হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

সাহিত্য

আমাদের সম্পদ আমাদেরই থাকবে?

কালাম আজাদ…. উন্নতি-অবনতির কথা প্রায়ই শুনা যায়। তার হাজারো সমস্যার মধ্যে দারিদ্র, নারী-নির্যাতন, মামলা-মোকদ্দমা , টাউট-বাটপারদের অত্যাচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ‘কুইক রেন্টাল’ এর নামে নানা ধরণের দুর্নীতি, লুটপাট, শেয়ার কেলেঙ্কারীর মাধ্যমে ক্ষুদ্্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি, রেলমন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য ‘সত্তর লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট, মাউসিতে নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ইত্যাদির প্রসঙ্গও মানুষের মুখে মুখে। মিডিয়া তথা খবরের কাগজেও তা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে বহু শতাব্দীর বাংলাদেশ যে তিমিরে ছিলো এখনো সে তিমিরেই রয়ে গেছে। আধুনিক সভ্যতার কোনো আলোড়ন এবং গতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি এখনো। সে যেন স্থবির অচলায়তনে বাঁধা। জনগণের সেবক যারা তারাতো অন্ধ অচলায়তনকে যুগ যুগ ধরে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবঙ করবেনই। আর যারা ওই সব অচলায়তনে বন্দী তাদের জন্য দু:খ হয়, তারা কি চিরদিন সাম্রাজ্যবাদের দালালী কিংবা অশুভ শক্তির পদানত হয়ে অন্ধ আনুগত্যকেই ধর্ম ও লৌকিকতার লেবাস পরে দোজাহানের নেকি হাসিল করবে?

অমানবিক কার্যকলাপের সাগরে ডুবে আছে সোনালী স্বপ্নীল বাংলাদেশ। প্রতিকার ও সমাধান যা হয় তা তো সাগরে বিন্দুবৎ। তা হলে প্রশ্ন: স্বাধীনতা লাভের ৪০ বছর পরেও যদি গ্রাম বাংলাকে এবং শহরকে শ্বাপদ সংকুল অরণ্যতুল্য কিংবা বিভীষিকার রাজত্ব প্রায় মনে করা হয় তবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বাঁচবে তো? এবং স্বাধীনতার রক্তস্নাত ইতিহাসের উজান স্রোত ঠেলে যে জাতি সাফল্যের সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলো সে জাতি কি শেষ পর্যন্ত কিছু সংখ্যক সাম্রাজ্যবাদের দালাল ও শঠ- প্রবষ্ণকের খপ্পরে পড়ে আপনার শ্রেষ্ঠ পরিচয় জলাঞ্জলী দেবে?

বাংলাদেশের মানুষ আজ বিপন্ন। একটি ধারা বদলের পালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে- প্রকাশ্যে এবং গোপনে। রাতারাতি ভূঁইফোড় একটি সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে, টাউট ও দালাল শ্রেণীর মানুষ(!) নানাভাবে সম্পদের মালিক হচ্ছে এবং সমাজের প্রতি হুমকির সৃষ্টি করছে। অন্যভাবে সৃষ্টি হচ্ছে সুবিধাবাদীর দল, যারা বুর্জোয়া শ্রেণীর ধনপতি সম্প্রদায়। তাদের অন্তহীন বলয় থেকে আধুনিক বাংলাদেশের আম জনতা বেরোতো পারেনা, তাদের দানবিক ক্ষুধারও নিবৃত্তি হয় না। তারা যা পেয়েছে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরো কিছু পেতে চায়। তাই তারা বর্তমানে শ্রমিক-কৃষক-ভূমিহীন- সর্বহারা- মেহনতি মানুষ, উৎপাদক ও উদ্যোক্তা শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা না করেই তাদেরকে শোষিত ও বঞ্চিত করে কতিপয় দেশের পরজীবী লুটেরা ধনিক ও বিদেশী লুটেরাদের শ্রেণী স্বার্থে কাজ করে। যার ফলে সমাজে ধনবৈষম্য এক নগ্নরূপ ধারণ করেছে। আর হীনমন্যতা মধ্যবিত্ত যারা তারা তো নীতিহীন, ব্যক্তিহীন, চাটুকার শ্রেণী চরিত্র, অনুযায়ী আরোপিত চরিত্রের অধিকারী। স্বাধীনতা বা আজাদী লাভের পর থেকে একদিকে অন্তহীন ধনের পাহাড়, সুবিধাবাদ, ভোগবাদ, পাপাচার, অপচয়, অপসংস্কৃতি আর অন্যদিকে করুনতম দারিদ্র নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার সংগ্রাম আমরা প্রতিনিয়ত দেখে আসছি। স্বার্থান্ধ মহল, যারা সাম্রাজ্যবাদের নিগড়ে বন্দী দালালের দল, তারা নির্লজ্জভাবে দেশকে, দেশের গৌরবকে বিক্রি করে দেশের শ্রেষ্ট সন্তানদের রক্তে রাঙানো স্বাধীনতার জন্য ন্যাক্কারজনক পরিণতি ডেকে আনছে। বাংলাদেশের সরকারগুলো রাতের অন্ধকারে যেভাবে বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করে থাকে তাতে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয় না। গোপনীয়তা, ছলচাতুরী, অসচ্ছতা দিয়ে একটি দেশকে উন্নত করা সম্ভব নয়। এ ধরণের চুক্তি করেই তিতাস নদীকে হত্যা করে ভারতের পণ্য বাংলাদেশে আনার সুব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে অথচ বিনিময়ে ভারত আমাদেরকে কিছুই দিচ্ছে না। ভারত তাদের সব সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রেখেছে, তাহলে আমরা কিভাবে তাঁদের বন্ধু বলব। লুটেরা আর দখলদারদের হাতে বন্দী সরকারগুলোর এসবের প্রতিবাদ করার সাহস নেই । তাই এ ব্যাপারে জনগণকে সজাগ হতে হবে,  গড়ে তুলতে হবে দুর্বার আন্দোলন।

বর্তমান সরকার শুধুমাত্র কমিশনের টাকা নেয়ার জন্য জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বিদেশী কোম্পানিদের হাতে দেশের খনিজ ও জাতীয় সম্পদগুলো তুলে দিচ্ছে। রপ্তানীমুখী ‘পিএসসি’র মাধ্যমে তৈরী করে সমুদ্রের ২টি গ্যাস ব্লক অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন কোম্পানী ‘কনকো ফিলিপস’কে ইজারা দিয়েছে। মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পতির পর, আরো কয়েকটি ব্লক তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায়। যার কারণে শুধুমাত্র গ্যাস খাতে বাংলাদেশকে প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করা হলে গ্যাস খাতে ভর্তুকি দিতে হতো না। অথচ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারকে এই খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের যে কোম্পানি ২’শ কোটি টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারে একই ধরণের কাজ ২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে করানো হচ্ছে বিদেশী কোম্পানিদের দ্বারা। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর হাতে ২০০ কোটি টাকা দিতে সরকারগুলো গড়িমসি করলেও বিদেশী কোম্পানিদের ২ হাজার কোটি টাকা দিতে তাদের কোন সমস্যা হয় না।

ফুলবাড়িতে জনগণের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বর্তমানে স্থগিত রাখলেও তা নিয়ে ষড়যন্ত্রের শেষ হয়নি এখনো (উত্তোনলকারীরা চাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়ে যেতে-যাতে করে বাংলাদেশকে তাদের পদানত থাকতে হয় সারাজীবন, আর যদি খনন প্রক্রিয়ায় ওই কয়লা উত্তোলন করা হয় তাহলে জমি বাঁচবে- কৃষকরাও উৎপাদনও করতে পারবে-কিন্তু উত্তোলনকারীরা নিজেদের স্বার্থে চায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলন করে গর্ত সৃষ্টি করে জমি চাষাবাদের অনোপযোগী এবং জলাশয়ে পরিণত করতে। সচেতন বাঙালি বেঁচে থাকতে কোন দিনও তা হতে দেবেনা। আমাদের সম্পদ আমাদেরই কাছে থাকবে)

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেলে গ্যাস ক্ষেত্র থাকলেও ভ্রান্ত নীতির কারণে আমরা কক্সবাজারবাসীরা গ্যাস পাচ্ছিনা, পাচ্ছে অন্যরা। আবার কিছুদিন আগে খবরে প্রকাশ, মহেশখালী গ্যাসের টার্মিনাল বসানো হবে। যা থেকে মহেশখালী হয়ে আনোয়ারা হয়ে জাতীয় গ্রেডে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। অথচ মহেশখালী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব মাত্র ১০/১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ দিতে পারছেনা। সব সময় কক্সবাজারের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ করা হয়। এ ব্যাপারে আমাদেরকে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। শুধু কুতুবদিয়া নয়, চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদগুলো রক্ষা করার জন্য তেল, গ্যাস, বন্দর রক্ষা কমিটি আন্দোলন করে যাচ্ছে। অতীতে জাপানের একটি কোম্পানির সাহায্যে মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে চীনের সহায়তায় সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চুক্তি করার আগে তা জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী কিনা তা যাচাই করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যদি সরকার তা না করে দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো ধরনের চুক্তি করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। বিদেশী কোম্পানিগুলো অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশে ব্যবসা করার পর  এসব কোম্পানি নানা ধরণের সংকট তৈরির মাধ্যমে এদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে চলেছে।  শুধুমাত্র তেল আমদানি করার জন্য বাংলাদেশকে ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আর এই টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে জনগণের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে। গ্যাস, কয়লাসহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই খাতে ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করাসহ এই খাতকে লাভজনক করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমরা বিভিন্নভা্েব ব্যাখ্যা করে আসছি। কিন্তু তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড.আনু মুহাম্মদ পিটিবি নিউজ ডটকমের এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে বাংলার গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, খনিজ পদার্থ, কয়লাসহ বিভিন্ন সম্পদ রক্ষা করাকে বুঝিয়েছেন। আমার মতও তাই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হলেই বাংলাদেশ অনেক বড় দায় থেকে মুক্ত হবে। এরপর এটা নিয়ে আর কেউ রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, রাজনৈতিক ইস্যু করে নির্বাচনে জেতার সুযোগ বঞ্চিত হবে, নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্য ইস্যুটিকে জিঁইয়ে রেখে ফায়দা হাসিল করতে না পারাসহ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

গ্রাম বাংলা আজ শ্বশান ক্ষেত্র অথচ ঢাকা শহর নাকি প্রাচ্যের তিলোত্তমা, সৌন্দর্যের অমরাপুরি হতে আর দেরী নেই। জীবনের বিরুদ্ধে জঘন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে এবং কৃত্রিম উপায়ে জীবনের ফানুস রচনা করে সময় ও সভ্যতাকে ধাপ্পা দিয়ে যারা আজকের বাংলাদেশে নতুন নতুন মূল্যবোধ সৃষ্টি করছে তারা কারা? কিন্তু দিন সমাগত হচ্ছেনা কি যখন সময় আপন নিয়মেই অশুভ শক্তিকে চূর্ণ করে তার জাতিপথ নির্র্ণয় করবে মঙ্গলের দিকে, কল্যালের দিকে? কিন্তু যে দেশে একটি সুষ্ঠ শিক্ষানীতি নেই সে দেশের মানুষের কিভাবে গণমুখী ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবে? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক সীমাবদ্ধতাসহ একটি শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। ওই শিক্ষানীতিতে ছাত্র সমাজসহ দেশবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ওই শিক্ষানীতিতে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে আপোষ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বহাল রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নতি করে তা সরকারী খরচ নির্বাহ এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের সিদ্ধান্ত এবং কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের প্রতিবন্ধকতা সত্বেও তা বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু ওই শিক্ষানীতিতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা, একমুখী শিক্ষার প্রবর্তন এবং প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক না কারণে কোন বিধান রাখা হয়নি। আর গ্রামাঞ্চলে ভর্তির হার বাড়লেও ঝরে পড়া শিশুর হার এখনো কমাতে পারেনি। দেশের উচ্চ শিক্ষাকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকীকরণ পণ্যে পরিণত করার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষাকে ধ্বংশ করতে বিশ্বব্যাংক ‘ইউজিসি কৌশলপত্র’ বাস্তবায়নের চেষ্টায়; যার উদ্দেশ্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘বাণিজ্যিক খামারে’ পরিণত করা।

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির বেহাল অবস্থা। ক্ষমতাসীন আ’লীগ এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ আর জাতীয়তাবাদী দলের ছাত্রদল যে দলের সরকার আসে সে দলের ছত্রছায়ায় টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাপাবাজিতে লিপ্ত। ছাত্র ইউনিয়ন , ছাত্র মৈত্রী, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে দেশের সামন্ততন্ত্র, পুঁজিতন্ত্র এবং সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল যত দীর্ঘ এবং যত শক্তিশালীই হোক, দেশ প্রেমের আধারে যৌবনের শক্তি তাকে তুচ্ছ করে গুঁড়িয়ে দিতে পারে একটি শোষণহীন সমাজ তথা টেন্ডারমুক্ত ছাত্র রাজনীতি গড়ে তোলাতে সচেষ্ট। ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্র সমাজ এবং অন্যান্য ডানপন্থী ছাত্ররাজনীতির দলগুলো। অবশ্য ছাত্রশিবির উগ্র মৌলবাদী- সাম্প্রদায়িকতার বিষ্পদাতা এবং যুদ্ধাপরাধীর সংগঠন জামাতের অংগ সংগঠন হিসেবে ইসলামের নামে রাজনীতি করে যাচ্ছে। অনেক সময় ইসলামকে পুঁজি করে অনৈতিক কর্মকান্ডও করে যাচ্ছে। ছাত্র সমাজের এহেন অবস্থায় তাদের নিয়ে আমাদের নেতারা বেশি চিন্তিত। তারা বলে একুশ শতকের এ দশকে এ ক’টা বছর পার হতে দেওয়ায় সমীচীন। তারপরে বিপ্লব টিপ্লব হতেও পারে- অর্থাৎ জ্ঞানের বিপ্লব, কর্মের বিপ্লব, চিন্তর বিপ্লব সবই হতে পারে একযোগে। কিন্তু এ মুহুর্তে বাংলাদেশের সামনে বাস্তবতা যা দেখা যাচ্ছে তা হলো চাটুকারিতা, লোভ-লাভসা, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের আয়োজন চরিতার্থকরণ আর কুসংস্কার ও আত্মশ্লাঘা। আমাদের প্রগতি তো পশ্চাৎমুখী, অশুভ শক্তির খপ্পরে প্রগতি। আমরা কোন্কালে প্রাচুর্যের মধ্যে ছিলাম, কবে জ্ঞানী-গুণিরা দেশ-দুনিয়া (মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া) জয় করে স্বদেশে ফিরেছিলেন, সে সবের বর্ণনা তো কবি কমরেড সত্যেন সেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘ আমরা’ কবিতায় ফলাও করে দিয়েছেন। আর বঙ্গিম চন্দ্র  অবশ্য বাঙালি স্বভাবেরও উল্লেখ করেছেন, তার মন্দ দিক যা, তাও। তবু বঙ্গিম চন্দ্র বাঙালি বলতে হিন্দু বাঙালিকে বুঝতেন। কিন্তু পৃথিবীতে মানুষকে হেয় করার নীতি পাল্টে গেছে। তবু আমরা বলব বাঙালিরা আজো সচেতন হয়েছে। এতকালে বাঙালি কতোদূর এগুলো? একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে সে তার একটি পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে রেখেছিল-তাতে বাঙালির মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু তারপর? এতাদিনে প্রমান হয়েছে আমরা ভুল করে ওই মর্যাদাকে ছুঁয়েছিলাম? অর্থাৎ আমরা যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি পরবর্তীকালে। অসংখ্য স্খলন বাঙালির পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ালো। আমরা বাঙালিরা এগুতে পারলাম না। মহাকাল তার স্বাক্ষী। একুশ শতকের প্রথম দশক পেরিয়ে দ্বিতীয় দশকের ২ বছরের শেষপাদে এসে তো আমরা (বাঙালিা তথা বাংলাদেশের সকল নাগরিক) লজ্জা তামাশা আর ঘৃণা সমগ্র জাতির জন্য জড়ো করেছি। অপরদিকে বাইর থেকে আগত অপসংস্কৃতি এবং শোষণযন্ত্রের বদৌলতে সাম্রাজ্যবাদী জবরদস্তী কম চেপে নেই আমাদের ঘাড়ে। আর আছে আমাদের জাড্য ও জীবনমুখিতা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রশ্নেও আমরা দ্বিধাবিভক্ত হ্যা- না উভয় মানসিকতার সমর্থক-যখন মেটাতে সুবিধা হয়। কখনো বলি, বাঙালিত্ব একটার কথার কথা, আসলে আমাদের এক শ্রেণীর তথা মৌল গ্রোষ্ঠীর উম্পলম্ব জাম্প তথা  মৌলবাদী চক্রের কাছে স্পিরিট হলো ইসলামিক অথচ আমরা তথা উগ্র মৌল-মসুলমানরা( যারা মুসলিম বা ইসলামের প্রকৃত তাৎপর্য না জেনে ফতোয়া জারি করে) প্রতিনিয়ত ইসলাম পরিপন্থী কাজ করে যাচ্ছি। যার জন্য আমাদের লজ্জার সীমা নেই। আবার বাঙালিত্বকে লজ্জা দিয়ে আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের কোনো দেশিয় অপসংস্কৃতি সমুহকে যখন শিরোপা দই তখনো কি আমাদের মুখে চুনকালি পড়েনা? পড়া উচিত নয়?

আমরা মূল্যবোধকে হারিয়ে এলাম কোন পথে? সেখানে কি আমাদের এ আবাল্য স্মৃতির দেশের সূর্যালোক পৌঁছেনা? পাখি গান গায় না? মানুষেরা প্রীতি সহানুভূতির ডোরে একত্রে সমবেত হয়না? পাপ পূন্য নীতি দুর্নীতি ভেদাভেদ লুপ্ত হয়ে কেবলি স্বাধীন বাংলাদেশের মাস্তান সম্প্রদায়ের গুটিকয় কড়চা মাত্র। আমরা পুরাতন মূল্যবোধের নামে দ্বিধাগ্রস্ত কারণ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং নতুনের পরিবর্তনে তার সবটাই ভালো নয়। আমরা নব্য যুগের চেতনায়  উদ্বেলিত, সঠিক নিশানা ও দিশা আমাদের কাম্য। কিন্তু এ নতুনের নামে পুরাতনকে ত্যাজ্য করে হঠাৎ আমদানি করা মূল্যবোধ সমুহকে শিরোপা দিতে আমরা( লেজুড়বৃত্তির গুচের নেতারা) এতই অভ্যস্ত যে ওই সব এখন আমাদের জন্য রীতিমত আশঙ্কার বিষয়। যুগের চাহিদা অনুযায়ী জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারক হিসেবে উপযুক্ত মূল্যবোধ তথা রুচি ও র ীতিনীতি তাতে সৃষ্টি হচ্ছেনা। তাহলে ভ্রান্তি কোথায়? ভ্রান্তি তো উদ্দেশ্যহীনতায়, যুগের অস্থিরতায় এবং জীবনমুখিকতায়। প্রবীণেরা বিচ্ছিন্ন, নবীনেরা যথেচ্ছারী। অথচ নবীনের মুখের পানে এ সমাজ তাকিয়ে আছে, কবে আমাদের নবীন যুবকেরা আকাঙিক্ষত সমাজ গড়বে, উন্নতি ও প্রগতি সৃষ্টি করবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একদার আক্ষেপ ‘ রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করনি’ কখন হবে দূর? আসলে আমরা দূর করতো পারবো- বর্তমানে যে অবস্থা বিদ্যমান তাতে মনে হয় পারবনা। তবু হাল ছাড়লে হবে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম-আন্দোলন করে যেতে হবে। প্রয়োজন আরো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তবু আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একদার আক্ষেপ ‘ রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করনি’ দূর করবই। করতে হলে কি করতে হবে-ঐক্যের মাধ্যমে সমাজ গড়ার মানুষ তৈরী করতে হবে।

সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী শক্তি সামরিক সরকার কর্তৃক সৃষ্ট রাজনৈতিক দলের কাঁধে ক্ষমতার পালাবদল, বিএনপি-জামায়ায়ত জোট সরকারের ৫ বছরের দু:শাসন এবং কথিত ‘ওয়ান ইলেভেন’ তথা মঈন উ আহমেদ- ফখরুদ্দিন- ইয়াজউদ্দিনের সরকারের ২ বছরের যন্ত্রণা, নির্যাতন ও নানা সন্দেহজনক কাজ কর্মে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ পরিবর্তনের আশায় আ’লীগকে জয়যুক্ত করে। কিন্তু বাংলাদেশ যে তিমিরে ছিলো- সে তিমিরেই।  লোক দেখানো কিছুটা উন্নয়ন( তাও ভাগভাটোয়া করে লোপাট করেছে আ’লীগ নেতা নামধারী সমাজের জোঁক শ্রেণীর লোকজন) হলেও দ্রব্যমূল্যের আকাশ চুম্বিতা, সন্ত্রাস, খুন, মৌলবাদী আস্ফালন, ধর্র্মীয় সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন, সর্বস্তরের দুর্নীতি, শাসকগোষ্ঠীর লুটপাট জাতির জীবনকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী তথাকথিত বামরাও আছে। এসব সংকটকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাইছে তারা। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টার করছে তারা। এই চরম মুহুর্তে কমিউনিস্ট-বাম- ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। অতীতেও যেমন কমিউনিস্টরা বামসহ অপরাপর গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক স্বেরাচারী দানবকে উৎখাত করেছে তেমনি এ ক্রান্তিকালেও তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। তার জন্য বাম সংগঠনসমুহ ঐক্যবদ্ধ দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। পাশাপাশি তার জন্য কমিউনিস্টদের গড়ে তুলতে হবে বুকেচ মুক্ত ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক শক্তির গণসংগঠন।

লেখক: কালাম আজাদ, প্রকাশনা সম্পাদক-বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, কক্সবাজার জেলা সংসদ। হাতফোন-০১৮১৪৪৯৫৪৬৬।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.