদি কাজে সার্বিক ভাবে প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ লোক জীবন-জীবিকার জন্য এ মাছের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ মৌসুমে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি ফিসারী ঘাট) থেকে ইলিশ মাছ বোঝাই করে প্রতিদিন শত শত গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে রওয়ানা হচ্ছে। বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সু-স্বাদু মাছ ইলিশ। ইলিশ মাছ খাদ্যমানেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ মাছে উচ্চ মাত্রায় আমিষ চর্বি ও খনিজ-পাদার্থ পাওয়া যায়। ইলিশ মাছের চর্বিতে প্রায় ৫০% অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এ্যসিড থাকে। উক্ত অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এ্যসিডের প্রায় ২% ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড, যা মানুষের দেহের রক্তের কোলেসটেরলের মাত্রা হ্রাস করে ও হৃদরোগ উপশম করে। ইলিশ মাছের আমিষে ৯ ধরণের এ্যামাইনো এ্যাসিড পাওয়া যায়,যা মানুষের পাকস্থলী উৎপাদন করতে পারে না। এছাড়া ইলিশ মাছে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ইত্যাদি। ইলিশের তেলে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন এ ও ডি থাকে এবং কিছু বি ও মেলে। ইলিশ মাছের যকৃতে ১২০ আই,ইউ পর্যন্ত ভিটামিন এ পাওয়া যায়। এ মাছের কিছু ঔষুধি গুণও আছে। ইলিশ মাছে গড়ে ৫৩.৭ ভাগ পানি, ১৯.৪ ভাগ চর্বি, ২১.৮ ভাগ আমিষ এবং অবশিষ্ট পরিমাণ খনিজ পদার্থ থাকে। ইলিশ হতে প্রায় ৬০% খাবার উপযোগী মাছ পাওয়া যায়। ইলিশের স্বাাদ ও গন্ধ মাছের তৈলের উপর নির্ভরশীল। এর দেহস্থ সুঘ্রাণ এবং ভাজার সময়ও অসাধারণ ঘ্রাণ আশপাশের উল্লেখযোগ্য দূরত্বে ছড়িয়ে পড়ে। ইলিশ নিঃসৃত এ সুগন্ধি পার্থিব অনেক সুগন্ধিকে হার মানায়। প্রাচীন বাংলা সংস্কৃত সাহিত্য এবং লোকজ সংস্কৃতিতে ইলিশ মাছের স্বাদ খাওয়ার পদ্ধতি এবং সংরক্ষণের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য দিক-নিদের্শনা পাওয়া যায়। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ইলশে গুড়ি কবিতা এখনো আমাদেরকে আলোড়িত করে। প্রাচীন কালের লোকজনের বিশ্বাস ছিল যে আশ্বিন- কার্তিক মাসের দূর্গা পুঁজার দশমীর দিন হতে মাঘ-ফাল্গুন মানের শ্রী পঞ্চমী পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা এবং খাওয়া বন্ধ রাখা হলে এ মাছ বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে প্রায় সারা বছর কম-বেশী ইলিশ মাছ ধরা পড়ে। তবে ইলিশ মাছ ধরার প্রধান মৌসুম হচ্ছে প্রতিবছর আগষ্ট হতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। এ তিন মাসে গড়ে প্রায় ৬০% ইলিশ মাছ ধরা পড়ে। প্রায় সারা বছর কম-বেশী প্রজনন করে থাকলেও সেপ্টেম্বও-অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ প্রজনন করে থাকে ইলিশ মাছ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের ভরাপূর্ণিমা ও আমাবস্যার জোয়ারের সময় পরিপক্ক ও ডিম পূর্ণ মা-ইলিশ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে প্রজনন এলাকায় প্রবেশ করে থাকে। ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে এসময় মা-মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। ইলিশ মাছের কৌটজাতকরণ বা ক্যানিংয়ের ফলাফল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর নদীকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভাবে উচ্চ চাপ এবং তাপপ্রয়োগে এ মাছকে কাটামুক্ত করে সফল ভাবে কৌটজাত করা হয়েছে। উক্ত কৌটজাতরকণ পদ্ধতি বাণিজ্যিক ভাবে প্রচলন করা সম্ভব হলে কৌটজাত মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশি মূদ্রা আয়ের পথ সুগম হবে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইত্যাদি দেশে ইলিশ মাছের লবণাক্ত ডিমের ব্যাপক চাহিদা এবং উচ্চ বাজার মূল্য রয়েছে (প্রতি কেজি ৮০-৯০ আমেরিকান ডলার)। আমাদের দেশ হতে কিছু পরিমাণ ইলিশ মালয়েশিয়াতে রপ্তানি হলেও লবণাক্ত ডিম রপ্তানি হয় না। ইলিশ মাছের লবণাক্ত ডিম প্রস্তুত করে রপ্তানি করা হলে অধিক পরিমাণে বৈদেশিক মূদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে রপ্তানির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বিক ভাবে সকল স্তরের জনসাধারণ ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে আরো আগ্রহী হবে। ================= লেখক- আতিকুর রহমান মানিক, (সংবাদকর্মী এবং মৎস্য ও চিংড়ি চাষ বিষয়ক পরামর্শক) মোবাইল- ০১৮১৮-০০০২২০

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT