টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আলেমগণের খেদমতে আরজ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩
  • ২১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম ###আলেমগণ হলেন সমাজে সর্বাধিক বিশ্বস্ত ও জনসম্পৃক্ত। তাই তাদেরকেই যখন সর্ববিষয়ে দ জনশক্তি ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সমাজকর্মী হিসেবে পাওয়া যাবে তখন দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের অবস্থা অন্যরকম হতে বাধ্য। সে জন্যে ২০১৩ সালে এসে পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে ঈমান ও দেশের স্বার্থে আলেম তৈরীর কারখানা বড় বড় কওমী মাদরাসায় আরো কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ে তাখাস্সুস চালু করার আবেদন জানাচ্ছি। যেমনঃ

ক. সকল মাদরাসা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক হওয়াঃ দাওরায়ে হাদীস পাস আলেমগণকে শুধুমাত্র কওমী মাদরাসার শিক হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দাওয়াতী উদ্দেশ্যে সকল সরকারী-বেসরকারী মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক হতে হবে। এ জন্যে আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে চার বছরী তাখাস্সুস বা বিএ অনার্স চালু করা। আরবীতে সর্ট কোর্স ও ডিপ্লোমা কোর্সও চালু করা যায়।

খ. পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মধ্যে ঐক্যের দাওয়াত দেয়াঃ এ জন্যে দাওরা, আলিম ও এইচএসসি পাস সকল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলিম একসাথে হয়ে পরস্পরকে জানতে ও বুঝতে হলে তিন পার্বত্য জেলায় দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে চার বছরী তাখাস্সুস বা বিএ অনার্স চালু করা।

গ. একই সাথে মুফতী ও ম্যাজিস্ট্রেট হওয়াঃ দেশ শাসন ও ন্যায়বিচারকারী যোগ্য লোক সৃষ্টির ল্েয একই সাথে ইফতা ও এলএলবি পড়া দরকার। আকাঈদ, ইবাদাত, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত, কাযায়াত, উকূবাত, সিয়াসাত ইত্যাদি বিষয়ে দতা অর্জনকারী মুফতী, এডভোকেট, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনের শিক, যোগ্য নেতা ইত্যাদি হতে হলে চার বছরী তাখাস্সুস আবশ্যক। যারা দাওরায়ে হাদীসের সাথে আলীম পাস হবে তারা মুফতী ও এডভোকেট একই সাথে হতে পারবে। আর যারা যে কোন একটি নিয়ে আসবে তারা একটিই হবে।

ঘ. দারিদ্র ও সুদমুক্ত বাংলাদেশ গড়াঃ এ ল্েয মাদরাসায় চার বছরী “বিবিএ” চালু করা। তাতে দাওরা পাস আলেমগণ “কিতাবুল বুয়ো” বাস্তবায়ন করতে পারবেন এবং আলিম ও এইচএসসি পাসরা “হাফীজুন আলীম” হতে পারবে ইনশাআল্লাহ। ফলে “জাকাত ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা করাও সহজ হবে।

ঙ. বেকারত্বমুক্ত বিশ্বকর্মী ভান্ডার তৈরী করাঃ বর্তমানে এক দিকে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, অন্যদিকে বিদেশগামীরা হলেন হয়ত নিম্ন বেতনের লেবার, নতুবা অনুগ্রহ সন্ধানী, নতুবা চিরতরে দেশত্যাগী, যার কোনটাই দেশের জন্যে সম্মানজনক নয়। এ সকল সমস্যা সমাধানের ল্েয প্রত্যেক কওমী মাদরাসায় কম্পিউটার সায়েন্স বা ইনফরমেশন সায়েন্সে চার বছরী ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করলে তা হবে দাওরায়ে হাদীস পাসদের জন্যে তাখাস্সুস বা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আলিম ও এইচএসসি পাসদের জন্যে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। এ ছাড়াও ডিপ্লোমা কোর্স, সর্ট কোর্স, রিফ্রেস কোর্স, সফটওয়ার কোর্স, হার্ডওয়ার কোর্স ও রিফেয়ার কোর্স ইত্যাদি চালু করা যায়। তা হলে এলাকার কেউ বেকার থাকবে না, দেশ হবে বিশ্বের চাহিদা পূরণকারী দ জনশক্তি রপ্তানীকারক শ্রম ভান্ডার। বিদেশী ভাষা জানা দ জনশক্তি রপ্তানী বৃদ্ধির ফলে কী পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আসতে পারে তা সরকার ভাল করেই জানে। তাই কওমী মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত না করেও তাতে সরকার অনেক প্রকার সহযোগিতা করতে পারে।

চ. শিকই হবেন দায়ীঃ ছাত্র-ছাত্রীরা নাস্তিক বা চরিত্রহীন হলে তার জন্যে প্রধানত দায়ী হলেন শিকরাই। তাই শিকগণকেই বানাতে হবে দা’য়ী ইলাল্লাহ বা সৎ পথের আহবানকারী। এ ল্েয শিকদের জন্যে এক বছরের এবং শিকদের প্রশিক হওয়ার জন্যে চার বছরের এডুকেশন কোর্স চালু করা দরকার। যা কারো জন্যে তাখাস্সুস বা ডিপ্লোমা, কারো জন্যে বিএ পাস ও কারো জন্যে বিএ অনার্স হিসেবে গণ্য হবে।

ছ. বিশ্ববাসীকে বিশ্বভাষায় দাওয়াত দেয়াঃ এ ল্েয চার বছরী ইংলিশ কোর্স চালু করা। যা কারো জন্যে বিএ অনার্স এবং কারো জন্যে তাখাস্সুস বা ডিপ্লোমা হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া সর্টকোর্সও চালু করা যায়। তাতে ইংরেজী শিকের ঘাটটিও পূরণ হবে এবং পরীায় ফেলের হারও কমবে।

দাওরায়ে হাদীস সমাপ্তকারী আলেমগণ নিজ যোগ্যতা ও দতা বৃদ্ধি করতে প্রত্যেক বড় মাদরাসায় উক্ত যে কোন একটি প্রোগ্রাম চালু করা দরকার। যেহেতু দ্বাদশ শ্রেণীর পর মান দিলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই দিতে হয় এবং বর্তমানে দাওরায়ে হাদীস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে বিএ অনার্সে ভর্তির সুযোগ আছে, তাই প্রাপ্ত আংশিক সুযোগকে কাজে লাগানো দরকার। এ েেত্র কওমী মাদরাসা শিা বোর্ড ও জামিয়া দারুল ইহ্সান পারস্পরিক সহযোগী ও পরিপূরক হতে পারে। তা হলে উভয়েই যৌথভাবে সকল চক্রান্ত, অপপ্রচার ও যাবতীয় সমস্যা মোকাবেলা করে দেশ-বিদেশে শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয়ও শাখা-প্রশাখা পরিচালনা করে থাকে। তম্মধ্যে একমাত্র দারুল ইহ্সানের কাছেই কওমী মাদরাসার সনদ গ্রহণযোগ্য। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে কোন একটি নিকটবর্তী অনুমোদিত ক্যাম্পাসের যে কোন একটি প্রোগ্রামের বার্ষিক একটি করে নতুন ব্যাচের জন্যে কাসরুম ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে যে কোন বড় শিা প্রতিষ্ঠান ভার্সিটির সহযোগী সেন্টার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারে। প্রত্যেক শিা প্রতিষ্ঠান নিজদের ছাত্রদেরকে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে। নিজস্ব কাসের সাথে ভার্সিটির কাস সমন্বয় করবেন নিজেদের মধ্য থেকেই উপযুক্ত কেউ।

বর্তমানে দারুল ইহাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি ক্যাম্পাস আদালত কর্তৃক অনুমোদিত, যার প্রত্যেকটিতে ইউজিসি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে অনুমোদিত সকল প্রোগ্রামে বছরে তিনবার ভর্তিসহ কাস-পরীা সবই চলমান, যার কাসরুমগুলো এক বা একাধিক স্থানে হয়ে থাকে। কোন ক্যাম্পাসে সবগুলো প্রোগ্রাম চালু হলে প্রতিবছর এমএ ছাড়াও শুধুমাত্র বিএ অনার্সের ছাত্র-ছাত্রীর পৃথক নতুন ৪৮টি ব্যাচের জন্যে ৪৮টি নতুন কাসরুম দরকার হবে। সবখানে এতগুলো নতুন কাসরুমের ব্যবস্থা করা কঠিন ও ব্যয়বহুল। তাই প্রত্যেক বিষয়ে প্রতি নতুন ব্যাচের কাসরুম ভাড়াবাসার পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানেও হতে পারে। তখন এক বা একাধিক কাসরুম নিয়ে একটি সেন্টার হয়, যা একটি ভবনের আংশিক বা কাছাকাছি একাধিক ভবন নিয়ে গড়ে উঠে, যেখানে এক বা একাধিক বিষয়ে কাস চলে। এ ভাবে একটি ক্যাম্পাসের অধীনে এক বা একাধিক সেন্টার হতে পারে। তবে একটি ক্যাম্পাসের অধীনে ৫০টি সেন্টার হলেও সবমিলে কোথাও একই প্রোগ্রামে একই সাথে একাধিক ব্যাচ শুরু হবে না। সেন্টার, ক্যাম্পাস ও হেড অফিসের ব্যয় নির্বাহ করে উদৃত্ত্ব অর্থ সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা যায়। ফলে কোন শিা প্রতিষ্ঠানে কোন সেন্টার হলে সে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ণ তরান্নিত হয়। কোন কওমী মাদরাসায় একটি সেমিনার ক থাকলে তা কাসরুম হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ব্যাচ বাড়লে কাসের সময় বা রুম ভিন্ন করতে হয়। কাসরুম বা সেন্টারসমূহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হতে না পারায় আন্দোলন-সংগ্রাম কম হয় বা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা কর্তৃপ বা যে কোন সরকারের জন্যেই নিরাপদ। সর্বোত্তম সেন্টার হচ্ছে যেখানে ছাত্র/ছাত্রী আবাসিক থেকেই লেখাপড়া করতে পারে। সে হিসেবে কওমী মাদরাগুলো লেখাপড়ার জন্যে সর্বাধিক উপযুক্ত। কওমী মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা যেহেতু সনদের চেয়ে যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, তাই দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্যে বেশি উপযুক্ত, যার গ্রহণযোগ্যতা আরব ও পশ্চিমা বিশ্বে প্রশ্নাতীত। তাছাড়া ক্রেডিড ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কোর্স সমাপ্ত করা যায়। কাসসমূহ নিয়ন্ত্রন করবেন সেন্টার সমন্বয়কারী। সেন্টারের প্রচারণা, ভর্তি, পরীা ও রেজাল্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন ক্যাম্পাস সমন্বয়কারী। ক্যাম্পাসের সনদ, আয়-ব্যয় ও আইনী বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবে হেড অফিস। হেড অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন কম্পে ২৯ জন, যাদের প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ১টি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন, যাতে কোন কাজই আমলাতান্ত্রীক জটিলতায় দেরী না হয়। হেড অফিস হচ্ছে সাভার ঢাকা, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডক্টর সৈয়দ আলী আশরাফ (রহঃ) (১৯২৪-১৯৯৮) স্বপরিবারে চির শায়িত আছেন। আল্লাহ সবাইকে ঐক্য ও হেকমতের সাথে কাজ করার তাওফীক দিন, আমীন।

লেখক- সহকারী অধ্যাপক, দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস। প্রাক্তন ছাত্র, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া ও জামিয়া দারুল মা’আরিফ চট্টগ্রাম। ১/৮/১৩

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT