টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে কোস্টগার্ড স্টেশনের প্রশাসনিক ভবন অফিসার্স মেস ও নাবিক নিবাস উদ্বোধন টেকনাফে সার্জিক্যাল ডটকম এর পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন রাজারবাগের পীরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার নির্দেশ শাহপরীরদ্বীপ থেকে ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট চাইনিজ সিগারেটসহ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ হাইকোর্টের সেকশন থেকে রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে করা মামলার নথি গায়েব জাওয়াদে উত্তাল সমুদ্র: সেন্টমার্টিনে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ : প্রভাব বাংলাদেশে, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রবালদ্বীপের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালম ইন্তেকাল আজ সোমবার সূর্যগ্রহণ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা ৭ মিনিট পর্যন্ত

‘আমি ওর অপরিচিত আব্বু’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৩৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :::

শের আলি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। কনস্টেবল হিসেবে পুলিশের চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৯৮ সালে। প্রশিক্ষণ শেষে সিএমপিতেই কর্মরত আছেন দীর্ঘদিন থেকে। এর আগে র‌্যাবে ছিলেন আড়াই বছর। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে।

সেখানে মূলত একজন নার্স হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তখন থেকে মানুষের সেবা করাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। যেকোনো মানুষের সেবা করতে পারলে আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন শের আলী। কারো বিপদের কথা শুনলে দৌঁড়ে যান তিনি।

পুলিশ কনস্টেবল শের আলী চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের উত্তর-দক্ষিণ বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটে কর্মরত আছেন। বাড়ি কক্সবাজার জেলার রামুতে।

১১ ডিসেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার পানিরছড়া এলাকায় শের আলীর বাড়ির কাছাকাছি বাস উল্টে নিহত হন চারজন। একই দুর্ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ২৩ জন।

শের আলী পাঁচ বছরের এক শিশুকে বাসের ভেতর থেকে বের করে দ্রুত হাসপাতালে নেন। এসময় শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার কান্নার ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে। সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত হয় শের আলীর এ ভূমিকা। দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে স্থান করে নেন শের আলীর সেই ছবিটি।

বিষয়টি নিয়ে সিএমপির গোয়েন্দা অফিসে কথা হয় শের আলীর সঙ্গে। জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি সেদিনের কথা বর্ণনা করেন।

শের আলী বলেন, বাড়িতে গিয়েছিলাম ছুটিতে। এরপর একটা সড়ক দুর্ঘটনার খবর শুনে ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। যাওয়ার পর দেখি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এর পর শাবল খুন্তি যার কাছে যা ছিল তা দিয়ে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ কেটে যাকে যেভাবে পারছি বের করেছি। দুটি লোককে ধরতে পারছি না টেনেও আনতে পারছিলাম না। আর একটা লোক আর্তনাদ করছিল। তবুও বাসের বডি কেটে কয়েকজনকে বের করে আনতে পেরেছিলাম।

এরপর সেনাবাহিনীর রেকার দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি উপরে উঠিয়ে লোকজনকে বের করে আনি। গাড়িটি একটু উপরে উঠানোর পর ভিতরে প্রবেশ করে দেখি অজ্ঞাতনামা এক নারীর নিথর দেহ পড়ে আছে। তার পাশেই একটি রেকের নিচে চাপা পড়েছিল উম্মে হাবিবা নামের ৬ বছরের একটি কন্যা শিশু।

শের আলী বলেন, তখন তাকে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসি। রাস্তায় সূর্যের আলোতে আসার পর মেয়েটির জ্ঞান ফিরে আসল।

শিশুটি বলে উঠলো, আব্বু পানি খাব। তখন তার বয়সী আমার নিজের একটা মেয়ে আছে তার কথা মনে পড়ে গেল। আবেগ ঠেকাতে না পেরে নিজের অজান্তেই কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিকে নিয়ে দৌড়ালাম অ্যাম্বুলেন্স বা হাসপাতালের দিকে। তখন যে আমি কেঁদেছিলাম তাও আমার মনে নেই।তিনি বলেন, পরে সংবাদ মাধ্যমে আমার সেই কান্নার ছবি দেখে একটু লজ্জাও পেয়েছি। এরপর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসার পর সে মোটামুটি সুস্থ হয়। রাতে আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে যাই। সে সময় ডাক্তার আমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না। পরে আমি পরিচয় দিই যে আমি তার `অপরিচিত আব্বু`। এরপর ডাক্তার ফারজানা আমাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডেও ভিতরে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে মেয়েটির জন্য নগদ ২ হাজার টাকা এবং কিছু কাপড় চোপড় কিনে দেই। সে এখন আমার সঙ্গে সব সময় মোবাইলে কথা বলে। আমাকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে যেতে বলে। আমাকে এখন আংকেল ডাকে।

শের আলী জানান, তবে এখন আমি আনন্দিত যে শিশুটি হাসছে, সুস্থ আছে এবং তার মা বাবার কোলে ফিরে গেছে। আমি তার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। তার কারণে আজকে আমি সারা দেশে আলোচিত হয়েছি।

শিশুটি তার বাবা মাদরাসা শিক্ষক আবুল হোসেনের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহর থেকে টেকনাফ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল বলে জানান শের আলী।আবুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন ভবিষ্যত জীবনে আর কোনো গাড়ীতে চড়ে কোথাও যাব না। মেয়েকে নিয়ে বাড়িতেই থাকবো। শের আলীর কারণে আমার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।

এদিকে, চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠলে সিএমপির কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে শের আলীর জন্য পিপিএম এর সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ ডিসেম্বর তাকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক দেওয়ার জন্য সুপারিশ সম্বলিত চিঠিটি ঢাকায় পাঠানো হয়।

সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার বলেন, শের আলীকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল দেয়ার জন্য সুপারিশ করছি। জানুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে যেন তাকে পিপিএম দেয়া হয় সেই অনুরোধ আমি করব।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT