হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদসাহিত্য

আর্তনাদের আর্তনাদ আজ!

মোহাম্মদ ফারুক আজিজ::: আর্তনাদের আর্তনাদ আজ! যে বয়সে শিশুরা ঘুম পাড়ানিয়া গল্প শুনে মায়ের বুকে ঘুমায়, সেই বয়সের রোহিঙা শিশুদের ঘুম আসে না বুকে বুলেট বিঁধবে বলে। যে বয়সে শিশুরা মায়ের হাত ধরে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেই বয়সের রোহিঙা শিশুদের মায়ের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে জবেহ করা হচ্ছে। যে কিশোরেরা মাঠে গিয়ে খেলবে তার বন্ধুদের সাথে অসম্প্রাদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে, সেই রোহিঙা কিশোরেরা আজ বুলেটবিদ্ধ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বন্ধুদের হাতে। এগুলি কোন কল্প গল্প নয়; এগুলি মায়ানমারের মুসলমানদের বাস্তব চিত্র। যেখানে মানবতা বারবার দাফন হয়। যেখানে মুসলমান হত্যাকে বৈধতা দিয়েছে ‘মগ’ সরকার। মায়ানমারের ইতিহাস অধ্যয়নে বাংলা একটি প্রবাদের মমার্থ ভালো করে বুঝে আসে ‘ মগের মুল্লুক’ এর মমার্থ হলো যেখানে নিয়ম বলতে কিছুই থাকে না; যেখানের পরিবেশ গড়ে উঠেছে এক অন্ধকারের গিরিপথ বেয়ে। কারণ এক সময় এই মগেরা খাদ্যের তাড়নায় দস্যুবৃত্তি করতো। নদীপথে এসে বিভিন্ন জায়গায় দস্যুবৃত্তি করা ছিলো তাদের জীবনের মূল কাজ; এমনকি মেঘনা নদীতে পর্যন্ত তারা তারা মাছ ধরার ভান করে দস্যুবৃত্তি করতো। ফলে তাদের কাছে মানবতা শব্দটি অপরিচিত শব্দের মতো বা তাদের কাছে অনুপস্থিতি মূলক শব্দের নাম মানবতা। এই দস্যুরা-ই ডাকাতের মতো করে মায়ানমারের শাসনক্ষমতা হাতে নেই। কারণ একসময় এই আরাকান রাজ্যেও ইসলামের পতাকা উড্ডীন ছিল। এই রাজ্যে ইসলামের প্রভাব এতোটা বেশি ছিলো যে তাদের মুদ্রাতে পর্যন্ত ‘কালেমা’ লেখা ছিলো। এই মুদ্রায় প্রমাণ করে আরকান রাজ্যে মুসলমানের শাসন ছিলো একসময়। এখনো এই মুদ্রা ইউকিপিডিয়াতে বিদ্যমান। কিন্তু মগ বা তাদের সরকার বলে, রোহিঙারা ( ইসলামের অনুসারী) বহিরাগত। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না, সন্তান জন্মদানে সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সরকারের অনুমতি পত্র আবশ্যক। কথাগুলি এমন যে, কোন এক বহিরাগতকে আপনি করুণা করে নিজের ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন। একসময় বড় হয়ে তারা-ই আপনাকে আপনার ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে: এটা আমাদের ঘর; ঠিক যে রকম ঘটেছিলো ফিলিস্তিনিদের সাথে। মূলত এই হত্যাযজ্ঞ ইসলামের বিরুদ্ধে, মানবতার বিরুদ্ধে; এই হত্যা পশু কতৃক মানব হত্যা, এই হত্যা পশুত্বের দংশন মনুষ্যত্বের মগজে। এই হত্যা তাগুত কতৃক মজলুমের প্রতি। এই হত্যা পশুত্বের ছড়াছড়ি মানব সমাজে। এই হত্যাকে যারা প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই সমর্থন করে তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না; তারা পশু। এই হত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা মানবতার পক্ষে আওয়াজ তোলার নাম। যদি এই রকম হত্যা চলতেই থাকে তাহলে এই মানব সভ্যতা খুব বেশিদিন টিকে থাকবে এই ধরণীতে। হয়তো কিছুদিন পর এই পৃথিবীতে মানুষের চেহারায় পশু ছাড়া আর কোন জীবের অস্থিত্ব খুঁজেও পাওয়া যাবে না। এই হত্যার নৈপথ্যে আমরা সেই দেশের অভ্যান্তরের কর্মকান্ড বলে নিজেকে বাঁচানোর অপপ্রয়াস চালানো মূলত ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ মানবতা দেশের সীমান্ত বা কাঁটাতারের সাথে সম্পৃক্ত নিয়; বরং মানবতা বিবেকের চত্বরে বসবাস করা সবুজ গোলাপের নাম। মানবতা দেশের কাঁটাতারের স্বার্থের নাম নয়; বরং মানবতা সমগ্র পৃথিবীতে শান্তি কামনার বাস্তব পদক্ষেপের নাম। মানবতা অমুসলিমদের প্রতি প্রেম প্রেম খেলার অবৈধ সন্তানের নাম নয়; বরং মানবতা জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সত্যিকারের প্রেম জাগানোর নাম। দেশের কাঁটাতার বা সীমান্ত নতুবা একেকটি দেশ এগুলি মানুষের প্রয়োজনে মানুষের সৃষ্টি। যে দেশে মানবতার মৃত্যু ঘটে সেই দেশে স্বাধীনতা চাওয়ায় যুক্তিযুক্ত বরং অন্যদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু উচিত নয়; কর্তব্য। কারণ কোন দেশ যদি সেই দেশে মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম না হয়, তখন স্বাধীনতার প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই জন্যে-ই ইসলামের জিহাদনীতি। জিহাদ হলো মানবতার পক্ষে এক দূরন্ত মশাল, জিহাদ হলো মজলুমের পক্ষে এক দূর্বার প্রতিরোধ। বাংলাদেশের কিছু কিছু পত্রিকা ‘রোহিঙা’ মজলুমদেরকে সন্ত্রাস আখ্যায়িত করে খবর প্রচার করছে আর আসল সন্ত্রাসকে সন্ত্রাসের প্রতিরোধক বাহিনী বলে পানি ঘোলাও করার অপচেষ্টায় মত্ত। এই পত্রিকাগুলি জনপ্রিয়তার দোহায় দিয়ে আগুনের ফুলকি ছড়ায় সমাজে। এই গুলির নাম পত্রিকা হতে পারে না; এইগুলির নাম ‘আগুনের পাতা’ [এই আগুনের পাতা হতে দুরত্ব বজায় রেখে চলা আমাদের কর্তব্য] এগুলি সমাজে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার নামে আঁধারের বিস্তার ঘটায়। আমরা মুসলমান নামধারী মানবতার কাণ্ডারিরা এই হত্যাযজ্ঞকে একটি দেশের অভ্যান্তরের গোলযোগ বলে শেষ করে দিচ্ছি কথার কথায়। যখন নিজের দেশে বা অন্যদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি সামান্য আঘাত আসে, তখন আমাদের অন্ডকোষে জ্বালা সৃষ্টি হয়। কিন্তু স্বজাতি যদি রক্তের সাগরেও ডুবে হাবুডুবু খায় তখনো আমাদের মানবতার অন্ডকোষ একটু উথলে উঠে না। কারণ আমাদের মানবতার অন্ডকোষের চাবি ইহুদি-নাসারাদের হাতে, ইসলাম বিদ্বেষীদের হাতে। তাদের দ্বারায় আমরা নিয়ন্ত্রিত। তাদের নিয়ন্ত্রন বা গোলামীকে আমরা স্বাধীনতা বলি। যা হোক, আজ আরকান একটি রক্তের সাগরে পরিণত হয়েছে। আরকানের মুসলিম শিশুরা আজ এতো বেশি অসহায় যে যা প্রকাশে ভাষা থমকে যাবে। আজ আরকানের মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম এতো-ই সস্তা করে ফেলেছে যে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে কুপিয়ে হত্যা করে নৃত্য উল্লাসে মত্ত ‘মগ’ সরকার। শুধু এইটুকু চিন্তা করলে তো হয়, এই হত্যাযজ্ঞ যদি আমার ঘরের উপর হয়, তখন কী করতাম আমি?! তখন কী করার ছিলো আমার?! এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে আমার উপর তো আসছে তা!! সময়ের পট-পরিবর্তনে যখন ইসলাম বিদ্বেষীরা জানবে যে মুসলমানেরা তো একে অপরের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয় না, তখন তাদের মূল মিশন শুরু হবে। তা হবে মুসলিম হত্যা কর; যেখানে পাবে। তখন কিন্তু অস্থিত্ব ঠিকানোর জন্যে আর কাউকে পাওয়া যাবে না। মহান রাব্বুল আলামিন সুরা সাফফাতে কী বলেছেন! “ কী হয়েছে তোমাদের? কেনো তোমরা একে অপরের সাহায্য করছো না?” রচনায়- মোহাম্মদ ফারুক আজিজ ফাযিল- জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম। ছাত্র:- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ০১৮১৪-৮২০৮৩৩

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.