টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

“আমরাও পারি” ॥ এক নীরব বিপ্লবের ইতিকথা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান মানিক :::::কক্সবাজার তথা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় একটি সেক্টরে ঘটে গেছে নিরব এক বিল্পব। বিগত এক দশকব্যাপী নীরবে নিভৃতে সংঘটিত এ বিপ্লব দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এক উজ্জল আগামীর মজবুত ভিত্তি স্থাপন করলেও এখনো তা সবার অগোচরেই রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করার জন্যই এ লেখার অবতারণা। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সম্ভাবনাময় এক জেলা আমাদের কক্সবাজার। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন হওয়া আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্ভাবনার বিকাশ ও প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সাথে সাথে বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি রপ্তানির নতুন নতুন দার উম্মোচিত হতে থাকে দিনের পর দিন। তখনই সত্তর দশকের অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে চিংড়িচাষ ও রপ্তানি শুরু হয়, যার  বেশীর ভাগই লবণাক্ত পানির বাগদা চিংড়ি। তখন সনাতনী পদ্ধতিতে চাষ হলেও আশির দশক থেকে বাংলাদেশে নিবিড় ও আধা নিবিড় বৈজ্ঞানিক চিংড়ি চাষ পদ্ধতির পালা শুরু হয়। তখনও পর্যন্ত প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত চিংড়ি পোনা দিয়েই মূলত চাষ করা হত। স্বাধীনতা পরবর্তী দুই দশকের মধ্যেই বাংলাদেশে উৎপাদিত চিংড়ি বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। হিমায়ীত চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতে থাকে প্রতিবছর। বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে সারা দেশের উপকূলীয় এলাকায় বাগদা চিংড়ি চাষ সম্প্রচারিত হয়। চাষের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে চিংড়ির পোনার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ চাহিদার যোগান দিতে ৯০ দশকে কক্সবাজার কলাতলী, উখিয়া সোনার পাড়া ও টেকনাফের সৈকত এলাকায় শুরু হয় বেসরকারী উদ্যোগে বাণিজ্যিক হ্যাচারী উৎপাদনের পালাক্রম। স্থানীয় উদ্যোক্তারা ছাড়াও দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পগ্রুপ সমূহ এখানে হ্যাচারী স্থাপন করেন। এভাবে ২০০০ সালের মধ্যেই প্রায় ৭০টি হ্যাচারী স্থাপিত হয় ও বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি পোনা উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত মা চিংড়ি থেকে পোনা উৎপাদনের জন্য বিদেশী টেকনেশিয়ানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে হ্যাচারীগুলো। কারণ, নবপ্রতিষ্ঠিত এ শিল্পে  পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি বাংলাদেশীরা জানতনা। আর এ অজ্ঞতাকে পুঁজি করে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হ্যাচারী টেকনিশিয়ানরা  মালিকদেরকে জিম্মি করে পার্সেন্টিজের ভিত্তিতে গলাকাটা মজুরি আদায় করতে থাকে। বিদেশী টেকনিশিয়ানরা হ্যাচারীতে কাজ করার সময় এতই গোপনীয়তা রক্ষা করতো যে, বাঙ্গালী কোন স্টাফতো দূরের কথা এমনকি স্বয়ং মালিককেও হ্যাচারীতে ঢুকতে দিতনা। যদি তাদের কাজ দেখে বাঙ্গালীরা প্রযুক্তি আয়ত্ব করে ফেলে, এ ভয়ে। এরা সময় অথবা মাসিক ভিত্তিতে বেতন নিতনা, বরং মোট উৎপাদন ও বিক্রির উপর নির্দিষ্ট কমিশন হিসেবে মোটা অংকের টাকা আদায় করত। মৌসুম শেষে হ্যাচারীর মালিক পক্ষ যে লভ্যাংশ পেত, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশী টেকনিশিয়ানরা তার চেয়েও আরো বেশী পেত। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চিংড়ি হ্যাচারী খাত বিদেশী টেকনিশিয়ানদের কাছে জিম্মি হয়ে যায় ও শত শত কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যেত এরা। এ অবস্থা চলে দীর্ঘ দিন।  হ্যাচারী শিল্পকে বিদেশীদের টেকনিশিয়ানদের একচেটিয়া আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত দেশী টেকনিশিয়ান সৃষ্টি করতে এ সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশ প্রেমিক কিছু কর্মী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সৎ ও দেশ প্রেমিক কতিপয় কর্মকর্তার ঐক্যান্তিক প্রচেষ্ঠায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রালয় কক্সবাজার মৎস্য অধিদপ্তরস্থ চর পাড়া এডিবি চিংড়ি হ্যাচারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে “বাগদা চিংড়ি পোনা উৎপাদন, হ্যাচারী পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শুরু করা হয়। প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ৫৬ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীগণকে সংলগ্ন ছাত্রাবাসে সার্বক্ষনিক অবস্থানের মাধ্যমে হ্যাচারীতে হাতে-কলমে ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় প্রশিক্ষণে প্রতিষ্ঠিত করে তোলা হয় ও তাদের দারা মানসম্মত পোনা উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও গ্রুপ ডিস্কাসন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক হ্যাচারী পরিদর্শন, হ্যাচারী সেক্টরের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে মতবিনিময়, বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর এসাইনমেন্ট তৈরীসহ   ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে এক এক জন প্রশিক্ষণার্থীকে পূর্ণাঙ্গ টেকনিশিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় কাসে সারা দেশ থেকে মৎস্য অধিদপ্তরীয় বিভিন্ন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন হ্যাচারীর টেকনিশিয়ান ও মালিকরাসহ অপরাপর অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিভিন্ন বিষয়ে  প্রশিক্ষণ প্রদান ও কাস নেন। প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান তৈরীর এ কর্মযজ্ঞ প্রথম পর্যায়ে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চলে। এর পর ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ গুরুত্ব উপলদ্ধি করে আবারও ৫ বছরের জন্য এ প্রকল্প নবায়ন করে। ২য় পর্যায়ে এ প্রকল্প ২০১২ সাল পর্যন্ত চলে। এভাবে ১১ বছরের বিভিন্ন ব্যাচে প্রায় ৪০০ দক্ষ হ্যাচারী টেকনিশিয়ান সৃষ্টি হয়, যারা পরবর্তীতে অত্যন্ত সফলতার সাথে হ্যাচারী পরিচালনা করতে সক্ষম হয় ও বিভিন্ন হ্যাচারীতে এখন এরা কর্মরত আছে। মাত্র ১০ বছর আগেও যেখানে হ্যাচারী খাত বিদেশী টেকনিশিয়ানদের হাতে জিম্মি ছিল, এখন বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখন মাত্র ১০% হ্যাচারীতে বিদেশী টেকনিশিয়ান কর্মরত আছে আর বাকী ৯০% হ্যাচারী বাংলাদেশীরাই পরিচালনা করতেছে। বর্তমানে কক্সবাজার, খুলনা, বাগের হাট ও সাতক্ষিরার শতাধিক হ্যাচারীতে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি চিংড়ি পোনা উৎপাদন হচ্ছে, যার শতকরা ৯০ ভাগই অপারেট করতেছেন বাংলাদেশী টেকনিশিয়ানরা ও সাশ্রয় হচ্ছে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এখন দেশের আভ্যন্তরিন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও চিংড়ি পোনা রপ্তানী করতে সক্ষম বাংলাদেশ। এভাবেই সংঘটিত হয়েছে নিরব এক বিপ্লব। উদ্যোগী কিছু কর্মী ও দেশ প্রেমিক কতিপয় সরকারী কর্মকর্তা দেখিয়ে দিয়েছেন, “আমরাও পারি”। চিংড়ি হ্যাচারী খাতে সংঘটিত এ নিরব বিপ্লব পজিটিভ বাংলাদেশেরই ইজ্ঞিতবাহী নয় কি ? দেশের ব্যবসা-শিল্প-বাণিজ্যের অপরাপর রুগ্ন ও সমস্যা সংকূল বিভিন্ন সেক্টরের জন্য এ প্রকল্পেরু কর্মযজ্ঞ হতে পারে একটি “রুল-মডেল”।

