টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আমরা কি হাফেজদের প্রতি জুলুম করছি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১২
  • ৪৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

তোফায়েল গাজালি
মানব ইতিহাসের সূচনা থেকে আজ অবধি এ পৃথিবীতে কত মহামনীষীর আবির্ভাব হয়েছে, রচিত হয়েছে কত কত গ্রন্থ। কেবল রাব্বুল আলামীন আল্লাহর পক্ষ থেকেই নবীগণ নিয়ে এসেছেন ১০৪টি আসমানি কিতাব। শুধু কোরআন ব্যতীত অন্য কোন গ্রন্থ অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত আছে বলে কোন গ্যারা›িক্ষ কেউ দিতে পারেনি, পারবে না। এটাই আল্লাহর মনোনীত জীবনবিধান, কোরআনের একক বৈশিষ্ট্য। রাসূল সা.-এর শ্রেষ্ঠ মুজেজাসমূহের অন্যতম। সেই রাসূলের যুগ থেকে নিয়ে একদল নিষ্কলুষ,পুত-পবিত্র মানুষ কোরআন সংরক্ষণের কাজে প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্রত রেখেছেন। আমরা তাদের হাফেজে কোরআন নামে চিনি। তাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার ধন আল কোরআন নিয়ে বিশ্বের দরবারে বড়াই করি। একমাত্র আমরাই এমন এক গ্রন্থের অনুসারী যে গ্রন্থের একটি অক্ষরও কারও মনগড়া নয় বরং বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহপাক থেকে নিয়ে জীবরাইল আ. হয়ে ধারাবাহিক সূত্র পরম্পরায় আমাদের পর্যন্ত অবিকৃত হয়ে আসছে। আমাদের এ গর্বের পেছনে যে হাফেজ কোরআন জীবনভর কাঠখড় পোড়ান, তিনি হয়তো আমার পাশের ঘরের বা পাশের বাড়ির কেউ। কখনও কি ভেবেছি এ মানুষটির কথা, যিনি আমার জীবন বিধান কোরআন তথা ঈমান ইসলাম রক্ষার জন্য সারাজীবন পার করে দিলেন আমি তার জন্য কি করেছি। আমার এ সমাজ তথাকথিত নামধারী ৯০ ভাগ মুসলিম রাষ্ট্র কি করেছে তাদের জন্য? এ দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কি না কারিনাদের লালন-পালন করে, হƒষ্টপুষ্ট করা হয়। এ দেশে ছয়-চার মারার জন্য কোটি টাকার বাজেট পাস হয়। এ দেশে খায়রুনের লম্বা মাথার কেশ আর চিরল দাঁতের হাসি দেখার জন্য সবকিছু করা হয়। কিন্তু কোরআনের হাফেজদের জন্য কেউ কিছু করেছে বলে কোন তথ্য কেউ দিতে পারবেন না। কেমন মুসলমানের দেশ আমার বাংলাদেশ? এ দেশে সেরা সুন্দরী পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, সেরা অভিনেতা, সেরা নায়ক আর গায়কদের পুরস্কৃত করা হয়, কিন্তু যে হাফেজে কোরআন খেয়ে না খেয়ে আমি ও আমার জাতিসত্তাকে সংরক্ষণ করে চলছে তার জন্য আমার কী কিছুই করার নেই। তার পরও আমরা এ দেশের সবাই মুসলমান। সবাই কোরআনকে ভালোবাসি তাই রমজান এলে খোঁজ নেই হাফেজে কোরআনদের। রমজানে যে কেবল কোরআনের প্রেমেই আমরা তাদের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে যাই, আমি ঠিক তাই বলছি না বাস্তবতা হল আমরা ঠেকে যাই। তারাবির সালাত আদায়ের জন্য হলেও তাদের একটু খবরদারি করতে হয় আমাদের।
গভীর চিন্তা ও অনুভবের বিষয় এ হাফেজে কোরআনগণ কী সারা বছর খায় না, পরে না? তাদের কী পরিবার পরিজন নেই? তারাবির সালাতের বিনিময় নয় বরং আপনি রমজানে তাদের কত টাকা হাদিয়া দেন? সারা বছর আপনি খান, পরেন আপনার মসজিদের হাফেজদের ও খেতে হয় পরতে আরও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করতে হয়। রোজার পরে আপনি তো ভুল করেও এই লোকটার খবর নেন না। আপনিই বলুন তার খোঁজখবর নেয়া কি আপনার দায়িত্বের মধ্যে নয়! হাতে গোনা হাফেজে কোরআন ব্যতীত অধিকাংশেরই ‘নুন আনতে পান্থা ফুরায়’ অবস্থা। তার পরও এ মহৎ মানুষগুলো প্রতিনিয়ত আপনার আমার ঈমানের সীমানা পাহারা দিচ্ছে, আল্লাহর দ্বীনের হেফাজত করছে, কোরআনের সংরক্ষণে আÍনিয়োগ করে ইসলামের আÍাকে সঞ্জীবিত করছে। এই লোকটি তো কোন দিন আপনাকে মুখ খুলে বলেনি আমাকে তারাবির বিনিময় এত টাকা দিতে হবে। এক মাস তারাবি পড়ানোর পর আপনি তার পকেটে যে টাকা চুকিয়ে দেন তা দেখে সে শুধুই কোরআনের ভালোবাসায় আপনাকে কিছু বলেন না, হয়তো তার আÍা তখন গুমরে কাঁদে। আপনার এ টাকা দিয়ে হয়তো স্ত্রী-সন্তানের ঈদের কেনাকাটা কোন রকম হয়। সারা বছর তিনি কী করবেন?
হাফেজে কোরআনদের প্রতি আমাদের এ আচরণ প্রকৃতপক্ষে কোরআনের অবমাননার নামান্তর। হাফেজে কোরআনরাই তো প্রকৃত কোরআন। মুসলমান হিসেবে আমাদের তো দায়িত্ব হল সবসময় কোরআনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা। ১১ মাস জীবন্ত কোরআনকে পশ্চাতে রেখে আমি আমার মতো করে দিন পার করি। আর রমজান এলেই কোরআনের খোঁজ নেই। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। সবচেয়ে বেশি দুঃখ অনুভূত হয় যখন শুনি কোন কোন আলেম হাদিয়া তুহফার পাহাড়ের ওপর বসে ফতওয়া দিচ্ছেন ‘খতম তারাবির পর হাফেজে কোরআনদের কোন হাদিয়া দেয়া হারাম’। এসব ফতওয়া শুধু যে বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে তা নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে ইসলামেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কালক্ষেপণ না করে ইসলামের স্বার্থেই এসব ফতওয়ার সংশোধন একান্ত আবশ্যক।
হাফেজে কোরআনরা আমাদেরই ভাই বন্ধু বা আত্মীয় স্বজন। তারা কোরআনের হেফাজত করছেন, তা তো আমাদেরই কাজ। তাদের প্রতি আমাদের সবার আরেকটু সহানুভূতি ফিরিয়ে দিতে পারে তাদের ভাগ্য। সম্প্রসারিত হতে পারে কোরআনের শিক্ষা ও সংরক্ষণের পথ-পন্থা। আখেরাতে যা হবে নাজাতের উসিলা। এজন্য আমরা গ্রহণ করতে পারি হাফেজে কোরআরদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ । উদাহরণস্বরূপ চকবাজার শাহী জামে মসজিদের অধীনে রয়েছে ৫০০ পরিবার, প্রতি পরিবার থেকে গড়ে ২ জন করে মুসল্লি হলে ১০০০ মুসল্লি মসজিদে আসেন। এই ১০০ হাজার মুসল্লির প্রতিজন গড়ে ৫০০ টাকা করে দিলে পাঁচ লাখ টাকা হয় । একজন হাফেজে কোরআনকে এক বছর পাঁচ লাখ টাকা দিলে নিশ্চিত বলা যায় পরের বছর এই হাফেজকে আপনার মসজিদ থেকে আর হাদিয়া দেয়ার প্রয়োজন হবে না। তিনি নিজেই পরের বছর ৫০০ টাকা দিয়ে হলেও আরেকজন হাফেজকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করবেন। বাস্তব কথা হল আমাদের এই ঢাকা শহরে অধিকাংশ মসজিদে হাফেজে কোরআনের নাম দিয়ে পাঁচ লাখ নয় এর চেয়ে আনেক বেশি টাকা উঠানো হয়। কিন্তু এই টাকা জোটে না মজলুম হাফেজে কোরআনদের কপালে। মসজিদের ইমাম, খতিব, খাদেমের বেতনসহ আরও অন্যান্য খাতে বণ্টিত হয়ে যায় এ টাকার আনেকটাই। এটা ইনসাফ নয় জুলুম। চরম অবিচার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT