টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আমদানি কম, দেশি গরুর দাম চড়া

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ৩৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

cow-hat-b আসছে পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে  পশুর হাটগুলো চলতি সপ্তাহ থেকেই জমে উঠতে শুরু করেছে। হাটে আসতে শুরু করেছে গরু-ছাগল। তবে তুলনামূলকভাবে এবার পশু হাটগুলোয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় দেশি গরুরু চাহিদা বেড়েছে।

তাই হাটগুলোতে দেশি গরুর জন্য এবার চড়া দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর রাজশাহী জেলার গেদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি, মহানগরীর সিটি হাট, বানেশ্বর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাইচন্ডী, নওগাঁর চৌবাড়িয়া হাট ঈদের অন্তত একমাস আগে ভারতীয় গরুতে ভরপুর থাকে। আগে থেকেই গরু আসা শুরু হয়। কিন্তু এবারে ঘটছে ব্যতিক্রম।

প্রসঙ্গত, গত এক মাস থেকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু আসার হার একেবারেই কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে হারে গরু আসে এখন তার চেয়েও কম গরু আসছে। ফলে ভারতীয় গরুর আমদানি কমে যাওয়ার সুযোগে খামারের স্বাস্থ্যবান গরু নিয়ে বিক্রেতারা হাটগুলোতে হাজির হচ্ছেন।

ফলে যারা কম দামে কোরবানির গরু কিনতে হাটে যেতেন, তাদের রণ ভঙ্গ। কারণ তাদের একমাত্র ভরসা ছিল ভারতীয় গরু। কিন্তু সীমান্তে সম্প্রতিকালের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের চক্রে কড়াকড়ির চলছে। ভারত থেকে গরু আসাও কমে গেছে। গুলি করে মানুষ হত্যার কারণে ঝুঁকি নিয়ে এখন অনেকেই গরু নিয়ে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তাই এ বছর দেশি গরুর দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি।

এদিকে স্থানীয় খামারিরা হাটে যে গরু তুলছেন তার চড়া দাম হাঁকছেন। ফলে ক্রেতারা গরু কিনতে হাটে গেলেও আপতত ফিরেই আসতে বাধ্য হচ্ছেন। ঈদের দিন এগিয়ে এলে দাম কিছুটা কম হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

তাই দেশি গরুর উপস্থিতি এবং ক্রেতাদের সমাগমে রাজশাহীর পশু হাটগুলো জমে উঠলেও এখনও বেচাকেনা জমেনি। সাধারণ ক্রেতারা একটু দর দাম করেই পছন্দের গরুটি কিনতে চাইছেন।

রাজশাহী মহানগরীর সিটি হাটে কোরবানির গরু কিনতে গিয়ে রানি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জমসেদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, ভারতীয় গরুর মজুদ কম। আর দেশি গরু উঠলেও বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম হাঁকছেন।

প্রসঙ্গত, যে গরু গত বছর ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই আকারের গরু এ বছর ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার ওপরে। ফলে অনেকে হাটে গেলেও দাম শুনে ফিরে আসছেন। ফলে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারেরই কোরবানি দিতে বাড়তি খরচ যোগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

শুধু সাধারণ ক্রেতারাই নন, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারেরা এসেও চড়া দামের কারণে গত কদিন থেকে গরু দেখেই ফিরে যাচ্ছেন। গরুর হাটের ইজারাদারেরা জানান, কোরবানির হাটে এখনও তেমন বেচাকেনা শুরু হয়নি। তবে দেশি গরুতে হাট জমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে পশুর আমদানিও যেমন বাড়বে তেমনি বেচাকেনা চলবে পুরোদমে।

গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ করিডোর এলাকার মোজাম্মেল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি গরু আসে সুলতানগঞ্জ দিয়ে। এ বছর তেমন গরু আসছে না। তারপরেও হাটগুলোতে গরুর কমতি হবে না। কারণ চরাঞ্চলে পালন করা গরুগুলো হাটে তুলছেন খামারিরা।

একই উপজেলার মহিশালবাড়ীর গরু ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা জানান, এবারের দর গতবারের তুলনায় বেশি হলেও খামারিদের খরচের তুলনায় তা কম। তার মতে, গত বছর যে গরুর দাম ছিল ৩০ হাজার টাকা এবার এ ধরনের গরুর বাজারে সম্ভŸ্য দাম উঠবে ৪৮ থেকে ৫৫ হাজার টা  হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু  বলেন, ভারতীয় গরুর আমদানি কম হলেও গতবারের চেয়ে এবার দেশি গরুর চাহিদাই বেশি। খামারিরা প্রতিহাটে গরু নিয়ে হাজির হচ্ছেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নোয়াখালি, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীরা সিটি হাট থেকে গরু নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তবে এবার বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন চড়া। ফলে ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছেন। এরপরেও আসছে শুক্রবারের মধ্যেই পুরোদমে হাট জমে উঠবে। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন হাটের ইজারাদারেরা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT