হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়

ইয়াবা আক্রান্ত মিডিয়া!

yaba-পরিবর্তন:: ইয়াবা। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি অভিশপ্ত নাম। আমাদের দেশে মাদক সম্রাজ্যে যে কয়টি কয়টি মাদকের চূড়ান্ত রকম ব্যবহার হচ্ছে তার মধ্যে ইয়াবা অন্যতম। এই মরন নেশা খুব সহজেই পৌছে গেছে বিভিন্ন সেক্টরের দ্বারে দ্বারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মিডিয়া ভুবন সবখানেই এর প্রসার হয়েছে সমান তালে।

গত ৬/৭ বছরে দেশে ইয়াবার বিস্তার ঘটেছে মহামারি আকারে। আর এর সাথে জড়িয়ে পরেছেন সাধারন মানুষের চোখে অনন্য হয়ে থাকা রঙ্গিন ভুবনের (মিডিয়া) মানুষেরাও। ইয়াবা সেবন থেকে শুরু করা তা আমদানী ও ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন এই মিডিয়ার মানুষগুলোও। কেউ কেউ শুধু মাত্র ইয়াবায় আসক্ত হলেও অনেকে আবার এই অবৈধ-অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছেন।

মিডিয়ায় ইয়াবা ব্যবসা এবং এটি আমদানীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে উঠতি মডেল-নায়িকারা। অন্যদিকে ইয়াবা সেবনের ক্ষেত্রে অনেক সিনিয়র শিল্পী থেকে শুরু করে ট্যাকনিক্যাল ক্রু’রাও রয়েছেন। অনেকে আবার একে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ পরিশ্রমে সহায়ক ফতেয়া দিয়ে অনায়াসে সেবন করে যাচ্ছে।

ইয়াবার চালানসহ বেশ কয়েকবার কয়েকজন মডেল ও নায়িকাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তখন মিডিয়ায় ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে অনেক তারকারই নাম উঠে আসে। অনুসন্ধানে আরো বেরিয়ে আসে পর্দার সমানের এই তারকাদের পাশাপাশি পেছনের কারিগররাও অনেকেই ইয়াবাসেবী হিসেবে নাম লেখিয়ে ফেলেছেন।

বছর দু’আগেই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন চলচিত্র নায়িকা সিলভিয়া।

তিনি জানান, চলচ্চিত্র জগতের ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের নাম। গ্রেপ্তার হওয়া আরেক মডেল পায়েল জানিয়েছিলেন, ছোট ও বড় পর্দার অনেক জনপ্রিয় তারকাদের নাম। এসময় আরো বেশ কয়েকজন নায়িকা ও মডেল জানান, মিডিয়ায় ইয়াবার প্রসার সম্পর্কে। তখন মিডিয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসায় অনেকেই নিজেদের নাম বাঁচাতে নানান কৌশল নিয়েছিলেন। এসময় মিডিয়া পাড়ায় ইয়াবা চক্রের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়লেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ইয়াবা সেবনের সাথে শুধু মডেল অভিনেতা অভিনেত্রীরাও জড়িত নন এর সাথে সমান দাপটে ইয়াবা সেবন করে যাচ্ছে ক্যামেরাম্যান, ভিডিও এডিটর। এমনকি কোন কোন পরিচালকও এদের সাথে তাল মেলাচ্ছেন।

এক সন্তানের জনক হওয়ার পর ইয়াবা সেবন ছেড়ে দেন একটি প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের ভিডিও এডিটর আরিফ (ছদ্মনাম)।

তিনি দীর্ঘ ৪ বছর ইয়াবা সেবন করে অবশেষে চিকিৎসা নিয়ে এ মরন নেশার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করেন।

তিনি জানান, প্রথমে রাত জেগে কাজ করার জন্য ইয়াবা সেবন করতেন। তারপর নিয়মিত এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি জানান, অফিস ডিউটির বাইরে আলাদাভাবে নাটকসহ অন্যান্য কাজ করতাম। এতে একপর্যায়ে টানা ৩-৪ দিন জেগে থাকতাম ইয়াবা সেবন করে।

একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ভিডিও এডিটর জানালেন, বাড়তি কাজ নিলেই তিনি ইয়াবা সেবন করতেন। এক পর্যায়ে এমন হলো যে, ইয়াবা ছাড়া কোন কাজ করতে পারতেন না।

আরেক ক্যামেরাম্যান জানালেন, তিনিও এই মিডিয়ায় পা দিয়ে ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এক সময় দিনে ৩-৪টি ইয়াবা সেবন করতেন। তার কাছ থেকেই জানা গেলো, মিডিয়ার অনেকেই শুধু টানা শুটিং করায় ক্লান্তি কাটানোর দোহাই দিয়ে ইয়াবা সেবন করে যাচ্ছেন গোপনে।

ইয়াবা ভাইরাস দিন দিন মিডিয়া অঙ্গনকেও কলুষিত করে চলছে। অনেকেই ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে ক্যারিয়ার ধংস করেছেন। কারো কারো এই গ্ল্যামার জগত ছেড়ে দিয়ে মাদসক্তি পূর্নবাসন কেন্দ্রেই কাটাতে হচ্ছে মাসের পর মাস।