ঈদগাঁওতে ইয়াবার বিশাল চালান নিয়ে লুকোচুরি

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও,কক্সবাজার। মোবাইল- ০১৫৫৮-৪৩৪২২৮, ০১৮৩৫-৪১০১২৫।

ঈদগাঁওতে এবার মসজিদের ঈমামের কক্ষে পাওয়া গেছে ইয়াবার একটি বড় চালান। তবে স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে কতিপয় যুবক বিষয়টি মিমাংশা করে ইয়াবাগুলো গায়েব করে ফেলেছে এবং পুলিশ- সাংবাদিক ভয় দেখিয়ে ঘটনাটি হজম করতে মোটা টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকার ব্যাপক  তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যে  জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাও মেহের ঘোনা ফরেষ্ট অফিসের উত্তর-পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত জামে মসজিদের ঈমাম মৌলানা কলিম উল্লার কক্ষের আলমিরা হতে গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় মেম্বার ও কয়েকজন যুবক ইয়াবার এক চালান আটক করে। এ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোপন বৈঠক চলার এক পর্যায়ে একটি কাগজে বিষয়টি আপোষ মিমাংশা করে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো গায়েব সরিয়ে নিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনের ধারনা প্রায় ৫ লাখ টাকার ইয়াবা হতে পারে। তবে প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। এদিকে ঘটনা সামাল দিতে কতিপয় যুবক পুলিশ ও সাংবাদিক ম্যানেজ করার নামে মৌলানার কাছ হতে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, ওই ঈমামের সাথে এক বার্মাইয়া মৌলানার নিত্য যোগাযোগ রয়েছে। উক্ত বার্মাইয়া মৌলবীকে এলাকায় ইয়াবা মৌলভী হিসেবে চেনে। বার্মাইয়া উক্ত মৌলবীর নেতৃত্বে গোপনে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে ঈমাম কলিম উল্লাহ জানায় এসব ইয়াবা আমার নয়। এগুলো বার্মাইয়া মৌলভীর। স্থানীয় ইউপি মেম্বার সেলিম উল্লাহর সাথে সাংবাদিকেরা মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি নয় কয়েকজন যুবক ঈমামের কক্ষ হতে মাত্র কয়েকটি ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে জানান। স্থানীয় সমাজ সেবক মাষ্টার সোলতান আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত ঈমাম ভাল ওয়াজ নচিহত জানে মর্মে অবগত হয়ে আমরা তাকে মসজিদের ঈমামের চাকুরী দিই। তাকে একটি আলাদা কক্ষও করে দিই। কিন্তু নেপথ্যে এসব ঘটনা আমাদের চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। ঈদগাও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মনজুরুল কাদের ভ’ইয়ার সাথে এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীরা মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানেননা বলে জানান।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT