টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

আরও ডজনখানেক অপেক্ষায়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৬০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

12-rajakar-একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে প্রথমটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। মঙ্গলবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে চূড়ান্ত এ রায় প্রদান করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

এছাড়াও দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ৫টি মামলার রায়। এগুলোর মধ্যে আরো ৪টির আপিল শুনানি শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে। তবে বাকি ১টি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় আপিল করেননি।

অন্যদিকে বিএনপির এক শীর্ষনেতার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। দুই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে বুদ্ধিজীবী হত্যায় অভিযুক্ত ২ জনসহ বিএনপি-জামায়াতের ৬ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক বহিষ্কৃত নেতার (জামায়াতের সাবেক রোকন) মোট ৬ মামলার। আরও ৩ বিএনপি-জামায়াত নেতার মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই।

ট্রাইব্যুনালের ৬ রায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রায় তিন বছর ৭ মাসে ৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় প্রথম ট্রাইব্যুনাল। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গত বছরের ২২ মার্চ গঠিত হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গঠনের পর প্রথম দু’বছর যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচারের গতি শ্লথ থাকলেও গত বছর এ প্রক্রিয়া গতি পায়।

এ পর্যন্ত দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৪ মামলার রায় ট্রাইব্যুনাল-২ আর দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। প্রথম ট্রাইব্যুনালে একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে, যেটির রায় দেওয়া হবে যেকোনো দিন।

ঘোষিত ৬টি রায়ের মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও পলাতক জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসি এবং জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছর ও আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে কাদের মোল্লার মামলায় আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে তাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাঈদীর মামলার মাধ্যমে প্রথম ট্রাইব্যুনাল এবং বাচ্চু রাজাকারের মাধ্যমে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সাঈদীর মামলাটি ছিল ট্রাইব্যুনালের ১ নম্বর মামলা। অন্যদিকে ৫টি মামলা আইন অনুসারে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনক্রমে স্থানান্তরিত হয় ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ।

ট্রাইব্যুনাল-১ ঘোষিত দু’টি রায় দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে গত ১৫ জুলাই ও ২৮ ফেব্রুয়ারি, যে দুই মামলায় যথাক্রমে গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। অন্য ৪টি মামলার মধ্যে ফাঁসির আদেশ দিয়ে গত ১৭ জুলাই মুজাহিদ, ৯ মে কামারুজ্জামান ও ২১ জানুয়ারি বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায় দেন দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল।

এবার পালা সাঈদীর ঘোষিত অন্য ৫টি রায়ের মধ্যে সাঈদী ও গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষই। কামারুজ্জামান ও মুজাহিদ তাদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।

সাঈদীর মামলার আপিল শুনানি মঙ্গলবারই শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যেই উভয়পক্ষের আপিলের সার-সংক্ষেপ জমা পড়েছে আদালতে। অন্য মামলাগুলোর আপিল শুনানি শুরুর দিন ধার্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

সাঈদীর মামলায় প্রমাণিত সব অভিযোগগুলোতে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ আর ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাসের আরজি জানিয়ে আপিল করেছেন আসামিপক্ষ। একইভাবে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে গোলাম আযমের ফাঁসির আরজি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ এবং   ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ থেকে খালাসের আরজি জানিয়ে আপিল করেছেন তিনি। কামারুজ্জামান ও মুজাহিদ আপিল করেছেন ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাস চেয়ে।

পলাতক জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকার প্রথম থেকেই পলাতক থাকায় আপিল করেননি।

রায়ের অপেক্ষা সাকা চৌধুরীর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে যে কোনো দিন। মামলার শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর গত ১৪ আগস্ট রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।

গত বছরের ৪ এপ্রিল সাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এতে তার বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩টি মানবতাবিরোধী অপরাধের উল্লেখ করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ করে গুডস হিলে নির্যাতন, দেশান্তরে বাধ্য করা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ ঘটনা ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মিলিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ৪১ জন সাক্ষী। আর ৪ জন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে সাকা চৌধুরী নিজেসহ মোট ৪ জন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তার পক্ষে।

২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রত্যুষে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন সাকা চৌধুরী।   বিচার চলছে আরও ৭ জনের দুই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে বিএনপি-জামায়াতের আরও ৪ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক বহিষ্কৃত নেতার (জামায়াতের সাবেক রোকন)। শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যায় অভিযুক্ত ২ জনের বিচারও, যাদেরকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে অভিযুক্ত বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে। আলীমের বিরুদ্ধে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শুরু করেছেন প্রসিকিউশন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। আলীমের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ২ জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে আলীমের পক্ষে মোট ৩ জন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন।   গত বছরের ১১ জুন ৭ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৭টি অভিযোগে আব্দুল আলীমকে অভিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২৩তম সাক্ষীর জেরার দিন ধার্য রয়েছে। নিজামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৮ মে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ এনে বিচার চলছে।

বিচার চলছে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনেরও, যিনি স্বাধীনতার পরে জামায়াতের রোকন ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জামায়াতের রোকন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন। গত ১৬ মে মোবারকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন শেষে ২০ মে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের। এ পর্যন্ত ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ১১তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবেন ২১ জন।

জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধেও চলছে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ। এ পর্যন্ত ১ জন সাক্ষী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

গত ১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। জামায়াতের এই নেতাকে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ ৪ ধরনের ১৩টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার ৫টি, গণহত্যার ৭টি এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ১টি অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে ডা. মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সকল সহযোগী বাহিনীকে নেতৃত্ব দানের কারণে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়েও।

ইউসুফের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার ৬ জন সাক্ষীসহ ৭১ জন সাক্ষী করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের আর একটি বড় অর্জন, ৪২ বছর পরে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার শুরু করতে পারা।

রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন শেষে এ দু’জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৪ জন সাক্ষী। মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেবেন ২৫তম ও শেষ সাক্ষী এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ২৪ জুন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই খুনি আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২।

গত ২৭ মে এ দু’জনকে পলাতক দেখিয়ে তাদের বিচার শুরুর নির্দেশ দেন এ ট্রাইব্যুনাল। আশরাফুজ্জামান ও মাঈনুদ্দীনের পক্ষে মামলা লড়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আব্দুস শুকুর খান ও সালমা হাই টুনিকে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পলাতক আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীন দু’জন অভিযুক্ত হয়েছেন ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ স্বাধীনতার উষালগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক, ৬ জন সাংবাদিক ও ২ জন চিকিৎসকসহ ১৮ জন বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন শেষে হত্যার দায়ে। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’৭৩ এর ৩/২ ধারা মোতাবেক অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও গণহত্যাণ্ড এ ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় মোট ৪৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। মীর কাশেম অভিযুক্ত হয়েছেন হত্যা, আটক, অপহরণ নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও লাশ গুমের মোট ১৪টি অভিযোগে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউশন।    বিচার শুরুর অপেক্ষায় ৩ মামলা

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেওয়া হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। গত ৫ সেপ্টেম্বর ও মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুই কার্যদিবসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে।

খোকন রাজাকারের অনুপস্থিতিতেই তার বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খরচে অ্যাডভোকেট আব্দুস শুকুর খানকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৩ জুন হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, দেশান্তর ও ধর্মান্তরিত করণসহ ১১টি অভিযোগে খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন প্রসিকিউশন। ১৮ জুলাই এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৫০ জন সাক্ষী।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি চলছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি শেষ করেছেন প্রসিকিউশন। অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে আসামিপক্ষের শুনানির দিন বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ধার্য রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধের মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগ। এছাড়া সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিও (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) আনা হয়েছে এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে।

অভিযোগগুলো প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষের ৩৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন ট্রাইব্যুনালে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সুবহানেরও বিচার শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত রোববার ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে সুবহানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন তদন্ত সংস্থা। ওই দিনই তদন্ত সংস্থা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেন। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৮৬ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন।

৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৪৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এ মামলায়।

তদন্তাধীন আরও ৮ মামলা বর্তমানে তদন্ত চলছে আরও ৮ জনের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে আটক হয়ে জামিনে আছেন ১ জন। যেসব আসামির বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলার তদন্ত কাজ চলছে তারা হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাবেক এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার (হবিগঞ্জ), চট্টগ্রামের রাউজানের বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের গিকা চৌধুরী, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, পিরোজপুরের জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, বাগেরহাটের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার, খুলনার আমজাদ মিনার, রাজশাহীর লাহার আলী শাহ ও আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা জামালপুরের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

তাদের মধ্যে আটক হলেও বিশেষ শর্তে জামিনে আছেন সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত বা অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

তদন্তাধীন মামলার আসামি গিয়াসউদ্দিন কাদের গিকা চৌধুরী হলেন সালাহউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই। সাকা চৌধুরী ও মীর কাশেম আলীর ব্যাপারে চট্টগ্রামে তদন্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য গিকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পান তদন্ত সংস্থা। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে তদন্ত সংস্থা গত মার্চে চট্টগ্রামের রাউজান ও সাকা চৌধুরীদের বাড়ি গুডস হিলে যান।

২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল চট্টগ্রামের রাউজানে যান। সে সময় এলাকার লোকজন তদন্ত দলের কাছে সাকা চৌধুরী ও গিকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যার সঙ্গে সাকা চৌধুরীর পাশাপাশি গিকা চৌধুরীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এ ঘটনায় রাউজান থানায় একটি মামলাও হয়েছিল। নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে চিত্তরঞ্জন সিংহের দায়ের করা মামলায় মুসলিম লীগ নেতা সাবেক স্পিকার ফজলুল কাদের ফকা চৌধুরী, তার দুই ছেলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মন্ত্রী খুলনার একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা বাগেরহাটের সিরাজ মাস্টার ও খুলনার রূপসা এলাকার আমজাদ মিনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পান। এরপর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২১ মে বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার ডাকরা গ্রামে কালীমন্দিরে জড়ো হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের তিন-চার হাজার নারী ও পুরুষের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় কিরণ চন্দ্র চক্রবর্তী, বেলা রানী মণ্ডল, মারুময় ব্যানার্জিসহ ছয়-সাত শ’ মানুষ শহীদ হন। একই জেলার কচুয়া থানার মঘিয়া গ্রামে ১৫ জনকে হত্যা ও শাঁখারিকাঠি গ্রামে ৪০ জনকে হত্যার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় একেএম ইউসুফ প্রধান আসামি। তার সহযোগী হিসেবে সিরাজ মাস্টার এসব অপরাধে সম্পৃক্ত ছিলেন।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শান্তি কমিটির সহ সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারও মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় তদন্তে এসে তার সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পেয়েছেন। তিনি মঠবাড়িয়ার সূর্যমণি গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত। এছাড়া মঠবাড়িয়ার মেধাবী ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গণপতি হালদার হত্যা ও উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত তুষখালী গ্রামের ৩৬০টি বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবদুল জব্বার স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সংগঠিত করেন। তার মদদে ও নির্দেশে শান্তি কমিটির নেতা ইস্কান্দার আলী মৃধার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর রাতে মঠবাড়িয়ার সদর ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা গ্রামের মিস্ত্রিবাড়ি ও হালদারবাড়িতে ৬০-৬৫ জন সশস্ত্র রাজাকার হানা দিয়ে ৩৭ জন হিন্দু লোককে ধরে নিয়ে যায়। সাতজনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে বাকি ৩০ জনকে সূর্যমণি বেড়িবাঁধে নিয়ে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে ২৪ জন শহীদ হন। ভাগ্যক্রমে ছয়জন বেঁচে যান।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা জ্ঞানেন্দ্র মিত্র (৬২) বাদী হয়ে আবদুল জব্বার এবং ৬০-৬৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। জামালপুরে আলবদর বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে আশরাফের বিরুদ্ধে। আশরাফ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে ময়মনসিংহ ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। এরপর তিনি জামালপুরে আলবদর বাহিনী গঠন করেন। তার এই আলবদর বাহিনীই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আশরাফের পর কামারুজ্জামান ময়মনসিংহ ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন।

আরও যাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে তারা হলেন খুলনার মো. আমজাদ মিনার ও রাজশাহীর মো. লাহাব আলী শাহ এবং বাগেরহাটের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার। তদন্ত সংস্থা এসব ব্যক্তির ব্যাপারে তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, পাবনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে। ওই সব স্থানের একাধিক গণকবর ও বধ্যভূমির ছবি তোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিতদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তদন্ত শুরু না হওয়া মামলার সংখ্যা এর কয়েকগুণ। দেশের সাতটি বিভাগ থেকে আসা এসব মামলার সংখ্যা মোট পাঁচশ’ ৫৭টি। এসব মামলার আসামির সংখ্যা তিন হাজার একশ’ ৫৫ জন।

চলছে দ্বিতীয় পর্বের বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো থেকে ইতোমধ্যে ছয়টির রায় হয়েছে, একটির রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। ১টি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ বা যুক্তিতর্কের পর্যায়ে আছে। শিগগিরই। যুক্তিতর্কের জন্য ট্রাইব্যুনালও বেশি সময় নষ্ট করতে রাজি নন।

মামলাগুলোর গতি প্রকৃতি দেখে দুই মামলার রায় সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রসিকিউশন। আর সাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে থাকা ১টি মামলার রায় হতে পারে অক্টোবর মাসে। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের আগেই ৯টি মামলার সমন্বয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রথম পর্বের সমাপ্তি হতে পারে।

তবে ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলাসহ ৪ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। তদন্তাধীন আরও ৩টি মামলাও শিগগিরই আদালতে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬টি রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোতে আরও গতি আনতে প্রসিকিউশনও বদ্ধপরিকর। প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বাংলানিউজকে বলেন, ৬টি রায়ের পর ট্রাইব্যুনালে মামলার চাপ অনেকাংশেই কমে গেছে। কাঙ্ক্ষিতভাবে গতি-প্রকৃতি অনুযায়ী বিচারাধীন আরও ৩ মামলার রায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

প্রসিকিউশন জানিয়েছেন, রায় ঘোষিত ৬ মামলা, শেষ হওয়া ১ মামলা ও বিচারাধীন ২ মামলা অর্থাৎ শীর্ষ ৯ যুদ্ধাপরাধীর মামলাগুলোকে প্রথম পর্বের ধরা হয়।

অন্যদিকে বিচার শুরু হওয়া ও বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা এবং তদন্তাধীন অন্য মামলাগুলোকে দ্বিতীয় পর্যায়ের মামলা ধরে সেগুলোতে জোর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৩

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT