টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

আল-কুদস অবারিত হোক মুসলমানদের জন্য

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩
  • ৩০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মাওলানা রিদওয়ানুল কাদির উখিয়াভী…. বরকতপূর্ণ রমজানের বিদায়ী জুমা আজ। ফজীলত, মর্যাদা ও পুণ্যবিভায় অনন্য আজকের এই দিনটি। জুমাবার দিনটি এমনিতেই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।  বিদায়ী জুমা হিসেবে জুমাতুল বিদার মর্যাদা ও ফজীলত, আরও বেশী। রমজান মাসের সর্বোত্তম রাত হলো লাইলাতুল কদর, আর সর্বোত্তম দিন হলো জুমাতুল বিদা। জুমার নামাজ আদায়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের দিকে আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যটি তোমরা উপলব্ধি কর।(সূরা জুমুআ) জুমাবারের ফজিলত সর্ম্পকে: রাসুল সা. বলেন, সূর্যোদয়ের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট দিন জুমার দিন। এই দিনে হজরত আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে বেহেশতে প্রবিষ্ট করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর কেয়ামত সংঘটিত হবে এই জুমাবাবেই । (সহীহ মুসলিম শরীফ) অন্য একটি হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান বান্দা যে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম ) ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সে মুহূর্তটি আসরের নামাজ থেকে মাগরিবের মাঝামাঝি কোনো সময়। এ ছাড়া দুই খোতবার মাঝামাঝি সময়টিও দোআ কবুলের বিশেষ মুহূর্ত বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে।  মহান আল্লাহর আদেশ মতে, জুমার দিন প্রত্যেক বালেগ মুসলমানের উপর জুমার নামাজে শরীক হওয়া ওয়াজিব, যদি সে এমন জনপদে বসবাস করে, যেখানে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। আর অবহেলায় জুমা পরিত্যাগকারী  সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠোর হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারিত হয়েছে।-  রাসুল আকরাম সা. বলেন, যে ব্যক্তি অবহেলা করে পরপর তিনটি জুমা বর্জন করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর এঁটে দেবেন। (আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী শরীফ) এই হলো স্বাভাবিক জুমাবারের মর্যাদা। আর জুমাতুল বিদার তাৎপর্য ও মাহাত্ম সর্বাধিক। এদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য অতিমূল্যবান। এদিন মাহে রমজান শেষ হয়ে যাওয়ার সতর্কতামূলক দিবস। জুমাতুল বিদা রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মাহে রমজানের সমাপনান্তে এ বছর  এর চেয়ে ভালো দিবস আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং পুণ্যময় এদিনটির যথাযথ সদ্ব্যবহার করা অপরিহার্য, কর্তব্য। জুমাতুল বিদার পবিত্র এই দিনে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে নিজ অতীত জীবনের গুনাহখাতা ক্ষমা করিয়ে নিতে হবে। নবী করীম সা. বলেন,  হতভাগা ঐ ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেল, কিন্তু সারা বছরের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নিতে পারল না। জুমাতুল বিদার অনন্যতা এখানেই যে, জুমা, রোজা, তারাবীসহ এমন একটি  কল্যাণপূর্ণ জুমাবার পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক বছর। জুমাতুল বিদা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইবাদত-বন্দেগীর দিন। আজকের এই একটি জুমাবারের ইবাদত-বন্দেগী বছরের অন্য যে কোনে জুমাবারের তুলনায় সত্তরগুণ বেশী মর্যাদার অধিকারী। জুমাতুল বিদার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচেছ, এদিন বিশ্ব আল-কুদস দিবস। রমজান মাসের শেষ জুমাবার হযরত সুলায়মান আ. জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মহান আল্লাহর মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুননির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা মসজিদ আল-আকসা। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর পর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হচেছ, বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদে আকসা। জেরুজালেম নগরী বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান। সব ধর্ম-বর্ণ জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ একে শ্রদ্ধা করে থাকেন। একটি হাদীস শরীফে রাসুল করীম সা.ইরশাদ করেন, বায়তুল মোকাদ্দাসে এক রাকাত নামাজ পড়লে পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের সওয়াব হয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, মুসলমানরা আজ সেই সওয়াব থেকে বঞ্চিত। বায়তুল মোকাদ্দাসে আজ মুসলমানদের বিচরণ নিষিদ্ধ। নিজেদের পবিত্রস্থানে তারা আজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফিলিস্তিনীদের জন্য পর্যন্ত সেখানে যাওয়া নিয়ন্ত্রিত। অভিশপ্ত ইহুদীরা জবরদখল করে আছে সেই স্থানটির।হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত এ নগরীতে আজ মুসলমানরাই নিগৃহীত। অথচ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে উড়ে এসে জুড়ে বসা ইহুদীরা সেখানে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্তৃত্ব। শুধুই ফিলিস্তিনবাসীর জন্যই নয়, সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের জন্য এটি খুবই দুভাগ্যজনক ট্রাজেডি। আজ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদীদের সূক্ষèচালের কারণে ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আজ তাকিয়ে  আছে ফিলিস্তিনের দিকে, কবে যুক্ত হবে তাদের প্রথম কিবলা, আল-কুদস। কবে মুসলমানরা আবার তাদের পুণ্যময় বায়তুল মোকাদ্দিসে স্বাধীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করতে পারবে। মুসলমানদের সেই আশা পূরণের আপাতত কোনো ঝলক দেখতে পাওয়া না গেলেও নিরাশার কোনো কারণ নেই। হয়ত অচিরেই মুসলমানদের মধ্যে জন্ম হবে ইতিহাসখ্যাত সমরবিদ, আরেক সালাহউদ্দীন আইউবীর। যিনি আবার মুসলমানদের সেই পুণ্যভূমি ফিরিযে দিবে তাদেরই হাতে। সেই আশা আমরা করতেই পারি। কারণ, আমাদের জন্যই তো অবতীর্ণ হয়েছে সাত আসমান থেকে এই প্রতিশ্র“তি, তোমরা ভেঙ্গে পড়োনা, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়োনা, তোমরাই একদিন বিজয়ী হবে, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক। (আল কুরআন ) আমরা আজ এই পবিত্র জুমাতুল বিদার দিনে মহান প্রভূর দরবারে মিনতি জানাচ্ছি, তিনি যেন আমাদের প্রথম কেবলা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। আমীন। হাফেজ মাওলানা রিদওয়ানুল কাদির উখিয়াভী বিশিষ্ট ইসলামী কলামিস্ট ও সেক্রেটারী, পালং ইসলামী ছাত্র সংস্থা, বৃহত্তর পালং, কক্সবাজার। মোবা:-০১৮১২৭৬৬৮৯৩ ঊসধরষ:-সফৎরফধিহ১৯৯১@ুধযড়ড়.পড়স ৎরফধিহঁষশধফবৎ@মসধরষ.পড়স

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT