টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হোয়াইক্যং এর ঘটনায় নিহত রুচি শর্মা সুস্থ আছেন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২
  • ১১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেন : হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় হতাহত হওয়া প্রসঙ্গে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর জানান, একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে এই ঘটনায় একজন বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলছি, খবরটি সঠিক নয়। যে বৃদ্ধার কথা বলা হয়েছে, তাঁর নাম রুচি শর্মা। ৭০ বছর বয়সী ওই নারী ভিড়ের মধ্যে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতায় রামুর এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমি অবগত আছি। আমার কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এসেছে। বহিরাগত রোহিঙ্গারা যেন নিরাপত্তা বিঘি্নত না করতে পারে, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ পরিচালিত ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যাতে আমাদের অনুমতি ছাড়া সীমানা লঙ্ঘন করে জনসাধারণের সঙ্গে মিশতে না পারে, এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’বৌদ্ধবিহার ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজারে ৯৩ এবং চট্টগ্রামে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কক্সবাজারে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯৮ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথকভাবে দায়ের করা ১৬ মামলায় আসামি করা হয়েছে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে।
রবিবার গভীর রাতেও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় ২৫ জনকে ধরে থানায় নিয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ১০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ ও উখিয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেন : হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় হতাহত হওয়া প্রসঙ্গে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর জানান, একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে এই ঘটনায় একজন বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলছি, খবরটি সঠিক নয়। যে বৃদ্ধার কথা বলা হয়েছে, তাঁর নাম রুচি শর্মা। ৭০ বছর বয়সী ওই নারী ভিড়ের মধ্যে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতায় রামুর এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমি অবগত আছি। আমার কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এসেছে। বহিরাগত রোহিঙ্গারা যেন নিরাপত্তা বিঘি্নত না করতে পারে, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ পরিচালিত ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যাতে আমাদের অনুমতি ছাড়া সীমানা লঙ্ঘন করে জনসাধারণের সঙ্গে মিশতে না পারে, এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
রামু থানায় পাঁচ মামলা
রামু প্রতিনিধি জানান, রামু থানায় পৃথক পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারটি মামলায় আসামি করা হয়েছে দুই হাজার ব্যক্তিকে। অন্য মামলাটি হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কথিত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
টেকনাফে দুই মামলা, ১৪৪ ধারা
টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, টেকনাফে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট, জাতিগত সংঘাত সৃষ্টি ও পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সম্পাদক নূর আহমদ আনোয়ারীসহ ৭০ জন জ্ঞাতসহ ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের আগুনে বাস্তুচ্যুত পরিবারের প্রধান সাধন মলি্লক গতকাল টেকনাফ থানায় এই মামলা করেন।
এদিকে আরো সহিংস ঘটনা এড়াতে টেকনাফ উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি জানান, জাতিগত সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা ইত্যাদি কারণে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জনকে।
উখিয়ায় চার মামলা, সেনা টহল জোরদার, ১৪৪ ধারা
চট্টগ্রামে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও উখিয়া প্রতিনিধি উখিয়া থেকে জানান, রামুর ঘটনার জের ধরে রবিবার মধ্যরাতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে উখিয়া উপজেলার দুটি বৌদ্ধমন্দির পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আরো পাঁচটি বৌদ্ধমন্দির ও তৎসংলগ্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাঁচটি বসতবাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। হামলা-ভাঙচুরে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। উখিয়া থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এতে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদরে দুই মামলা
কক্সবাজার সদর উপজেলার বৌদ্ধপল্লীতে হামলার ঘটনায় গতকাল সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এতে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে চট্টগ্রামের জিওসি : সহিংস ঘটনার জের ধরে উখিয়ার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সম্প্রীতি অটুট রাখতে দলমতনির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল সাবি্বর।
এদিকে মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার নেপথ্য কারিগররা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ না করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা গ্রামের দিনমজুর দম্পতি সোনা ধন বড়ুয়া ও তাঁর স্ত্রী সনজয়ী বড়ুয়া হতাশার সুরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘এখন আমরা কোথায় যাব? ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। খাবারের চাল, পরনের কাপড়চোপড়- সব কিছু দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।’
পালংখালীতে ভাঙচুর, লুট : গতকাল সন্ধ্যায় পাওয়া খবরে জানা গেছে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের পালংখালী বাজার-সংলগ্ন গয়ালমারা এলাকায় হিন্দুদের ভুবনেশ্বরী মন্দির, পাঁচটি দোকান ও চারটি বসতঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুট করা হয়েছে।
পটিয়ায় চার হাজার লোকের বিরুদ্ধে তিন মামলা : আবদুল হাকিম রানা পটিয়া থেকে জানান, চট্টগ্রামের পটিয়ায় রবিবার বৌদ্ধবিহার ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় সাড়ে চার হাজার লোকের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ সিসি ক্যামরার মাধ্যমে আসামি শনাক্ত করে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে মামলা দায়ের ও আটকের প্রতিবাদে রবিবার রাতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ থানা ঘেরাও করে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ১০ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত লোক আহত হয়। তাদের মধ্যে হাবিলদার আবদুর রহিমকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০০টি গুলি, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। গতকাল ভোরেও উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ফারুকীপাড়ার মধ্যমপাড়া কালীমন্দিরে একদল দুষ্কৃতকারী প্রতিমায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়।
বৌদ্ধবিহার ও মন্দির পাহারা দিচ্ছে স্থানীয় লোকজন : বৌদ্ধবিহার ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রাত জেগে বিহার ও মন্দিরগুলো পাহারা দেয়। ঘটনার উৎপত্তিস্থল কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাখেরা গ্রামসহ পুরো পটিয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড বন্ধ ঘোষণা : বৌদ্ধবিহার ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় দেশের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের উগ্রপন্থী কিছু শ্রমিক সম্পৃক্ত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের পরিচালক কাজী জাফর উল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে আগুন, ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পটিয়া থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে লাখেরা সার্বজনীন রত্নাঙ্কুর বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপানন্দ ভিক্ষু বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ২৫ জনসহ এজাহারনামীয় ৩৭ জন এবং ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল সকালে আদালতে নিলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্য দুই মামলার বাদী পটিয়া থানার এসআই জাকির হোসাইন ও পটিয়া থানার এসআই কামাল উদ্দিন। আসামি করা হয়েছে চার সহস্রাধিক ব্যক্তিকে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাণ্ড! : স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি সংযুক্ত করার রটনাকে পুঁজি করে কোলাগাঁও ও লাখেরা এলাকার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। জামায়াতপন্থী এই ফেডারেশনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখলে রহস্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।
পটিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষু ও সংঘরাজ পূর্ণাচার ভিক্ষু সংসদের সেক্রেটারি সংঘপ্রিয় থেরো জানান, বিহার ভাঙচুরের ঘটনা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ার ঘটনার পরপরই এখানকার বৌদ্ধবিহারগুলো রাত জেগে পাহারা দেওয়া হয়।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোলাগাঁও, লাখেরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। পটিয়া থানার ওসি আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনার ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পাঁচ প্লাটুন পুলিশসহ র‌্যাব সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে>

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT